ভারতের সাথে আমাদের দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠকে বহুবার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও থামছেনা সীমান্ত হত্যা। বিগত তিন দিনে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফের হাতে প্রাণ দিয়েছে সাত বাংলাদেশি।
গত বুধবার রাতে নওগাঁর পোরশায় ভারত সীমান্তে গরু আনতে যান সীমান্ত এলাকার কয়েকজন তরুণ। একপর্যায়ে বিএসএফের ক্যাদারীপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের ওপর গুলি চালায়। এতে নিহত হন পোরশার বিষ্ণুপুরের রজনিত কুমার, দিঘীপাড়া গ্রামের মফিজুল ইসলামসহ কাঁটাপুকুরের কামাল হোসেন।
অন্যদিকে, যশোরের শার্শা সীমান্তে রাখাল হানেফ আলীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার গরু আনতে সীমানা পেরিয়ে ভারতের ঢোকেন তিনি। বিএসএফের বন্যাবাড়ীয়া ক্যাম্পের সদস্যরা আটকে মারধর করলে মৃত্যু হয় তার।
এর আগে, বুধবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার দৈখাওয়া সীমান্তে গরু পারাপারের সময় বিএসএফের টহল দলের গুলিতে নিহত হন সুরুজ মিয়া ও সুরুজ। আর মঙ্গলবার পঞ্চগড়ের মোমিনপাড়া সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে মারা যান গরু ব্যবসায়ী হাসান আলী।
বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে সীমান্ত হত্যা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের যা প্রতিক্রিয়া তা আমরা জানাচ্ছি। বিজিবির মহাপরিচালকের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এর যথাযথ প্রতিবাদ জানানো হবে। প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে যেভাবে প্রতিবাদ জানানো দরকার সেভাবেই এর প্রতিবাদ জানাবো।
সর্বশেষ গত ২৫ থেকে ২৯ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিজিবি-বিএসএফের মহাপরিচালক পর্যায়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে সীমান্ত হত্যা বন্ধে বাংলাদেশকে আশ্বাস দেয় বিএসএফ। এরপরও থামছে না সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা।
আনন্দবাজার/তাঅ









