ব্যাংকখাতে ১৮ শতাংশের বেশি নারী
- পরিচালক বেশি বিদেশি ব্যাংকে
- শীর্ষপদে কম রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে
গত কয়েক দশক ধরে অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে নারী। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তাদের অবদান অনস্বীকার্য। দেশের অন্যান্য সেক্টরের মতো ব্যাংকেও বৃদ্ধি পেয়েছে নারীর কর্মসংস্থান। ফলে এ খাতে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে নারীদের সংখ্যা। তবে যে হারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে সে হারে ব্যাংকের শীর্ষ পদে নারীর উপস্থিতি তেমন একটা বাড়েনি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের লিঙ্গসমতা বিষয়ক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চাকরিরত ব্যাংকারদের মধ্যে ১৮ শতাংশের বেশি নারী। এক সময় এ সংখ্যা ছিলো ১০ শতাংশেরও কম। আশার দিক হলো নারী কর্মীদের চাকরি বদল কিংবা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতাও আগের চেয়ে কমেছে।
গত ডিসেম্বরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, দেশের ব্যাংকগুলোতে জনবলের সংখ্যা এক লাখ ৮৩ হাজার ২০৩। এরমধ্যে পুরুষের সংখ্যা এক লাখ ৫৪ হাজার ৮২৮ জন। আর নারী কর্মীর সংখ্যা ২৮ হাজার ৩৭৮ জন। সে হিসাবে ব্যাংকগুলোতে নারী কর্মী ১৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। অন্যদিকে ব্যাংক বহির্ভূত ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন ১ হাজার ১৫ নারী। সে হিসাবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১৬ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত জুনে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ৫০ হাজার ৫৬৭ জন কর্মীর মধ্যে নারী ছিলেন ৮ হাজার ২৩ জন। বেসরকারি ব্যাংকের এক লাখ ১৯ হাজার ১১৭ কর্মীর মধ্যে ১৮ হাজার ৭২২ জন নারী। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর ১৩ হাজার ৩০৫ কর্মীর মধ্যে ১ হাজার ৮২৮ জন নারী। বিদেশি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ৩ হাজার ৭৯৫ জনের মধ্যে ৯৪০ জন নারী। দেশীয় মালিকানার বেসরকারি ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদের ১৩ শতাংশ এখন নারী। এ দেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি ব্যাংকগুলোয় এ হার ১৬ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এদিকে দেশের ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১৬ শতাংশ কর্মীই এখন নারী।
প্রতিবেদনের তথ্য মতে, ৩০ বছরের কম বয়সি যেসব কর্মী রয়েছেন তাদের মধ্যে ২০ দশমিক ৬২ শতাংশ নারী। ৩০ থেকে ৫০ বছর বয়সি কর্মীদের মধ্যে নারীর হার ১৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ। আর ৫০ বছরের বেশি বয়সিদের মধ্যে এ হার ৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। সূচনা পর্যায়ে ১৫ দশমিক ৯১ শতাংশ, মধ্যবর্তী পর্যায়ে ১৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আর উচ্চ পর্যায়ে রয়েছেন ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। ব্যাংকে কর্মরত মোট নারী কর্মীদের মধ্যে ২০২০ সালের শেষ ছয় মাসে ১২ দশমিক ৪০ শতাংশ চাকরি বদল করেছেন।
প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বর্তমানে ব্যাংক খাতের মোট পরিচালকদের ১২ দশমিক ২০ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নারী পরিচালক রয়েছেন বিদেশি মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে। এসব ব্যাংকের পরিচালকদের ১৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ নারী। বেসরকারি ব্যাংকের ১২ দশমিক ৮৫ শতাংশ পরিচালক নারী। আর রাষ্ট্রীয় ব্যাংকে এ হার ৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।
ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা চালু করা হয়েছে। সব ব্যাংকে এখন ছয় মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি কার্যকর হয়েছে। আবার এই ছুটির কারণে কাউকে পদোন্নতিবঞ্চিত না করতে নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলো মাঝে মধ্যে লৈঙ্গিক সমতা বিষয়ক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে। ব্যাংকগুলোর নেওয়া এসব উদ্যোগের ফলে নারীরা স্বাচ্ছন্দে চাকরি করতে পারছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও সময়ে সময়ে এসব সুবিধার বিষয়ে তদারকি করে থাকে। ফলে ব্যাংকে নারীকর্মীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তা বলেন, ব্যাংকিং খাতে বর্তমানে অনেক নারী শীর্ষ পদে আছে। তবে এ সংখ্যা অনেকটা কম। তবে ভবিষ্যতে এ সংখ্যা বাড়বে। তিনি বলেন, ব্যাংক সেক্টরে নারীদের কর্মসংস্থান বাড়ার সাথে সাথে নারী গ্রাহকের অংশগ্রহণও বাড়ছে। তবে তা তুলনামূলক কম। এ ক্ষেত্রে নারীরা নিজেদের আর্থিক স্বচ্ছলতা বাড়ানোর পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ আরও বাড়াতে হবে। এছাড়া অর্থনৈতিক জ্ঞানের পরিধি বাড়াতে হবে। তাহলেই নারী গ্রাহকদের ব্যাংকিং খাতে অংশগ্রহণ আরও বৃদ্ধি পাবে।









