করোনা মহামারি সংকট-----
- হতাশ সফল উদ্যোক্তা
- করোনায় লোকসান ৬০ লাখ
- টিকে থাকতে প্রয়োজন ব্যাংক ঋণ
ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখতেন উদ্যোক্তা হওয়ার। অভাবের সংসারে হাল ধরতে দীর্ঘদিন ঢাকায় গার্মেন্টসশিল্পে কাজ করার পর ভাগ্যবদলের আশায় ২০০০ সালে প্রবাসে পাড়িজমান গার্মেন্টস শ্রমিক আবু বকর সিদ্দিক।
জর্ডানে ৭ বছর থাকার পর উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। আবারও ছুুটে আসেন প্রিয় মাতৃভূমিতে। দু-চোখে স্বপ্ন আর বুকভরা আশা নিয়ে ২০০৮ সালে ২০ শতাংশ জমির উপর প্রতিষ্ঠা করেন স্টুডেন্ট কেয়ার গার্মেন্টস।
সফল উদ্যোক্তা সিদ্দিক মাত্র ৫০ হাজার টাকায় তিনটি সেলাই মেশিন দিয়ে শুরু করেন স্কুল শিক্ষার্থীদের পোশাক তৈরির একটি কারখানা। মাত্র ছয় মাসে পুঁজিহারিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেলেও হাল ছাড়েননি সিদ্দিক। ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য ইচ্ছা নিয়ে ধারদেনা করে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তিল তিল করে গড়ে তোলা এ প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১২০টি অত্যাধুনিক সেলাই মেশিন, কাটিং-এমব্রয়ডারি মেশিনসহ, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর ব্যবস্থা রয়েছে। প্রায় ৪০০ নারী-পুরুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায়। যা দেখে বিভিন্ন বিদেশি এনজিও পরিদর্শন করে কারখানায় শ্রমিকদের বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দেয়।
শুরুতে লাভের মুখ না দেখলেও ধৈর্য্য আর পরিশ্রম তাকে এনে দেয় সফলতা। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি সিদ্দিককে। বাড়তে থাকে ব্যবসার পরিধি। প্রতি মাসে গড়ে ৫০ লাখ টাকার পোশাক বিক্রি করে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা আয় করেন তিনি। স্কুলড্রেস বিক্রির পাশাপাশি তার কারখানায় তৈরি হচ্ছে শীতের পোশাক, বাচ্চাদের ফ্রর্কসহ নানা ধরনের পোশাক। সিদ্দিকের এ স্টুডেন্ট কেয়ার গার্মেন্টস এ কাজ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক নারী। কম দরে ভালোমানের কাপড় বিক্রি করায় তার কারখানায় ভিড় বাড়ছে পাইকারি ক্রেতাদের।
ভালোই চলছিরো সিদ্দিকের কারখানায়। তবে করোনা মহামারি সংকট অনেকটাই পথে বসিয়েছে কঠোর পরিশ্রমী এ উদ্যোক্তাকে। তবু হাল ছাড়েননি। ঘুরেদাঁড়াতে হিমমিশ খাচ্ছেন। প্রণোদনার ব্যাংকঋণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে আশ্বাস মিললেও সহায়তা মেলেনি। ফলে অনেকটাই হতাশ এ উদ্যোক্তা।
সিদ্দিক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় গত দুই বছরে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লোকসানগুণতে হয়েছে। করোনাকালে ব্যাংক থেকে উদ্যোক্তাদের প্রণোদনার ঋণ দেওয়ার কথা থাকলে তাও মিলছে না। ফলে এখন টিকে থাকাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর অনেকবার চেষ্টার পর ২০ লাখ টাকা ঋণের বিপরীতে প্রণোদনা সুবিধা দিতে রাজি হয় বেসরকারি একটি ব্যাংক। কিন্তু দীর্ঘদিন ঘোরানোর পরও প্রণোদনা মেলেনি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামীদিনে দেশকে উন্নত করতে হলে এসএমইর বিকল্প নেই। সামগ্রিক মূল্যায়নে এ খাতই অর্থনীতির প্রাণ। কিন্তু এ খাতের উদ্যোক্তাদের দুঃখের যেন শেষ নেই। বৈশ্বিক মহামারি করোনায় অর্থনীতি গতিশীল রাখতে সরকার প্রণোদনা ঘোষণা করলেও বঞ্চিতদের তালিকায় রয়ে গেছেন উদ্যোক্তা সিদ্দিক। শতচেষ্টাও পাননি প্রনোদনার ঋণ।
উদ্যোক্তাদের ঋণ পেতে পদে পদে ভোগান্তি পোহাতে হয়। আবার দীর্ঘ ভোগান্তির পরও মিলছে না ঋণ সহায়তা। ফলে অনেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছেন।
আনন্দবাজার/এম.আর









