বিশ্বের রক্তঝরা সীমান্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। চলতি বছর প্রথম ছয় মাসেই বিএসএফ এর গুলিতে নিহত হয়েছেন ২৫ জন বাংলাদেশি। এমনকি চলতি মাসেই বিএসএফ’এর গুলিতে হয়েছে ৪ জন বাংলাদেশি।
আইন ও শালিস কেন্দ্রের পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মাসে ইতোমধ্যে বিএসএফ’এর গুলিতে নিহত হয়েছে ৪ জন। এই বছরের প্রথম ছয় মাসে নিহত হয়েছেন ২৫ জন বাংলাদেশি। আর গত ১১ বছরে এই সংখ্যা ৫ শ’র কাছাকাছি।
বাংলাদেশ-ভারত বৈঠকের পরে বৈঠক চলে, হয় নানাবিধ চুক্তিও, তবে কোনোভাবেই বন্ধ হয় না সীমান্তের বিচারবর্হিভূত হত্যা। এ দেশে ‘সীমান্ত হত্যা’র সংজ্ঞাই হলো ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নিরস্ত্র মানুষের হত্যাকাণ্ড। প্রতি বছরই হয় সীমান্ত সম্মেলন, আর ঘোষণা সীমান্ত হত্যা শূন্যে নামানোর। প্রতি বছরের মতো এবারও দু'দেশের ৫০তম সীমান্ত সম্মেলনে আবারও সেই পুরনো ঘোষণা এসেছে- শূন্যে নামবে এমন হত্যা।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, এখন পর্যন্ত একটি হত্যারও বিচার হয়নি বলেই এই অমানবিকতা বন্ধ হয় না। দুনিয়া কাঁপানো ফেলানী হত্যার বিচার ৯ বছর ধরে কেনো ঝুঁলে আছে, সেটি জানা যায় নি-আজও!
যদিও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা জানান, যদি কেউ চোরাকারবারিও হয় তবুও তার বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। সীমান্তে গুলি চালিয়ে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে, যারা মারছে। এখানে ভারতীয়রা যখন উদ্যোগ নেবে তখনই এসব বন্ধ হবে।
ফেলানী হত্যা মামলার আইনজীবী অ্যাড. এস এম আব্রাহাম লিংকন বলেন, বাংলাদেশ তার প্রত্যেকটা বৈঠকে সীমান্তকে প্রাইয়োরিটি দিচ্ছে। তারা যদি মনে করে বাংলাদেশ বর্ডার কাশ্মীর, তাহলে সেটা ভুল হবে।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









