ঈদে বাড়ি ফেরা
ঢাকা থেকে উত্তরের পথের যানজট নতুন চিত্র না। ঈদের আগে এ চিত্র আরও ভয়াবহ রুপ নেয়। টাঙ্গাইলসহ এ মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ২৪টি জেলার যানবাহন ঢাকায় আসা-যাওয়ায়া করে। ঈদের পূর্বে মহাসড়কে যানাবাহনের চাপ আরও বেড়ে যায়। এতে সহজেই যানজট সৃষ্টি হয়। ঈদের আগে ঢাকা থেকে টাঙ্গাইল ফিরতে সারারাত বাসে কাটাতে হয়েছে এমন ঘটনা এ পথের যাত্রীদের অজানা নয়।
যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতু টোলপ্লাজায় টোল সংগ্রহ করতে অনেক সময় লম্বা সারির সৃষ্টি হয়ে যানজট শুরু হয়। কখনও আবার সরু রাস্তাকেও যানজটের জন্য দায়ী করা হতো। উত্তরের পথের যানজটের এ ভয়বহতা নিরসনে ঢাকা-টাঙ্গাইল বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়ক চারলেনে রুপান্তরিত করা হয়। উন্নয়ন কাজ অনেক সময় ভোগান্তি হয়। মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলাকালেও প্রতিবছর ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপে তীব্র যানজট লেগে থাকতো। ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথেও একই চিত্র দেখা যেতো। চারলেনের কাজ প্রয় শেষ হলেও টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে যমুনা বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত এখনও দুই লেন রয়ে গেছে।
জয়দেবপুর হতে এলেঙ্গা পযর্ন্ত চারলেন প্রকল্পের কাজ প্রায় শেষ হলেও এলেঙ্গার পর থেকে এই ১৩ কিমি. দুই লেনের রাস্তাই ঘরফেরা মানুষের ভোগান্তির কারণ হতে পারে এমনটাই ধারণা করছেন চালকসহ সংশ্লিষ্টরা। তবে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ যানজট নিরসনে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ঈদের আগে আট শতাধিক অতিরিক্ত পুলিশকে যানজট নিরসনে মহাসড়কে রাখার চিন্তা করছেন। যানবহনে থাকা রোজাদার যাত্রীদের ইফতারের ব্যবস্থা রেখেছে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) কাজী নুসরাত এদ্বীপ লুনা। তিনি আরও বলে, দীর্ঘ সময় ভ্রমণে মহাসড়কে বৃদ্ধ,রোগি ও শিশুসহ সকলের জন্য প্রয়োজন অনুসারে ১৫টি মোবাইল টয়লেটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
পুলিশ, পরিবহনের চালক এবং সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কে উত্তরবঙ্গসহ ২৪ জেলার যানবাহন চলাচল করে। এতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যানবাহনগুলো মহাসড়কের এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন সুবিধা নিয়ে দ্রুত চলে আসতে পারে। তবে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু পর্যন্ত সড়কটি দুই লেনের। এছাড়াও বঙ্গবন্ধু সেতুটিও দুই লেনের। এতে যানবাহন চার লেনের সুবিধায় দ্রুত এলেঙ্গা পর্যন্ত এসে আটকে যায় দুই লেনের মুখে। সেখান থেকেই যানবাহনগুলো ধীর গতিতে চলে যানজটের শুরু হয়। এছাড়াও সিরাজগঞ্জ অংশে চার লেনের কাজ চলমান থাকায় গাড়ির চাপ বাড়লেই যানজটের সৃষ্টি হয়। সেই জট কখনও কখনও টাঙ্গাইল পর্যন্ত এসে যায়। আবার সেতুতে টোল দিয়ে নিয়েও যানজট লেগে যায়।
বঙ্গবন্ধু সেতু টোল প্লাজা সূত্র জানায়, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন ১২/১৩ হাজার যানবাহন সেতু পারাপার হয়। ঈদের আগে ৩৫/৩৬ হাজার যানবাহন পারাপার হয়। স্বাভাবিকের চেয়ে অধিক যানবাহন পারাপার হওয়ায় দুই লেনের সড়কে যানজট লেগে যায়। সিরাজগঞ্জ অংশে দুই লেনের সড়ক। এছাড়া সেখানে কয়েকটি সরু সেতু রয়েছে। এ কারণে পশ্চিম প্রান্তে যানজট লেগে সেতু অতিক্রম করে টাঙ্গাইল অংশ পর্যন্ত চলে আসে।
সরেজমিনে দেখা যায়, চার লেন সড়কের কাজ প্রায় শেষের দিকে। সড়কের দুপাশে সার্ভিস লেন সব চালু আছে। যানবাহন দ্রুত গতিতে চলাচল করছে। মির্জাপুরের গোড়াই ফ্লাইওভারের কাজ চলছে।
যানবাহন চালকরা জানান, এলেঙ্গা থেকে ঢাকা দিকে চার লেন। অপরদিকে এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত দুই লেন। এ কারণে চার লেনের যানবাহন যখন দুই লেনে যাতায়াত করে তখনই যানজট সৃষ্টি হয়। ঈদের মধ্যে স্বাভাবিক তুলনার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন চলাচল করবে আর এ কারণে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কায় আছি। কেউ কেউ জানালেন, ঈদের আগে টিপের প্রতিযোগিতায় শুরু হয়। কে কত বেশি টিপ মারতে পারে, বেশি টাকার লোভে নিজের জীবনেরও তোয়াক্কা করে না। অপর দিকে রাস্তার নিয়ম কানুনও মানে না। ফলে অনেক সময় চালকদের কারণেও যানজটের সৃষ্টি হয়। আবার কোন কোন চালকদের দাবি, পুলিশকে দেখে চালকরা ভয় পেয়ে নিয়ম মেনে গাড়ি চালায়। তাই অবিরত রাস্তায় পুলিশ থাকলে যানজট কম হবে। এছাড়াও চালকদের প্রতিযোগিতা বন্ধ করলে দুর্ঘটনার পাশাপাশি যানজটও কমে আসবে।
চার লেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক অমিত চক্রবর্তী জানান, মির্জাপুরের ফ্লাইওভারটি ঈদের ১০ দিন আগে চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। তাই এই সড়কে এলেঙ্গা পর্যন্ত আর কোন সমস্যা থাকছে না।
বঙ্গবন্ধু যমুনা বহুমুখি সেতুর প্রকৌশলী আহসান মাসুদ বাপ্পী বলেন, স্বাভাবিক সময়ে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ৬/৭ টি লেনে টোল আদায় করা হয়। ঈদের আগে যানজট নিরসনে সেতুর উভয় পাশে ১৮ টি লেনে টোল আদায় করা হবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, যানজট নিরসনে অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ব্যতিক্রম কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে পুলিশের পাশাপাশি মহাসড়কে দুইশ’ এপিপিএনের সদস্য যানজট নিরসনে কাজ করবে। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটির সময় মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে আট শতাধিক পুলিশ মহাসড়কে কাজ করবে। এতে ঘর মুখো মানুষের ভোগান্তি অনেক কম হবে। দুই লেনের ১৩ কিমি. রাস্তায় যেন যানজটের সূত্রপাত না হয়, সেজন্য ভূঞাপুর থেকে এলেঙ্গা লিংক রোড পর্যন্ত ডাইভার্ড করে বিকল্প রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া রাস্তার দুপাশের দোকানে যেন গাড়ি অহরহ থামাতে না পারে সে ব্যাপারেও পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া আছে।









