ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষার স্বার্থে ফ্লোর প্রাইস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম। তিনি আরও বলেন, করোনা মহামারির মধ্যেও নিরলসভাবে কাজ করে আমরা ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক (ডিএসইএক্স) সাড়ে ৬ হাজার পয়েন্টে নিয়ে এসেছি। গতকাল সোমবার পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের সমস্যা ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
সংকট কাটিয়ে উঠলেই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হবে জানিয়ে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমাদের পুঁজিবাজারে ৮০ শতাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারী ও ২০ শতাংশ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী। এর উল্টো অবস্থা হলে ফ্লোর প্রাইসের প্রয়োজন হতো না। তাই ইচ্ছা না থাকা সত্ত্বেও বিনিয়োগ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় ফ্লোর প্রাইস দেওয়া হয়েছে। এটা স্থায়ী কিছুনা। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেটি কাটিয়ে উঠলেই ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হবে।
পুঁজিবাজারে করোনা মহামারিকালীন ভয়াবহ প্রভাবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম বলেন, আমরা যখন পুঁজিবাজারে এসেছি, তখন ভয়াবহ করোনা মহামারি। সে সময় একদম বন্ধ ছিল পুঁজিবাজার। আমরা এসেই কাজ করেছি কীভাবে পুঁজিবাজারকে চালু করা যায়। বন্ধ মার্কেটকে পুণরায় চালু করতে আমরা সে সময়ে (করোনা) প্রতিদিন অফিস করেছি। কিন্তু আমরা ছাড়াও পুঁজিবাজারে যারা কাজ করে, যারা মধ্যস্থতাকারী আছেন তারা অফিস করছিলেন না। ভয়ে ঘর থেকেই বের হচ্ছিলেন না। তারপরও ডিএসইএক্স সাড়ে ৬ হাজার পয়েন্টে নিয়ে এসেছি, আমাদের সময়ে।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষার বিষয় উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, বিনিয়োগ শিক্ষা বিনিয়োগারী এবং বাজার উভয়ের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য স্কুল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমে বিনিয়োগ শিক্ষা কীভাবে যুক্ত করা যায় সে ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আমাদের নিজেদের যদি কমোডিটি এক্সচেঞ্জ হয়ে যায়, তখন আপনারা এখানে বসেই দেখতে পারবেন ঘানায় আজকে চালের দাম কতো বা আমাদের গার্মেন্টস পণ্য কোন দেশ কতো দামে নিতে চায়। আমরা এখানে বসেই সারা পৃথিবীর বাজার এবং নিজেদের বাজার দেখতে পারবো। তখন আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার ইনভয়েসিংয়ের সুযোগ থাকবে না।
কর্মসংস্থানকে দেশের প্রধান সমস্যা উল্লেখ করে শিবলী রুবাইয়াত-উল- ইসলাম বলেন, ভালো লোককে, ভালো বেতন দিয়ে ভালো কর্ম ঠিক করে দেয়ার লক্ষ্যে আমরা কাজ করছিলাম। ঠিক সে সময় এমন একজায়গায় যুদ্ধ বেঁধে গেলো, সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়লো। পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃদ্ধি গ্যাস, জ্বালানি তেল হোল্ড করে এমন দেশ যুদ্ধে গেছে। যেখান থেকে বেসিক ফুডগুলো বিভিন্ন দেশে যায়, সেই দেশ যুদ্ধে জড়িয়ে গেলো। তার সঙ্গে ইউরোপের অন্যান্য দেশে প্রভাব পড়তে শুরু করলো।
বিশ্ব অর্থনীতির ওপর জ্বালানির প্রভাবের বিষয় উল্লেখ করে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর যে ধাক্কা এলো তাতে আমাদের সবকিছুতে অন্যরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো। যেখানে আমাদের বিদ্যুতের সারপ্লাস, সেখানে লোডশেডিংয়ের ধাক্কা এলো। যে দেশের মানুষ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ, সেই দেশে সরকারিভাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
সেমিনারে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে ডিএসই চেয়ারম্যান ইউনুসুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারে জেনে-বুঝে বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কম। আমরা মোটামুটিভাবে মানুষের কথা শুনে বিনিয়োগ করি। এটা বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া এখানে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং দক্ষ জনবলের সংখ্যা কম।
ডিএসই চেয়ারম্যান আরও বলেন, পুঁজিবাজারে রয়েছে অপর্যাপ্ত পলিসি সাপোর্ট। ব্যাংকের ৬ থেকে ৯ যে সুদের হার আছে তার অর্থ হলো আমি ব্যাংক থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ নিতে পারবো। কিন্তু বড় কোম্পানিগুলো ব্যাংকের কাছে গেলে ৮ শতাংশ সুদেও ঋণ দেবে। তখন কি তারা পুঁজিবাজারে যাবে? পুঁজিবাজারে এলে তাকে এর থেকে বেশি হার লাভ্যাংশ দিতে হবে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান আসিফ ইব্রাহিম বলেন, আমাদের দেশের অর্থনৈতিক সাইজ অনুযায়ী কমোডিটি এক্সচেঞ্জ নেই। খুব তাড়াতাড়ি আমরা ভারতের মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হবো। আমরা ইতোমধ্যে রুলস করে বিএসইসির কাছে পাঠিয়েছি। বিএসইসি অনুমোদন দিলে আমরা আশা করছি শিগগির কমোডিটি এক্সচেঞ্জ চালু করতে পারবো।
ইআরএফের সভাপতি শারমিন রিনভীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজের (বিএপিএলসি) সভাপতি আজম যে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সহ-সভাপতি মো.মনিরুজ্জামান।
আনন্দবাজার/শহক









