- ঘুরে দাঁড়াচ্ছে পর্যটনখাত
- ঈদে শত কোটি টাকার বাণিজ্য
প্রাণঘাতি করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত দুই বছরের চার ঈদে বন্ধ ছিলো সিলেটের পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্রগুলো। ভ্রমণপ্রিয় লোকজনকে বাধ্য হয়েই অনেকটা বাসাবাড়িতে ঈদের আনন্দ-উচ্ছ্বাস সারতে হয়েছিল। এবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় কোনো বিধিনিষেধ নেই। এ কারণেই ঘরে বসে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠা পর্যটকরা সিলেটে ছুটে এসেছেন ঢলের মতো। ঈদের পরদিন থেকে সিলেট জেলার সবগুলো পর্যটনকেন্দ্রই এখন লোকে লোকারণ্য। প্রকৃতিকন্যা জাফলং, ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর আর বিছানাকান্দিসহ সব জায়গায় পর্যটকদের উপচেপড়াভিড় দেখা গেছে। ঈদের ছুটিতে এত পর্যটক গত পাঁচ বছরের মধ্যে দেখেননি বলে জানান স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- সিলেটে এবার রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক সমাগম ঘটেছে।
সিলেটে পর্যটকদের ঢল নামায় বেজায় খুশি পর্যটকনির্ভর পেশার মানুষেরা। হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর গাইড, পর্যটকদের ছবি তুলে সংসার চালানো আলোকচিত্রী ও পর্যটন স্পটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বলছেন, দীর্ঘ দুই বছর পর প্রাণ ফিরেছে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে। এই ঈদে সব মিলিয়ে ১০০ কোটি টাকার ব্যবসা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য করছেন তারা।
ঈদ পরবর্তীত দুদিন সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন স্পট ও বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, প্রকৃতির টানে ছুটে আসা পর্যটকদের বাঁধভাঙা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রলোতে অন্যরকম আবহের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের ছুটিতে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনে মুখরিত হয়ে উঠে এসব পর্যটনকেন্দ্র।
পাহাড়-টিলা, নদী আর পাথর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেটের গোয়াইনঘাটের জাফলং, বিছানাকান্দি, জৈন্তাপুরের সারি নদী, কোম্পানিগঞ্জের সাদাপাথর, উৎমাছড়া এবং মিঠাপানির একমাত্র জলারবন রাতারগুলের সবুজের সমারোহে পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। এছাড়াও সিলেট নগরীর ওসমানী শিশুপার্ক, চা-বাগানের ছড়ায় স্থাপিত ওয়াকওয়েগুলোতেও শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী লোকজনের ভিড় ছিলো লক্ষ্যণীয়। সিলেট শহরতলির প্রতিটি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও সব বয়েসি নারী-পুরুষের ছিলো উপচেপড়া ভিড়।
অপরদিকে, সিলেটের হযরত শাহজালাল (রাহ.) দরগাহ মাজার, শাহপরাণ (রাহ.) মাজারের পাশাপাশি সিলেট নগরীর বিভিন্ন পার্কগুলোতে দল বেঁধে গাড়ি নিয়ে ছুটে আসেন পর্যটকরা। সিলেট মহানগরীসহ জেলার সবকটি হোটেল-মোটেলের রুম শতভাগ পূর্ণ। কোথাও কোনো কক্ষ খালি নেই।
সিলেটে রাজশাহী থেকে ঘুরতে আসা বেসরকারি একটি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরি করা রেদওয়ান আহমদ দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, দুই বছর করোনার জন্য সিলেট আসতে পারিনি। এবার আর কেউ রুখতে পারেনি।
কুমিল্লা থেকে আসা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মৌসুমী বেগম বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও করোনার কারণে গত দুই বছরে সিলেট আসতে পারিনি। এবার ঈদে মা-বাবা, ভাই-বোনসহ পরিবারের সবাইকে নিয়ে জাফলং এসেছি। আমার ছোট ভাইবোনরা সিলেটের মতো এত সুন্দর জায়গা দেখতে পেরে আনন্দে আত্মহারা।
মেঘালয়ের কোলঘেঁষা ভোলাগঞ্জের সাদা পাথরের শীতল পানিতে শরীর জুড়াতে আসা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুবক কামরুল ইসলাম মাহি বলেন, ‘সিলেটের বিভিন্ন স্থানে আগেও এসে,িছ কিন্তু সাদা পাথরে এই প্রথম আসা। এখানে স্বচ্ছ পানির নিচে জমে থাকা সাদা পাথর অপরূপ সৌন্দর্য্য ছড়িয়েছে। যা দেখে আমরা মুগ্ধ। ভারত থেকে নেমে আসা হিমশীতল পানিতে গা ভাসিয়ে এক ধরনের রোমাঞ্চকর অনুভূতি হচ্ছে শরীরে।’
সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) লুৎফর রহমান বলেন, পর্যটকদের হয়রানি কমাতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনসমাগমস্থল চিহ্নিত করে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সিলেট অঞ্চলের ট্যুরিস্ট পুলিশ সুপার আলতাফ হোসেন দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বুধ থেকে শনিবার- চারদিন সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলোয় স্থানীয় পর্যটকসহ ৮ থেকে ১০ লাখ পর্যটক থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এজন্য পর্যটকদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।









