- স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলছে মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এমএলএসএস দিয়ে
ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকরা বসেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
ইউনিয়ন উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োগের বিষয় জানেন না চিকিৎসকরা, তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন: ডা. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা, শ্রীমঙ্গল
শ্রীমঙ্গলে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োগ পেয়েও চিকিৎসকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসছেন। কেন্দ্রগুলোতে কাগজ কলমে চিকিৎসক পদায়ন থাকলেও তারা সেখানে বসেন না তারা। চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেই। ফলে এ সকল স্বাস্থ্যকেন্দ্র চলছে মিডওয়াইফ, ফার্মাসিস্ট, এমএলএসএস দিয়ে। সব মিলিয়ে হযবরল অবস্থা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর। ফলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত এসব উপ-স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র থেকে রোগীরা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না।
এখানকার জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষ। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিছুটা উন্নত চিকিৎসা দেয়ার লক্ষ্যে উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে মেডিকেল অফিসার ও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ সহকারি সার্জন পদে নিয়োগ দেয়া হয়।
রুগ্ন যাতায়াত ব্যবস্থা ও আর্থিক কারণে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে বড় ভরসা হলেও কাঙিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত গ্রামের নিম্নআয়ের মানুষ।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে কয়েকটি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার ক্যলাণ কেন্দ্রে গিয়ে এ চিত্র দেখা গেছে। কোনো কোনো স্বা¯’্যকেন্দ্রে ফার্মাসিস্ট ও এমএলএসএস পদও ফাঁকা পড়ে আছে দীর্ঘ সময় ধরে।
উপজেলার আশিদ্রোণ গ্রামের কামাল হোসেন জানান, এখানে ডাক্তার মৌমিতা বৈদ্য নামে কোন ডাক্তার আছেন বলে শুনি নাই। ডাক্তারি কোনো সমস্যা হলে আমাদের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়। একই গ্রামের মনির উদ্দিন বলেন, কোনো দিন শুনিই নাই এখানে ডাক্তার আসেন। আজ আপনাদের থেকে জানতে পারলাম এখানে ডাক্তার আছেন। উপজেলার কালিঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১১টায় গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে তালা দেওয়া। শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ২টি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ৭টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৩টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র স্থাপনাবিহীন রয়েছে। কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার নিয়োগ হলেও সেখানে তারা যাচ্ছেন না। ডা. পার্থ সারথি সিংহ দশরথ উপকেন্দ্রে ভূনবীর মেডিকেল অফিসার পদে ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে নিয়োগ হলেও সেখানে না গিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ডা, শিউলী রানী দেব, সহকারী সার্জন পদে কালিঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ তারিখে নিয়োগ হলে সেখানে না গিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ডা. মৌমিতা বৈদ্য, সহকারি সার্জন পদে আশীদ্রোন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ১২ মে ২০২০ তারিখে নিয়োগ হলে সেখানে না গিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ডা. আকাশ রায়, সহকারী সার্জন পদে সাতগাঁও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২২ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে নিয়োগ হলে সেখানে না গিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ডা. তানজিনা আক্তার, সহকারি সার্জন পদে মির্জাপুর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২২ আগষ্ট ২০২২ তারিখে নিয়োগ হলে এখন ছুটিতে রয়েছে। ডা. সায়মা আক্তার সহকারী সার্জন পদে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ৮ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে নিয়োগ হলে ওই কেন্দ্রে স্থাপনা না থাকায় চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ডা. সম্রাট কিশোর পোদ্দার সহকারি সার্জন পদে রাজঘাট স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২২ আগষ্ট ২০২২ তারিখে নিয়োগ হলেও ওই কেন্দ্রে স্থাপনা না থাকায় চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে। ডা. অজন্তা দেবী সহকারী সার্জন পদে সিন্দুরখান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ তারিখে নিয়োগ হলে ঐ কেন্দ্রে স্থাপনা না থাকায় চিকিৎসা দিচ্ছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কর্মকর্তা ডা. মো. সাজ্জাদ হোসেন চৌধুরী জানান, করোনা সংকটের কারণেই এমনটা হয়েছে। তবে চিকিৎসকরা জানেন না উনাদের ইউনিয়ন উপ-কেন্দ্রে এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়োগের বিষয়, তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বসেন চিকিৎসকরা। তিনি আরও বলেন, উর্দ্ধতন কর্মকর্তার লিখিত আদেশ বলে ডা. মৌমিতা বৈদ্য ও ডা. পার্থ সারথি সিংহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। তবে ডা. আকাশ রায়, প্রতি সোমবার সাতগাঁও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে যান। খুব শিগগিরই অন্যান্য কেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার যাবে।
তবে মৌলভীবাজার সিভিল সার্জন চৌধুরী জালাল উদ্দিন মুর্শিদ মুঠোফোনে জানান, এ ব্যাপারে আমি অবগত নয়। খোঁজ নিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।









