প্রকাশনাশিল্পের প্রধান উপকরণ কাগজের দাম বাড়ায় নতুন বই ছাপানোর আগ্রহ নেই প্রকাশনা সংস্থাগুলোর। অধিকাংশ সংস্থা এবারের বইমেলায় নতুন প্রকাশনার সংখ্যা কমিয়ে এনেছে ২০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত। যার প্রভাব পড়ছে প্রেসগুলোতেও। বিশেষ করে ডিসেম্বর থেকেই কাজ শুরু হয় প্রেসগুলোতে, জানুয়ারি ও ডিসেম্বরে যার ব্যস্ততা তুঙ্গে পৌঁছায়। তবে এবার সেই ব্যস্ততা তেমন দেখা যাচ্ছে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলার মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। তবে প্রেসপাড়া হিসেবে খ্যাত দেশের সর্ববৃহত্ত প্রকাশনা ও বইয়ের ব্যবসাকেন্দ্র পুরান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় তার বিন্দুমাত্র রেশ নেই। সময় এগিয়ে এলেও প্রকাশনা থেকে বাঁধাই- কারখানা কোথাও নেই ব্যস্ততার ছোঁয়া। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা দুষছেন কাগজের উচ্চমূল্যকে।
বাংলাবাজার এলাকার বাংলাবাজার রোড, প্যারিদাস লেন, শিরিষ দাস লেন, পাতলা খান লেন, রূপচান লেন, জয়চন্দ্র ঘোষ লেনের প্রেসগুলোতে নেই বইমেলা উপলক্ষে নতুন বই ছাপানোর চাপ। গড়পড়তা ধর্মীয় বই, গাইড বই, চাকরির বই, উচ্চমাধ্যমিক ও স্নাতক পর্যায়ের বই ইত্যাদি ছাপানোর কাজ চলছে। বাঁধাই কারখানাগুলোরও একই হাল। বইমেলা উপলক্ষে নতুন বই বাঁধাইয়ের অর্ডার নেই তাদেরও।
প্রেস মালিকরা বলছেন, এখনও কাজ আসা শুরু হয়নি। কাগজের দাম বাড়ার কারণে প্রকাশনা মালিকরা কাজ করাচ্ছেন না। অন্য বছর এই সময়টাতে অনেক কাজ থাকে, আমরা অর্ডার নিয়ে কুলিয়ে উঠতে পারি না। কিন্তু এখন কাজ নেই। মোটামুটি সব প্রকাশনীই ২০ থেকে ৮০ শতাংশ কম বই আনবে বই মেলায়। সবাই ভয় পাচ্ছে, কাগজের দাম বেশি, বইয়ের দামও বাড়বে, যদি বিক্রি না হয়।
একটি প্রেসের ছাপার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার বললেন, আর ১০ থেকে ১৫ দিন পর অর্থাৎ মাসের শেষে কিছু কাজ আসবে আশা করছি। আমাদের তো একটা প্রত্যাশা থাকেই বইমেলার আগে কাজের চাপ থাকবে। তবে যদি বইমেলা শুরুর পর তেমন চাহিদা থাকে, তাহলে ফেব্রুয়ারির প্রথম থেকেই চাপ তৈরি হবে।
তবে অচলাবস্থায় বেশি বিপাকে বাঁধাই কারখানাগুলো, এমনটাই দাবি কারখানার মালিকদের। তারা বলছেন, প্রেসগুলোতে অন্য কাজ কম-বেশি থাকলেও বাঁধাই কারখানাগুলো বইমেলার ওপর অনেকখানি নির্ভরশীল। মূলত আগে এনসিটিবির বইয়ের কাজ এই এলাকায় এলেও বর্তমানে তা শতভাগ মাতুয়াইলকেন্দ্রিক। ফলে বইমেলার অপেক্ষায় ছিলেন এই এলাকার বাঁধাই কারখানার মালিকরা।
বাইন্ডাররা বলছেন, তারা এনিসিটিবির কাজ পায় না। সব কাজ এখন মাতুয়াইলকেন্দ্রিক। তারা অপেক্ষা করছিলেন বইমেলার আগে কাজ পাবেন। কিন্তু প্রকাশনীগুলো অর্ডার দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে কারখানাগুলো কর্মী ছাঁটাই করছে। পুস্তক বাঁধাই ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাহাবুব আলম মল্লিক বলেন, কাগজের দামের কারণে প্রকাশনীগুলো নতুন কাজ করছে না। ফলে বাঁধাই কারখানাগুলোতে কাজ নেই।
প্রকাশনা সংস্থা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কাগজের উচ্চমূল্যই বর্তমান অচলাবস্থার প্রধান প্রভাবক। কাগজ ও অন্যান্য সরঞ্জামের খরচ বাড়ায় স্বাভাবিক নিয়মে বাড়বে বইয়ের দাম। ফলে বই বিক্রির পরিমাণ নিয়ে সন্দিহান তারা।
আনন্দবাজার/শহক









