প্রধান দুই পুঁজিবাজার--
- ৫৩ ভাগ কোম্পানির দর উত্থান, পতন ৩২
- সেরা ডিএসইতে বেক্সিমকো, সিএসইতে ড্রাগন
ডিএসইর লেনদেন কমে নয়শ কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। যা চলতি বছরের সর্বনিম্ন।
দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সব ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। অপর পুঁজিবাজার চট্রগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) একটি বাদে বাকী চার ধরনের সূচক উত্থানে লেনদেন শেষ হয়েছে। আগের কার্যদিবস থেকে এদিন ডিএসইতে লেনদেন পরিমাণ কমলেও সিএসইতে সামান্য বেড়েছে। ডিএসইর লেনদেন কমে এদিন ৯ শত কোটি টাকার নিচে নেমে এসেছে। যা চলতি বছরের মধ্যে সবনিম্ন লেনদেন হিসেবে। গতকাল বুধবার দুই স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
পুঁজিবাজারে (দুই স্টক) এদিন ৫৩ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৪৮ দশমিক ৮১ শতাংশ এবং সিএসইর ৫৭ দশমিক ২৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর উত্থান হয়েছে। এদিন পুঁজিবাজারে ৩২ দশমিক ৩৯ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইর ৩৫ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং সিএসইর ২৯ দশমিক ১৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট দর পতন হয়।
এদিন ডিএসইতে চামড়া, পাট, আইটি এবং খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানির শেয়ার দর পতন হয়েছে। এদের মধ্যে চামড়া খাতের ৭৫ শতাংশ, পাট খাতের ৬৭ শতাংশ, আইটি খাতের ৬৪ শতাংশ এবং খাদ্য আনুষঙ্গিক খাতের ৫৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর পতন হয়েছে। অপরদিকে জ্বালানি শক্তি, বস্ত্র, পেপার, টেলিকম, সিরামিক এবং সিমেন্ট খাতের কোম্পানির শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদের মধ্যে জ্বালানি শক্তি খাতের ৭৮ শতাংশ, বস্ত্র খাতের ৭২ শতাংশ, পেপার খাতের ৬৭ শতাংশ, টেলিকম খাতের ৬৭ শতাংশ, সিরামিক খাতের ৬০ শতাংশ এবং সিমেন্ট খাতের ৫৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর উত্থান হয়েছে। এদিন অন্য খাতের উত্থান পতনের কিছুটা ছন্দ রয়েছে। কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর এ ধরনের বাড়া-কমাকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন বিনিয়োগকারীরা বলে জানায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরা।
এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকোর শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। অপরদিকে সিএসইতে ড্রাগন সোয়েটার শেয়ার কেনাবেচায় কদর সবচেয়ে বেশি ছিল। ফলে লেনদেন শীর্ষে ডিএসইতে বেক্সিমকো এবং সিএসইতে ড্রাগন সোয়েটারের শেয়ার স্থান পেয়েছে। এদিন ডিএসইতে বেক্সিমকো ৮৬ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। যেখানে ডিএসইর ৩৭৯টি প্রতিষ্ঠান একত্রে লেনদেন হয়েছে ৯৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন লেনদেন শেষে বেক্সিমকো শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৫০ দশমিক ৭০ টাকা। আগের দিন মঙ্গলবার শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৪৭ দশমিক ৭০ টাকা। একদিনের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর কমেছে ৩ টাকা বা ২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। এদিন কোম্পানিটির ৫৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৮৭টি শেয়ার লেনদেন হয়।
এছাড়া এদিন সিএসইতে ড্রাগন সোয়েটার ১ কোটি ৮৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। যেখানে সিএসইর ২৮৮টি প্রতিষ্ঠান একত্রে লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকার শেয়ার। এদিন ড্রাগন সোয়েটারের লেনদেন শেষে শেয়ার প্রতি দর দাঁড়ায় ১৯ টাকা। আগেরদিন মঙ্গলবার শেয়ার প্রতি দর ছিল ১৭ দশমিক ৩০ টাকা। একদিনের ব্যবধানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর বেড়েছে ১ দশমিক ৭০ টাকা বা ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। এদিন কোম্পানিটির ৯ লাখ ৯০ হাজার ২৭৩টি শেয়ার লেনদেন হয়।
এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ২৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা, ওরিয়ন ফার্মা ২৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ২৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা, ড্রাগন সোয়েটার ২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা, ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২১ কোটি ৬ লাখ টাকা, ফরচুন সুজ ২০ কোটি ১ লাখ টাকা, সোনালী পেপার ১৮ কোটি ১৫ লাখ টাকা, এপেক্স স্পিনিং ১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং লার্ফাজ-হোল্ডসিম ১৬ কোটি ৩৭ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে। এছাড়া এদিন সিএসইতে লেনদেনের শীর্ষ অবস্থানে থাকা অন্য কোম্পানিগুলোর মধ্যে ইউনিয়ন ব্যাংক ১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা, বেক্সিমকো ১ কোটি ২১ লাখ টাকা, বিট্রিশ আমেরিকান টোব্যাকো ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা, এসএস স্টিল ৭৪ লাখ টাকা, বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন ৬৬ লাখ টাকা, জিপিএইচ ইস্পাত ৬৫ লাখ টাকা, বিএসআরএম স্টিল ৬৫ লাখ টাকা, রবি ৫৮ লাখ টাকা এবং বিডি থাই ফুড ৫২ লাখ টাকার শেয়ার কেনাবেচা হয়েছে।
ডিএসইতে বুধবার লেনদেন হয়েছে ৮৮৭ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ৯০৮ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৯টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে ১৮৫টির, কমেছে ১৩৫টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৫৯টির। ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৩০ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৯৪৮ দশমিক ৬৭ পয়েন্টে। এছাড়া ডিএসই-৩০ সূচক ১৪ দশমিক ১৩ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক ৩ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ২ হাজার ৫৫০ দশমিক ৫০ পয়েন্টে এবং ১ হাজার ৪৯৮ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে।
এদিন ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে ওঠে এসেছে ক্রাউন সিমেন্টের শেয়ার দর। এদিন শেয়ারটির দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এরপর ড্রাগন সোয়েটার ৯ দশমিক ৮২ শতাংশ, তমিজউদ্দিন টেক্সটাইল ৮ দশমিক ৭২ শতাংশ, সোনালী পেপার ৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ, সেন্ট্রাল ফার্মা ৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, এডিএন টেলিকম ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ, ডেল্টা লাইফ ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, অলিম্পিক এক্সেসরিজ ৪ দশমিক ৫১ শতাংশ, রিলায়েন্স ওয়ান ফান্ড ৪ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং নিউ লাইন ৪ দশমিক ২৭ শতাংশ করে শেয়ার দর বেড়েছে।
অপরদিক এদিন ডিএসইতে দর কমার শীর্ষে ওঠে এসেছে কুইন সাউর্থের শেয়ার দর। এদিন শেয়ারটির দর কমেছে ৮ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এরপর হাক্কানি পাল্প ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ, ফার্স্ট প্রাইম ফান্ড ৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, সমতা লেদার ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, লার্ফাজ-হোল্ডসিম ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ, এমবি ফার্মা ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ, আজিজ পাইপস ৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ, মুন্নু সিরামিক ৩ দশমিক ৩৮ শতাংশ, মেঘনা কনডেন্সড মিল্ক ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ এবং জিকিউ বলপেন ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ করে শেয়ার দর কমেছে।
অপরদিকে সিএসইতে বুধবার লেনদেন হয়েছে ২৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবস মঙ্গলবার লেনদেন হয়েছিল ২৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৮৮টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে ১৬৫টির, কমেছে ৮৪টির এবং পরিবর্তন হয়নি ৩৯টির। এদিন সিএসইর প্রধান সূচক সিএএসপিআই ৮২ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৩১৩ দশমিক ৭১ পয়েন্টে।
এদিন সিএসই-৫০ সূচক ৩ দশমিক ৯০ পয়েন্ট, সিএসই-৩০ সূচক ৯৬ দশমিক ৬৮ পয়েন্ট এবং সিএসসিএক্স সূচক ৪৭ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ৪৯৭ দশমিক ২৯ পয়েন্টে, ১৪ হাজার ৩৬৩ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে এবং ১২ হাজার ১৯১ দশমিক ৭৪ পয়েন্টে। এছাড়া সিএসআই সূচক ৩ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৬৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে।









