লালমনিরহাটের গ্রামাঞ্চলে আমন ধান কাটার ধুম পড়েছে। কৃষকের কেটে নেওয়া ধান ক্ষেতে ইঁদুরের গর্ত খুঁড়ে মুঠো মুঠো ধানের শীষ বের করে আনছে দুরন্ত শিশু-কিশোরের দল। ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ করে আনন্দে মেতে উঠেছে তারা। ইঁদুরের গোলায় হানা দিয়ে ধান সংগ্রহ করা এমন দৃশ্য চোখে পড়ার মতো।
সংগ্রহ করা ধান দিয়ে কেউ পিঠা বানাবে। আবার কেই তা বিক্রি করে নতুন পোষাক কিংবা হাঁস মুরগী কেনার স্বপ্ন দেখছে। প্রতিবছর আমন ধান কাটার মৌসুমে সকাল থেকেই শিশুর দল ফসলের মাঠে ইঁদুরের গর্ত খুঁজে সংগ্রহ করে ধান। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোদাল, শাবল, খুন্তি, চালন, ডালী ও ব্যাগ নিয়ে ক্ষেত থেকে ক্ষেতে ছুটে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোরের দল। খুঁজে ফিরছে ইঁদুরের গর্ত। কোদালের সাহায্যে ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান উদ্ধারে চেষ্টা করছে আলিম, মেহাদী ও হাসান নামে তিন কিশোর। তারা স্থানীয় কাশিরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। ইঁদুরের গর্ত থেকে তোলা ধান ব্যাগে নিচ্ছে তারা।
জানা যায়, লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলায় চলছে রোপা আমন ধানের কাটা-মাড়াই। স্বপ্নের ধান ঘরে তুলতে গৃহস্থরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। পাশাপাশি ক্ষেতে ঝরে পড়া কিংবা ইঁদুরে কেটে নিয়ে যাওয়া ধান সংগ্রহ মাঠের পর মাঠ চষে বেড়াচ্ছে শিশু-কিশোররা। ইঁদুরের গর্ত কিংবা ঝরে পড়া ধান দেখলেই ওদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে সোনালি হাসি। এ অঞ্চলে হতদরিদ্র পরিবারের এসব শিশু (যাদের কোনো জমিজমা নেই) ইঁদুরের ধান ও কুড়ানো ধানে শখ পূরণ করে। ধান বিক্রি করে কেউ বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনে। আবার কেউ নতুন ধান দিয়ে পিঠার স্বাদ গ্রহণ করে।
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র হাসান বলেন, আমরা ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ করতে মজা পাই। ধান বিক্রি করে আমরা বিভিন্ন জিনিসপত্র কিনি। শিশু সোহেল রানা বলেন, ইঁদুরের গর্ত থেকে এ কয়েকদিনে আমি প্রায় ২০ কেজি ধান সংগ্রহ করেছি। এই ধান কিছু বিক্রি করব। আর কিছু পিঠা খাব। শিশু নাজমুল বলেন, আমি ধান বিক্রি করে শীতের ছুইটার নিব আর হাঁস মুরগী কিনব।
কালীগঞ্জ উপজেলার কাশীরাম গ্রামে আবদার রহমান (৫০) বলেন, জমিতে ঝড়া ধান এবং ইঁদুরের ধানে আমাদের কোনো দাবি নেই। শিশুরা দলবেঁধে জমি থেকে ধান সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। একই এলাকার ষাটোর্ধ্ব সকিনা বেওয়া বলেন, হামা গরিব মানুষ বাহে। হামার কিছুই নাই। তাই মানুষের জমির ঝড়া ধান তুলি। এ ধান সিদ্ধ করে চাউল বানিয়ে কয়েক দিন খাব।
লালমনিরহাট কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামীম আশরাফ বলেন, প্রত্যেক বছর আমন মৌসুমে ৬ শতাংশ ফসলের একটি অংশ ইঁদুরের পেটে চলে যায়। আমরা কৃষকদের আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার জন্য উৎসাহ দিচ্ছি। যাতে ইঁদুরের আক্রমণ কম হবে। তিনি আরও বলেন, ইঁদুরের গর্ত থেকে ধান সংগ্রহ করা বিপদজনক।
আনন্দবাজার/এম,আর









