- পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক
খাগড়াছড়ি থেকে রামগড়-বাড়িয়ারহাট পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি বাঁক রয়েছে। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯০টি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়না স্থাপন করলে দুর্ঘটনা আরো কমবে
দুই পাশে পাহাড়। মাঝখানে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা সড়ক। এ সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়ি সড়ক দেখতে দৃষ্টিনন্দন হলেও একটু অসাবধানতায় প্রায় ঘটতো দুর্ঘটনা। উঁচু পাহাড়ের বাঁকে ইচ্ছেমত গতি নিয়ে চলার সময় প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে। দ্রুতগামী মোটরসাইকেল, বাস, ট্রাক, কার, মাইক্রোবাসসহ সকল প্রকার যানবাহন প্রায়ই দুর্ঘটনার পড়ে।
সড়ক দুর্ঘটনারোধে সওজের নতুন উদ্যোগ
এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে দুর্ঘটনারোধে পাহাড়ি সড়কে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ (সওজ) নিয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। বাঁক থেকে সামনের সড়ক দেখার জন্য স্থাপন করেছে কনভেক্স রোড সেফটি মিরর। এ মিরর দিয়ে সামনের সড়ক দেখা যায়। মিরর ব্যবহারে দুর্ঘটনা কমে আসবে বলে মনে করছে সড়ক বিভাগ ।
খাগড়াছড়ি ঢাকা সড়কের বাস চালক কবির ও সুমন বলেন, রোড সেফটি আয়না স্থাপন করায় দুর্ঘটনা কমে এসেছে। প্রতিদিন খাগড়াছড়িতে শতশত পর্যটক বেড়াতে আসে। আগের তুলনায় এখন চট্টগ্রাম-ঢাকা-খাগড়াছড়ি সড়কে দুইগুণ বাস বেড়েছে। পাহাড়ি সড়কের বাঁকে সেফটি আয়না স্থাপন করায় দুর্ঘটনা অনেক কমেছে। সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে আয়না স্থাপন করা হলে দুর্ঘটনা কমবে।
খাগড়াছড়ি চট্টগ্রাম সড়কের শান্তি পরিবহনের যাত্রী শান্ত ত্রিপুরা ও জ্ঞান ত্রিপুরা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি দেখা না যওয়ার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। সেফটি আয়না স্থাপন করায় এখন দুর্ঘটনা কমে আসছে।
পাহাড়ি সড়কের চালকরা বলেন, বাঁকের সামনে কোনো গাড়ি আছে কি না আয়নার মাধ্যমে দেখা যায়। বাঁকে কনভেক্স রোড সেফটি আয়না স্থাপন করায় চালকদের অনেক উপকার হয়েছে। দুর্ঘটনা অনেকটা কমেছে।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিবহণ মালিক শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ ও সড়ক পরিবহন চালক সমবায় সমিতি লিমিটেড নেতা মো. ইউনুছ বলেন, সড়কে যে হারে গাড়ি বেড়েছে সে হারে প্রশস্ত হয়নি সড়ক। এছাড়াও পর্যটন এলাকা হিসেবে বাহির থেকে আসা গাড়ি চালকদের সাবধানতা দেখা যায়। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে কনভেক্স রোড সেফটি আয়না স্থাপন করায় আগের তুলনায় দুর্ঘটনা কম ঘটছে। খাগড়াছড়ি পুলিশ পরির্দশক ( শহর ও যানবাহন ) সুপ্রিয় দেব বলেন, সড়কের উল্টোদিক থেকে আসা যানবাহন আয়নাতে দৃশমান হওয়ায় দুর্ঘটনা অনেক কম হয়। তিনি বলেন, খাগড়াছড়ি থেকে রামগড়-বাড়িয়ারহাট পর্যন্ত প্রায় ১৮০টি বাঁক রয়েছে । এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯০টি। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আয়না স্থাপন করলে দুর্ঘটনা আরো কমবে।
খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশরী সবুজ চাকমা বলেন, খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের অধীনে গত অর্থ বছরে বিভিন্ন সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে আটটি কনভেক্সরোড সেফটি মিরর স্থাপন করা হয়েছে। যেহেতু সড়ক ব্যবহারকারীরা সুফল পেয়েছে। আগামীতে আরো মিরর স্থাপন করব।









