মৌলভীবাজারের চায়ের রাজধানী খ্যাত শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার চা শিল্পের পাশাপাশি প্রসিদ্ধ মণিপুরি তাঁতশিল্প পরিচিতি রয়েছে সারা দেশে। দুটি উপজেলায় ভ্রমণে আসা পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় মনিপুরী তাঁতের শাড়ি, থ্রি-পিছ চাদর, পাঞ্জাবিসহ রকমারি পোষাক। তাদের চাহিদার পাশাপাশি মনিপুরী তাঁতশিল্পের প্রসার এখন দেশজুড়ে।
বিশেষ করে ঈদ ও পূজা পার্বনে এসব পোষাকের চাহিদা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। তবে গত দুই বছর করোনাসহ নানান রকমের দুদর্শায় দিন কেটেছে তাঁতশিল্পদের ।
বর্তমানে করোনার প্রার্দুভাব কমে আসায়। ঈদকে সামনে রেখে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মণিপুরি তাঁতশিল্পীরা। মণিপুরি এক একটা ঘর মানেই এক একটি তাঁতশিল্পের ছোট কারখানা। বছরের পর বছর ধরে সেই শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন হাজারও মণিপুরি সম্প্রদায় পরিবার।
জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, তিলকপুর, মাধবপুর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার রামনগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মণিপুরি সম্প্রদায়ের বসবাস। এসব এলাকার শতকরা ৯০ ভাগ মনিপুরী মহিলা ও পুরুষেরা তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদের নিপুন হাতের বিভিন্ন নকশাখচিত উৎপাদিত বিভিন্ন প্রকার তাঁতবস্ত্রের পোষাক এখন ঈদ পূজা পার্বনে ফ্যাশন সচেতন মানুষের কাছে ব্যাপক সমদৃত।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে তারা যেমন ব্যস্ত সময় পার করছেন তেমনি করোনা মহামারিতে বিগত দুই বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষবে বলে আসা করছেন তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িতরা।
করোনাকালীন সময় অনেকে তাদের তাঁত বুনার যন্ত্রপাতি বন্ধ রেখে সংসারের খরচ চালাতে গিয়ে নানান পেশায় জড়িয়ে পড়েছিলেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে আসায় তাঁতশিল্পিরা আবার ফিরেছেন তাদের স্বপেশায়।
শ্রীমঙ্গল রামনগর এলাকার তাঁত শিল্পী সবিতা সিনহা, জয়িতা সিংহসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন পেশার মানুষদেরকে বিগত করোনা মহামারির কঠিন সময়ে সরকার থেকে প্রণোদনা দেওয়া হলেও তাদের ভাগ্যে এসব জোটেনি। এদিকে বর্তমানে কাপড় বুনতে গিয়ে সুতা, রংসহ আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এদিকে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করে যাচ্ছেন মনিপুরী তাঁতশিল্পের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।
বিশেষ করে বিগত দুটি বছর ধরে করোনা মহামারির কারণে অনেকটা হুমকির মুখে ঠিকে আছে এ শিল্প। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো প্রণোদনা কিংবা আর্থিক সহযোগীতা না পাওয়ায় নিজস্ব উদ্যোগে তাঁতশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করেন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তা ভূবন সিংহ ।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে মণিপুরি তাঁতশিল্পের প্রসার রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও এর চাহিদা রয়েছে। এ শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারিভাবে তাদের আর্থিক অনুদান প্রদান ও পৃষ্টপোষকতা করার কথা ছিন্তাভাবনা রয়েছে প্রশাসনের।









