- ছয় দফা দাবিতে যশোরের চতুর্থ দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি
ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূর করাসহ ছয় দফা দাবিতে গতকাল বুধবার চতুর্থ দিনের মতো যশোর কালেক্টরেট ভবনের (ডিসি অফিস) সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জলমগ্ন এলাকার শত শত নারী-পুরুষ। গত রোববার থেকে যশোর জেলা প্রশাসকের অফিস চত্বরে ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির ডাকে এ কর্মসূচি শুরু হয়। মিছিল সহকারে তারা যশোর কালেক্টরেট ভবনের সামনে আসেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এ অবস্থান কর্মসূচি চলবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কর্মসূচিতে অংশ নেয়া ৭০ বছর বয়সী ভবদহ এলাকার ভুলবাড়িয়া গ্রামের হরেকৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, ‘উঠোনে জল, না খেয়ে এখানে এসেছি। যে অবস্থা সামনে ব্লক (বোরো ধান) হবে না। না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।’ পাশে বসা নেবুগাতি গ্রামের শিবপদ রায় বলে উঠলেন, ‘আমাগে বাঁচাতে সরকার অনেক পয়সা দেচ্ছে। কিন্তু সব টাকা আউট হয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী-এমপি-আমলারা নিলে সব খেয়ে নিচ্ছে। আমরা টিআরএম চাই। টিআরএম হলেই এলাকার মানুষ বেঁচে যাবে। সরাসরি সেনাবাহিনী দিয়েই এই কাজ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।’
অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরকারকে মিথ্যা তথ্য প্রদান, নদী হত্যা, জনপদের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা, ফসল-বসতবাড়ি-জানমালের ক্ষয়ক্ষতির সঙ্গে জড়িত পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রস্তাবিত প্রায় ৪৫ কোটি টাকার ‘ভবদহ ও তৎসংলগ্ন বিল এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণ’ অবিবেচনাপ্রসূত প্রকল্প বাতিল, ক্রাশ প্রোগ্রামের মাধ্যমে মাঘী পূর্ণিমার আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম চালু, আমডাঙ্গা খাল সংস্কার প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন ও কাজের স্বচ্ছতা আনতে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সেনাবাহিনীর তদারকিতে সম্পন্ন করা, ভবদহ স্লুইস গেটের ভাটিতে পাইলট চ্যানেল করতে ৫ থেকে ৬টি স্কেভেটর লাগানো, ২১, ৯ ও ৮ ভেন্টের গেট উঠানামা করানোর ব্যবস্থা এবং জনপদের মানুষের ক্ষতিপূরণ, কৃষিঋণ মওকুফ ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের ছয় দফা দাবি জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, যশোরের অভয়নগর, মনিরামপুর ও কেশবপুর উপজেলা এবং খুলনার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার অংশ বিশেষ নিয়ে ভবদহ অঞ্চল। পলি পড়ে এ অঞ্চলের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র মাধ্যম মুক্তেশ্বরী, টেকা, শ্রী ও হরি নদী নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে নদী দিয়ে পানি নামছে না। বৃষ্টি হলেই এলাকার বিলগুলো উপচে ভবদহ অঞ্চলের বেশির ভাগ অংশ তলিয়ে যায়। সৃষ্টি হয় স্থায়ী জলাবদ্ধতার। এমনকি শুকনো মৌসুমেও গ্রামগুলোর হাজার হাজার বাড়ি পানিমগ্ন হয়ে আছে। অনেক শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পানিতে ডুবে গেছে। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় অনেক জায়গা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। পানীয় জলের সংকট প্রকট। পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। কয়েক হাজার মাছের ঘের ও ফসলের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে মাচা করে থাকছে লোকজন। শত শত পরিবার উঁচু সড়কে আশ্রয় নিয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.আর









