পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম, কারচুপি ও কালোবাজারে বিক্রির দায়ে গত তিন মাসে ৭০০টি প্রতিষ্ঠানের ডিলারশিপ বাতিল করেছে ডিলারশিপ নিয়োগ ও বাতিলে করেছে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। এসব প্রতিষ্ঠানের জামানতও বাজেয়াপ্ত করেছে টিসিবি।
সরকার পণ্যে ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য টিসিবির মাধ্যমে বাজারে ছাড়ে। কিন্তু এক শ্রেণির অসাধু ডিলার বাজারের অধিক চাহিদার সুযোগে টিসিবির পণ্য নির্ধারিত স্থানে বিক্রি না করে বাড়তি দামে কালোবাজারে বিক্রি করে দেন।
টিসিবির ডিলার নিয়োগ গাইডলাইনে ডিলারশিপ বাতিলের ১৬টি কারণ বলা আছে। এর মধ্যে ৫ নম্বর শর্তটি হলো—বরাদ্দকৃত পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম, ওজন বা মূল্যে কারচুপি করলে অথবা পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করলে ডিলারশিপ বাতিল এবং জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এর পরও প্রায়ই অভিযোগ পাওয়া যায় ওজনে কম দেওয়া এবং পণ্য কালোবাজারে বিক্রির।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটা সময় ছিল, বছরে একসময় মাত্র একবার পণ্য দেওয়া হতো ডিলারদের। সেটা হতো রমজান মাসে। এতে অনেক ডিলার অবহেলা করে দীর্ঘদিন পণ্য উত্তোলন করতেন না। বর্তমানে নানা প্রয়োজনে, বিভিন্ন উপলক্ষে বছরে তিন থেকে চারবার পণ্য বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখন দুই ঈদ ছাড়াও বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে পণ্য বিক্রি করা হয়। ফলে প্রায় সারা বছরই টিসিবির পণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিলারদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। তাই নিয়ম-নীতিতেও কঠোরতা এসেছে। এতে ডিলারশিপ বাতিলও হচ্ছে বেশি।
টিসিবির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, গত মাসের ২৩ তারিখ পর্যন্ত কুমিল্লায় ২২ জন, ময়ময়নসিংহে ১৪ জন, বগুড়ায় চারজন ঝিনাইদহে সাতজন এবং খুলনায় তিনজনের ডিলারশিপ বাতিল হয়েছে বিভিন্ন কারণে।
টিসিবির হিসাব বলছে, আগে রমজানে টিসিবির সর্বোচ্চ ট্রাক থাকত ১৮০টি। কার্যক্রম চলত ২০ থেকে ২৫ দিন। সর্বশেষ গত বছর রমজানে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়েছে ৩৮ দিন। দেশব্যাপী ট্রাকের সংখ্যা ছিল ৫২০। এখন জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলায়ও পণ্য বিক্রি হয়। বেড়েছে ডিলারদের সুযোগও।
নতুন গাইডলাইন অনুসারে ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে জামানতের পরিমাণও দ্বিগুণ করে ৩০ হাজার টাকা করা হয়েছে। দুই বছরের জন্য ১০ হাজার টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ৭ নম্বর শর্ত অনুসারে পর পর তিন কিস্তি পণ্য তুলতে ব্যর্থ হলে ডিলারশিপ বাতিল করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবির বলেন, জামানতের টাকা কম থাকলে ডিলারদের মধ্যে পণ্য উত্তোলনে একধরনের অবহেলা তৈরি হয়। এ ছাড়া পণ্য বিক্রিতে অনিয়ম বেড়ে যায়। গত কয়েক মাসে যে পরিমাণ ডিলারের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে তা বিগত বছরগুলোতে হয়নি। আবার প্রয়োজনের তাগিদে নিয়োগও দেওয়া হয়েছে প্রায় সমপরিমাণ ডিলার। গত তিন মাসে ৭৫০ জন ডিলার নিয়োগ দিয়েছে টিসিবি।
আনন্দবাজার/ডব্লিউ এস









