- নদীর উপর সেতু নির্মাণ ফাইলবন্দি
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার চর নরিনাসহ ১৬ গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা চর নরিনা বাজার সংলগ্ন হুড়াসাগর নদীর উপর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত ২৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে বাঁশের সাঁকো। রাত পেরিয়ে দিনের আলো ফোঁটার সঙ্গে সঙ্গেই যেন শুর হয় জীবন যুদ্ধ। এ যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। বর্ষা এলে বাড়ে দুর্ভোগ। স্কুল-কলেজের ছেলে মেয়েরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। ঝড়বৃষ্টিতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার বিপজ্জনক হয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ একটু নজর দিলে কষ্ট ঘুচবে এ আশায় বুক বেঁধে আছেন এ অঞ্চলের হাজারো মানুষ।
স্বেচ্ছাশ্রমে তৈরি ২৫০ ফুটের সাঁকোটি দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের ২০ হাজার মানুষ ও দশটি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার তিন হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন যাতায়াত করে। সেতু না থাকায় যাতায়াত, উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে আনা-নেয়া, অন্যান্য মালামাল বহনে ভোগান্তি ও অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে। শুধু একটি বাঁশের সাঁকোই অত্র অঞ্চলের মানুষের একমাত্র ভরসা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আসলে নেতা আর কর্মীদের মুখে শুধু কথার ফুলঝুরি ফোটে। নির্বাচন শেষ হলে তাদের আর সাক্ষাৎ মিলে না। বছরের পর বছর শুধুই আশ্বাস আর আশ্বাস। উপজেলার নরিনা ইউনিয়নের চর-নরিনা গ্রামের হুরাসাগর নদীতে একটি সেতু নির্মাণের অভাবে এলাকাবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াত করছেন। ব্রিজ যে কবে নাগাদ হবে তা কেউ জানে না। নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এখনও ফাইলবন্দি। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে একটি ব্রিজ নির্মাণের। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সরকারের উচ্চমহলে বারবার ধর্না দিয়ে আশ্বাস মিললেও সেতু বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
উপজেলার নারিনা ইউনিয়ের চর নরিনা পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছেই এ সাঁকোটি অবস্থিত। এলাকাবাসি উদ্যোগ নিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকা ব্যয়ে ১২ বছর আগে এ সাঁকোটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সেই থেকে প্রতি বছর এলাকাবাসির সহযোগিতায় সাঁকোটির সংস্কারও করা হয়। তারপরও সাঁকোটি দীর্ঘ দিনের হওয়ায় এটি এখন যাতায়াতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চর নরিনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) নূর মোহাম্মদ ও সহকারি শিক্ষক আকবার আলী জানান, বৃষ্টির দিনে এবং বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াতে খুবই কষ্ট হয়ে যায়। বর্ষাকালে সাঁকোর উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। তখন নৌকা দিয়ে পারাপার হওয়ার সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে হয় এবং পানিতে পড়ে অনেক শিক্ষার্থীর বই খাতা ভিজে যায়। বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে যায়। এখানে একটি কংক্রিট ব্রিজ অতি প্রয়োজন। অবিলম্বে একটি কংক্রিট ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানান তিনি।
এদিকে নরিনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু শামীম স্থানীয় সাংসদের কাছে জোড়ালো ভাবে একটি কংক্রিট ব্রিজ নির্মাণের জন্য দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকৌশলী আহম্মেদ রফিক জানান, এতদিন পাকা সংযোগ সড়ক ছিল না, এখন পাকা সংযোগ সড়কের কাজ চলমান রয়েছে এবং হুরাসাগরের উপর একটি কংক্রিট ব্রিজের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
এদিকে শুধু আশ্বাস নয় জনদুর্ভোগ কমাতে হুড়াসাগর নদীর উপর সেতু নির্মাণে দ্রুত উদ্যোগ নিবে প্রশাসন এমন প্রত্যাশা ভুক্তভোগীদের।









