- সেচসংকটে চাষি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট-চৌদ্দগ্রাম মধ্যবর্তি স্থানে আকা বাঁকা হয়ে কাশিনগর ত্রীমোহনা থেকে শুরু হয়ে ডাকাতিয়া নদীটি ফেনী নদীতে গিয়ে পতিত হয়। গোমতী, ডাকাতিয়া, কাঁকডী, তিতাস ও মেঘনা হচ্ছে জেলার প্রধান পাঁচ নদী। সদর দক্ষিণ, লালমাই, লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট এ ৬ উপজেলার মধ্যে দিয়ে নদী প্রবাহিত।
নাঙ্গলকোট-চৌদ্দগ্রাম অংশে ১৬.৪৪ কিলোমিটার আয়তন। এটি এ দুই উপজেলাকে বিভক্তকারী ডাকাতিয়া নদী। একদিকে পানিশূন্য ডাকাতির মাটি ফেটে চৌচির।
সম্প্রতি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কাশিনগর থেকে খনন শুরুকরে দুই দু’দফায় নাঙ্গলকোট উপজেলার পূর্ব বামপাড়া ব্রিজ পর্যন্ত দায়সারা ভাবে খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই মধ্যে বোরো ইরি মৌসুমের শেষ পর্যায়ে ডাকাতিয়া নদীর পানি শুকিয়ে যাওয়ায় চরম সেচ সংকটে পড়েছেন ডাকাতিয়ার দুই পাড়ের হাজার হাজার কৃষক।
নদীটি আধুনিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে খননের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা যায়, ডাকাতিয়া নদীর নামকরণের পেছনে রয়েছে অনেক কারণ। এক সময় ডাকাতিয়া নদী তীব্র খরস্রোতা ছিল। মেঘনার এ উপনদীটি মেঘনার মতোই উত্তাল ছিল। এতে ডাকাতিয়ার করাল গ্রাসে নদীর দুই পারের মানুষ সর্বস্ব হারাত। জীবন বাঁচাতে ডাকাতিয়া পাড়ি দিতে গিয়ে বহু মানুষের সলিল সমাধি রচিত হয়েছে। ডাকাতের মতো সর্বগ্রাসী বলে এর নামকরণ হয়েছে ‘ডাকাতিয়া’ নদী।
সেই ডাকাতিয়া এখন দখল-দূষণে, নাব্যতা হারিয়ে রীতিমতো অস্তিত্ব সংকটে। লাখো মানুষের প্রাণের স্পন্দন হিসেবে পরিচিত নদীটি এখন পরিণত হয়েছে পানিশূন্য মরা খালে।
যদিও এক সময় এ নদীতে পাল তোলা নৌকা চলত। নদীটি ছিল বড় বড় লঞ্চ ও মালবাহী ট্রলারের রুট। শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা ফসল আবাদের সময় এ নদী থেকে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যেত। ছিল দেশীয় মাছের প্রাচুর্য। ডাকাতিয়া নদী ছিল এ অঞ্চলের বহু মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস ছিল মাছ শিকার। পানিশূন্য ডাকাতি নদীত বর্তমানে নাঙ্গলকোট-চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মানুষের কাছে নদীটি অভিশাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে শুকিয়ে যাওয়া নদীটির বিভিন্ন স্থানে কিছু অসাধু ব্যাক্তি বিষ দিয়ে মাছ শিকার করায় দেশীয় মাছের বংশ বৃদ্ধি ধ্বংস হচ্ছে। দুই উপজেলার মৎস্য অধিদপ্তরের কোনো তৎপরতা না থাকায় চলছে মাছের বংশ নিধন।









