করোনাভাইরাসের আঘাতে সারাবিশ্বে ধেয়ে আসছে মহামন্দা। বাংলাদেশে এ সংকট থেকে উত্তরণের জন্য এরই মধ্যে ৯৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার, যার একটি বড় অংশই ব্যাংকঋণ। ফলে এখন এই ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলার মূল দায়িত্বটা ব্যাংকের ওপরই পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর ঘোষিত নগদ লভ্যাংশ প্রদান করা হলে সংকট মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়নের ক্ষেত্রে তারল্যের ঘাটতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খাতা-কলমে দেশে বাণিজ্যিক ব্যাংকের সংখ্যা ৫৯টি। যদিও মহামন্দার অভিঘাত মোকাবেলার সামর্থ্য ঠিক কয়টি ব্যাংকের আছে, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন। এখন দেশের প্রায় সবকয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকই মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এক প্রান্তিকে ঘাটতি থেকে বের হতে পারলেও পরের প্রান্তিকেই আবার ঢুকে পড়ছে মূলধন ঘাটতির তালিকায়। বেসরকারি খাতের অন্তত ১২ টি ব্যাংকের মূলধন পরিস্থিতি এখন নাজুক। বিনিয়োগের মত তারল্য নেই অনেক ব্যাংকের হাতেই। খেলাপি ঋণের লাগাম টানতে ব্যর্থ বেশির ভাগ ব্যাংকই সঞ্চিতি সংরক্ষণে হিমশিম খাচ্ছে।
ভাঙাচোরা অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ব্যাংকগুলোর হাতে পর্যাপ্ত তারল্য সংস্থানে জোর দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। একারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ভারতের ব্যাংকগুলোর সকল প্রকার ডিভিডেন্ড ঘোষণা বন্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। আরবিআই চায়, ব্যাংকগুলো তাদের ডিভিডেন্ড ঘোষণা না করে মুনাফার অর্থ হাতে রাখুক। এতে বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে টেনে তুলতে মুনাফার অর্থও বিনিয়োগে সহযোগী হবে।
ব্র্যাক ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহসান এইচ মনসুর এ প্রসঙ্গে জানান, নগদ লভ্যাংশ ঘোষণার মধ্য দিয়ে দেশের ব্যাংকিং খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যাবে। অর্থনীতির এ দুর্যোগকালে ব্যাংক থেকে টাকা বের হয়ে যাওয়া মানেই হলো সর্বনাশ ডেকে আনা। এমনিতেই এখন দেশের ব্যাংকগুলোতে নতুন করে আমানত আসছে না বললেই চলে। বরং আমানতকারীরা প্রতিনিয়ত ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকেরও রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার পথে অবলম্বন করা উচিত।
আনন্দবাজার/তা.তা









