- বাচ্চা-খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি
হাঁস-মুরগির বাচ্চা ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গাইবান্ধায় অন্তত চার হাজার হাঁস ও মুরগির খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে গাইবান্ধার খামারগুলোতে প্রতিদিন গড়ে ৬ লাখ ডিম উৎপাদন কমেছে। মালিকরা জানিয়েছেন বড় লোকসানের মুখে পড়ে খামার মালিকরা তাদের খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। সরকারি হিসাবে সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও গাইবান্ধা সদরসহ গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ৪ হাজার ৪৬টি খামার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ খামারগুলো গাইবান্ধাসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলায় বাচ্চা ও ডিম সরবরাহ করে আসছে। ৮ লাখ মুরগি পালন করা হতো খামারগুলোতে। খামার থেকে প্রতিদিন সরবরাহ হতো অন্তত সাড়ে ৬ লাখ ডিম।
গাইবান্ধা ছাড়াও ট্রাক ভর্তি করে প্রতিদিন এ ডিম চলে যেতো ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়। তবে, খাদ্যের দাম বেশি হওয়ায় কুলিয়ে উঠতে পারছেনা খামারিরা। এতে তাদের লাভের তুলনায় লোকসান গুণতে হচ্ছে বেশি। বাধ্য হয়েই গাইবান্ধার অন্তত ৩ হাজার হাঁস-মুরগির খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ডিম ও বাচ্চা উৎপাদন হচ্ছেনা। শুন্য খামারগুলো খাঁ খাঁ করছে। খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছে অনেক খামারি।
খামারি শরিফুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ, বাচ্চা ওষধ ও খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে আমরা মুরগির খামার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছি। আগে যে দামে বাচ্চা কিনতাম এখন তার দি¦গুণ দামে কিনতে হচ্ছে বাচ্চা। একইভাবে বেড়েছে, মুরগির খাদ্য ও ওষুধের দাম।
তিনি আরও জানান, একদিনের বাচ্চা থেকে শুরু করে ৩৫ দিনের বাচ্চা ফার্মে রাখলে আমাদের প্রতিদিন খরচ হয় ২৩০ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে বাচ্চার দাম ওষুধের দাম খাবারে দাম সহ বিভিন্ন খরচ।
সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়ের খামারি সুজা মিয়া বলেন, বিভিন্ন ব্যাংক ও সমিতি থেকে উচ্চহারে সুদের টাকা নিয়ে পোল্টি ব্যবসায় নেমে এখন তার নিঃস্ব। তবে বিভিন্ন ব্যাংকে ঘুরে কোনো প্রকার ঋণ পাই না আমরা। এ ব্যবসায় বাদ দিয়ে বউ বাচ্চা নিয়ে ঢাকায় যাই কাজের জন্য।
গাইবান্ধা, জেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মাসুদার রহমান সরকার বলেন, বর্তমানে বিদ্যুৎ না থাকায় ডিম কমে গেছে অনেক খামারে। তবে কিছুটা খাবারে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই।









