সারাদেশের ৩৫৪ নমুনা এলাকা ধরে জনশুমারি-গৃহগণনা যাচাই
চলবে ১০-১৬ অক্টোবর
আগামী ১০ থেকে ১৬ অক্টোবর ২০২২ সারাদেশে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর শুমারি পরবর্তী যাচাই (পিইসি) জরিপ পরিচালিত হবে। সারাদেশের মোট ৩৫৪টি নমুনা এলাকা ধরে এই গণনা যাচাই জরিপ করা হবে। নির্বাচিত গণনা এলাকায় ৯ অক্টোবর যারা খানায় অবস্থান করেছেন তাদের তথ্য ট্যাবলেটের মাধ্যমে গণনাকারীগণ সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে সংগ্রহ করবেন। গতকাল সোমবার রাজধানী ঢাকায় সকাল ১০টায় বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে শুমারি পরবর্তী যাচাই (পিইসি) জরিপ কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্যসংগ্রহকারী, সুপারভাইজার এবং সুপারভাইজিং কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনকালে এসব কথা জানানো হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস-বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, এমপি, সম্মানীত অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। অন্যান্য অতিথির মধ্যে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মোঃ মামুন-আল-রশিদ, পরিসংখ্যান ও তথ্যবিজ্ঞান বিভাগ সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন, এনডিসি, এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক মোঃ মতিয়ার রহমান প্রমুখ।
গত ১৫-২১ জুন ২০২২ সময়ে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মাধ্যমে মূলত দেশের প্রতিটি বাসগৃহ, খানা (হাউজহোল্ড) ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ইতিপূর্বে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) পরিচালিত জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর প্রাথমিক ফলাফলের শুমারি পরবর্তী যাচাই (পিইসি) কার্যক্রম বিআইডিএস শুরু করতে যাচ্ছে।
কর্মশালায় জানানো হয়, নির্বাচিত গণনা এলাকায় ৯ অক্টোবর যারা খানায় অবস্থান করেছেন তাদের তথ্য ট্যাবলেটের মাধ্যমে বিআইডিএস কর্তৃক নিয়োগকৃত গণনাকারীগণ সরাসরি সাক্ষাৎকার পদ্ধতিতে সংগ্রহ করবেন। আগামী ১০-১৬ অক্টোবর সারাদেশে জনশুমারি ও গৃহগণনা শুমারি পরবর্তী যাচাই (পিইসি) জরিপ পরিচালিত হবে। সারাদেশের মোট ৩৫৪টি নমুনা এলাকা ধরে এই গণনা যাচাই জরিপ করা হবে।
জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর মাধ্যমে ১৫-২১ জুন সময়ে মূলত দেশের প্রতিটি বাসগৃহ, খানা (হাউজহোল্ড) ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এবারের শুমারিতে ডিজিটাল ডিভাইস ট্যাবলেট ব্যবহার করে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পারসোনাল ইন্টারভিউ (সিএপিআই) পদ্ধতিতে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সহজে ও সুনির্দিষ্টভাবে শুমারির গণনা এলাকা চিহ্নিতকরণ এবং কোন খানা (হাউজহোল্ড) গণনা থেকে বাদ না পড়া বা একাধিকবার গণনা না হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ও জিওকোড সমন্বয় করে ডিজিটাল ম্যাপ প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ম্যাপ ব্যবহার করে সাময়িকভাবে নিযুক্ত গণনাকারীগণ (প্রায় ৩.৮০ লাখ) নির্ধারিত গণনা এলাকার প্রতিটি বাসগৃহ, খানা ও ব্যক্তির তথ্য সংগ্রহ করেছেন।
জনশুমারি ও গৃহগণনার গুণগতমান নিশ্চিত করা বেশকিছু কারণে গুরুত্বপূর্ণ, জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যবস্থার ওপর সবার আস্থা তৈরিও এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। শুমারি পরবর্তী যাচাই (পিইসি) হল শুমারি জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্বকারী নমুনার পূর্ণ-গণনা যেখানে মূলশুমারির সময়ে সংগৃহিত তথ্যের সাথে প্রাপ্ত তথ্যের ম্যাচিং করা হবে। শুমারির তথ্য ব্যবহারকালে এর ব্যবহারকারীদের তথ্য সম্পর্কে দৃঢ় ধারণা প্রদান এবং শুমারির ফলাফলের ত্রুটি-বিচ্যুতি ব্যাখ্যার জন্য শুমারির মূল্যায়ন প্রয়োজন হয়। শুমারির তথ্য মূল্যায়নের এরূপ সঠিক পদ্ধতিই হচ্ছে এই শুমারি পরবর্তী যাচাই।
তাতে বলা হয়, জনশুমারি শতভাগ সঠিকভাবে সম্পাদন করা দুরূহ এবং শুমারির যে কোন স্তরে ত্রুটি-বিচ্যুতি ঘটতে পারে। শুমারিতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটি-বিচ্যুতিসমূহ দু’ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে-কভারেজ ইরোর এবং কন্টেন্ট ইরোর ১ কভারেজ ইরোর হচ্ছে শুমারিতে তথ্য সংগ্রহকালে কোন খানা বা ব্যক্তি বাদ পড়া বা দুইবার গণনা জনিত ত্রুটি। আর কন্টেন্ট ইরোর হচ্ছে শুমারিতে অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তি বা খানার বা বাসগৃহের কোন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ভুল তথ্য। পৃথিবীর বহু দেশ শুমারির গুণগত মান পরিমাপ করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে শুমারির কভারেজ ইরোর এবং কন্টেন্ট ইরোর পরিমাপে বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করেছে।
২০১১ সালে পরিচালিত আদমশুমারি, ২০১৩ সালে পরিচালিত অর্থনৈতিক শুমারি এবং ২০১৫ সালে পরিচালিত বাংলাদেশ অবস্থানরত অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক শুমারির পিইসি বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) কর্তৃক সম্পাদিত হয় যাতে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিবিএস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও বিআইডিএস এর মাধ্যমে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর পিইসি সম্পাদিত হচ্ছে। তবে, এবারই প্রথম পিইসি এর গণনাকারী ও সুপারভাইজার বিআইডিএস কর্তৃক সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে শিক্ষিত, স্মার্টফোন পরিচালনায় পারদর্শী, শুমারি/জরিপ কাজে অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পুরুষ ও মহিলাদেরকে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, পিইসি হতে প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ এর ফলাফল চূড়ান্ত করা হবে।









