- চরাঞ্চলে মহিষের খামার
- রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে মহিষ
চরে বছরে প্রায় ৬ মাস খাদ্যের তীব্র সংকট থাকে। খাদ্য সংকটের কারণে শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ার পাশাপাশি মহিষের দুধ কমে যায়। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল ৪ মাস নদীর লবণ পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক মহিষ মারা যায়। এতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। সরকারের কাছে দাবি চরে হাউজসহ পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি উন্নতজাতের ঘাস উৎপাদনে উদ্যোগ নেওয়া
মহিষ পালনে বিশেষ খ্যাতি রয়েছে ভোলার খামারিদের। প্রতিনিয়ত এখানে বাড়ছে খামারীর সংখ্যা। এখানে চরাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মহিষ পালন করা হয়। তবে চরাঞ্চলে খাদ্য ও মিষ্টি পানির তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছে ছোট বড় অর্ধশতাধিক মহিষের খামারি। পাশাপাশি বিভিন্ন রোগ বালাইর কারণে হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। খামারে মারা যাচ্ছে অসুস্থ্য মহিষ। এতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। তবে এনিয়ে আতংকিত না হয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ প্রাণিসম্পদ দপ্তরের।
খামারীরা জানান, জেলার চরাঞ্চলে অনেক বছর ধরে গড়ে উঠেছে ব্যক্তি পর্যায়ে মহিষের খামার। এসব খামার থেকে প্রধান আয়ের উৎস দুধ থেকে দধি তৈরি করে বিক্রি করা ও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আশা বেপারীদের কাছে মহিষ বিক্রি করা। দধি বিক্রি করে ভালো আয় হওয়ায় বাড়ছে খামারীর সংখ্যা। তবে চরাঞ্চলে খাদ্য ও মিষ্টি পানির তীব্র সংকটের সঙ্গে দেখা দিয়েছে রোগবালাই। খাদ্য ও পানি সংকটে মহিষগুলি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় রোগাক্রান্ত হওয়ায় পাশাপাশি দুধও কমে গেছে। চরাঞ্চলের খামারীদের একমাত্র পানির উৎস মেঘনা নদী। আর বছরের জানুয়ারী থেকে এপ্রিল ৪ মাস নদীর পানিতে প্রচুর লবণাক্ততা থাকায় মিষ্টি পানি ও খাদ্যের চরম সংকট দেখা দেয়। বছরের এ সময় খামারীরা কৃত্রিমভাবে মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করলেও মহিষের সংখ্যার তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। তাই মহিষের সম্ভবনাময় এ খাতকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজন সরকারীভাবে চরে হাউজসহ গভীর নলকূপ স্থাপন করা। তা না হলে মহিষের এ সম্ভাবনাময় শিল্পটি ধ্বংস হয়ে পথে বসতে পারে এসব খামারীরা। চরগুলিতে চর্ম ও বাতরোগে আক্রান্ত হচ্ছে মহিষ। জেলা থেকে চরগুলির দুরত্ব বেশি হওয়ায় যথা সময়ে চিকিৎসা দিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
এক সময় এ জেলায় ক্ষুরারোগ মহিষ খামারীদের মাঝে আতংক ছড়ালেও বর্তমানে চরের সকল মহিষকে প্রাণিসম্পদ দপ্তর বিনামূল্যে দুইবার রাশিয়ান তৈরী টিকা প্রদান করে। যার ফলে এখন চরের মহিষ খামারীরা সম্পূর্ণভাবে ক্ষুরা রোগ থেকে মুক্ত রয়েছেন। এছাড়াও মহিষ উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে মহিষ খামারীদেরকে ১২০ কেজি ভিটামিন মিনারেল পাউডার ও পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনামূল্যে কৃমির ঔষধ সরবরাহ করেন জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে।
এ বিষয়ে মহিষের খামারী নুর ইসলাম (বাবুল মাঝি) বলেন, চরে আমরা যারা মহিষ পালন করি বছরে প্রায় ৬ মাস খাদ্যের তীব্র সংকট থাকে। খাদ্য সংকটের কারণে মহিষ শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়ায় দুধ কমে যায়। অন্যদিকে জানুয়ারী থেকে এপ্রিল চারমাস নদীর লবণ পানি পান করে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অনেক মহিষ মারা যায়। এতে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হয়। তাই সরকারের কাছে আমাদের দাবি চরে হাউজসহ পর্যাপ্ত গভীর নলকূপ স্থাপনের পাশাপাশি উন্নতজাতের ঘাস উৎপদান করা।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ইন্দ্রজিৎ কুমার মন্ডল বলেন, বর্তমান সময়ে নদীতে লবণপানি থাকায় মহিষের ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মহিষ মারা যায়। এতে খামারিদের আতংকিত না হয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের চিকিৎসকদের সাথে পরামর্শ করতে বলেন। পাশাপাশি নদীতে বছরের চার মাস লবণপানি থাকা কালীন মিষ্টি পানির জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে হাউজসহ গভীর নলকূপ স্থাপনের ব্যবস্থা করবো।









