সিরজাগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ, পোতাজিয়া ও কায়েমপুর ইউনিয়নে কৃষিজমি আর জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে প্রায় ১৭টি ইটভাটা। এসবের অধিকাংশের বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না নেয়ার পাশাপাশি কেবল অনুমতির আবেদন জমা দিয়েই ইটভাটা স্থাপন করে উৎপাদনে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
ইটভাটায় গাছের গুঁড়ি পোড়ানোয় বিষাক্ত কালো ধোঁয়া ও বর্জ্যে বিপন্ন হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ। হুমকির মুখে পড়েছে ভাটা সংলগ্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, নদী ও গ্রামীণ জনপদের জনস্বাস্থ্য। অবৈধ ইটভাটার সৃষ্ট দূষণে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বয়স্ক ও শিশুরা। ঢিলেঢালা অভিযানে বেপরোয়া মালিক কর্তৃপক্ষ। প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রভাবশালীদের মালিকানায় গড়ে উঠা অবৈধ এসব ইটভাটা বন্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নেই কার্যকর কোনো ভূমিকা।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইনে (২০১৩) নিষেধ থাকা সত্ত্বেও বেশির ভাগ ভাটাই স্থাপন করা হয়েছে বা হচ্ছে লোকালয় তথা মানুষের বসতবাড়ি, কৃষিজমিতে, নদীর তীরে ও স্কুল কলেজের ৩’শ মিটারের মধ্যে। ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে আবাদি জমির উপরিভাগ, উঁচু ফসলি জমির মাটি, যা আইনে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কাঠ ও অত্যন্ত নিম্নমানের কয়লা পোড়ানো এবং স্বল্প উচ্চতার চিমনি ব্যবহার করায় ইটভাটাগুলোতে নির্গত হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া। সে ধোঁয়া বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে চার পাশে। ফলে পরিবেশ বিপর্যয় ও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে এখানকার জনস্বাস্থ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসন একেবারেই নীরব। মাঝে মধ্যে অভিযান চললেও তা খুব একটা কার্যকর হয় না। ঢিলেঢালা অভিযানে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ভাটা মালিকগণ। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি তাদের।
সর্বশেষ গত ২০২১ সালের ১১ জানুয়ারী পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোজিনা আক্তার ও সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মঈন উদ্দিন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ২টি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেয় ও ইট ভাটায় লাইসন্সে ও পরবিশে অধদিপ্তররে ছাড়পত্র না থাকার কারনে ২টি ইটভাটাকে ৪ লাখ করে ৮ লাখ টাকা জরিমানা করে কিন্ত তার কিছু দিনপর হতেই উক্ত ইট ভাটা মালিক আদালতের আদেশ অমান্য করে পুনরায় ভাটার কার্যক্রম শুরু করে। অথচ স্থানীয় প্রশাসন অজ্ঞাত কারণে এদের বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না বা অদ্যবধী নেই নি।
আরও অভিযোগ আছে স্থানীয় ইটভাটার মালিকদের কেউ কেউ কৃষকদের ম্যানেজ করে জমি লিজ নিয়ে অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন করছেন। ইটভাটা এলাকায় অধিকাংশ গরিব কৃষক হওয়ায় তাদের ধান চাষের পাওয়া মুনাফা থেকেও অধিক মুনাফা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জমিগুলো অগ্রিম বন্ধকের মতো করে চুক্তিতে নেওয়া হয়।
নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক উপজেলায় অবস্থিত কয়েকটি ভাটা মালিকের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, কয়েকটি ইটভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া থাকলেও তারা গত ২ বছর যাবৎ হালনাগাত করতে পারে নাই অথবা তদেরকে দেইনি অত্র দপ্তর। আর বাকিগুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রবিহীন ইটভাটা পরিচালনার কথা স্বীকার করে বলেন, ইটভাটা পরিচালনার যে নিয়ম তা কেউ মানে না। এভাবে মানাও সম্ভব নয়। আর যেখানে যে পরিমাণ খরচ তা আমরা করেই পরিচালনা করছি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ইট ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল আলম প্রতিবেদকে প্রথমে বলেন, সবগুলোর ভাটার অনুমতি আছে। সবাই অনুমতি পেয়েছে এমন প্রশ্নের জব্বাবে তিনি বলেন, সবাই দরখাস্ত করেছে আমাদের মৌখিক ভাবে অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এব্যপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদিয়া আফরিন প্রতিবেদককে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে কোনো জায়গাই আপাতত ছাড়পত্র দেওয়া নাই। এমনকি পরিবেশ অধিদপ্তর বলেনাই যে করা যাবে না এবং আমাদের বন্ধ করার কোন নির্দেশনা নেই। তবে আমরা উপর থেকে নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।
এবিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর জানান, শরিষাকোল, তালগাছী ও মাকোরকোলার বিশ্বরোড সংলগ্ন ইটভাটাগুলোর কোন পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। যাদের আছে তাদেরগুলোও নবানয় দেওয়া হয়নি এবং অনেকে আবেদন করছে। তিনি আরও জানান, যাচাই বাছাই করে শিগগিরই অবৈধ ইটভাটা বন্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।









