ব্যাংকের শাখা না থাকলেও এখন সারাদেশের মানুষ ব্যাংকিং সেবা পাচ্ছে অনেকটা ঘরে বসেই। করোনা মহামারির মধ্যে পরিচালন ব্যয় কমাতে ব্যাংকগুলো শাখার পরিবর্তে বিকল্প সেবার মাধ্যম হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিং ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। এতে গ্রামীণ মানুষ আরো বেশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে পারছেন।
এতে করোনার মধ্যেও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ফলে দিন দিন চাঙ্গা হয়ে উঠছে গ্রামীণ অর্থনীতি। সেবাগ্রহীতারা বলছেন, এখন অনেকটা ঘরে বসেই ব্যাংকিং সেবা পাওয়া যাচ্ছে। যে কারণে ঋণ পাওয়া কিংবা ব্যাংকে লেনদেন করা আগের চেয়ে বেশি সহজ হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বিভাগের সর্বশেষ হিসাবে দেখা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের এক কোটি ২৯ লাখ ১১ হাজার ৫৪১টি হিসাবের মধ্যে ৮৬ দশমিক ১৮ শতাংশই গ্রামের। বাকিটা শহরের অধিবাসীদের। আর এসব হিসাবের মধ্যে নারীদের অংশগ্রহণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে নারীদের হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ লাখ ৪২ হাজার ৯৪৬ টি। যা মোট হিসাবের ৪৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস শেষে মোট এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ২৬১ কোটি টাকা। আর গত ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর শেষে যা ছিল ১৩ হাজার ৪০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ ৭০ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়েছে। তিন মাসের ব্যবধানে আমানতের পরিমাণ বেড়েছে ৯ দশমিক ২৪ শতাংশ।
এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে একদিকে কোনো খরচ ছাড়াই ব্যাংকের লাভ করার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যাও বাড়ছে কোনো খরচ ছাড়াই। আর গ্রাহকরাও সহজেই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে অ্যাকাউন্ট খুলতে পারছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো শুধু হিসাব খোলা/পরিচালনা করা এবং রেমিটেন্স বিতরণের মধ্যেই সীমাবব্ধ নেই বরং, ঋণ বিতরণের মাধ্যমে আয় উপার্জনকারী কর্মকর্তাকে উৎসাহিত করে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখার ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পর ২০১৪ সালে প্রথম এ সেবা চালু করে বেসরকারি খাতের ব্যাংক এশিয়া। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে শুধু টাকা উত্তোলন বা জমা হচ্ছে না। এর মাধ্যমে ঋণ বিতরণও হচ্ছে।
গত বছরের (২০২০) সেপ্টেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ছিল মাত্র এক হাজার ৮৬ কোটি টাকা। আর গত সেপ্টেম্বর (২০২১) শেষে তা দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৯৯৭ কোটি টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বিতরণের হার বেড়েছে ২৬৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। আর তিন মাসের ব্যবধানে ২৫ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেড়েছে ঋণ বিতরণ। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ঋণই গ্রামাঞ্চলে বিতরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের নীতিমালা মেনেই কাজ করছে ব্যাংকগুলো।
আনন্দবাজার/শহক









