গ্রহের জনসংখ্যা ছাড়াল ৮০০ কোটি
- ২০৫০ সালে হবে ৯৭০ কোটি
পৃথিবীর জনসংখ্যা ৮০০ কোটি ছাড়িয়েছে। ৮০০ কোটিতম মানুষটির জন্ম হয়েছে এশিয়ায়। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ডোমিটারে প্রকাশিত এক তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বে ৫৮ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ জন্মগ্রহণ করেছেন। জনসংখ্যার এ বৃদ্ধিকে মানব ইতিহাসে একটি অন্যন্য অর্জন হিসেবে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। তাদের মতে, বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় উন্নতি, পুষ্টি, ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি এবং উন্নত ওষুধের কারণে মানুষের গড় আয়ু সামান্য বেড়েছে। আর এ বিষয়টি জনসংখ্যা বাড়াতে সহায়ক হয়েছে। জাতিসংঘের এক পরিসংখ্যান বলছে, ২০৫০ সাল নাগাদ পৃথিবীর জনসংখ্যা হবে ৯৭০ কোটি।
জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড পপুলেশন প্রসপেক্ট ২০২২-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথিবীর পরবর্তী ১০০ কোটি মানুষের বেশিরভাগের জন্ম হবে আটটি দেশে। সেগুলো হলো- কঙ্গো, মিসর, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও তানজানিয়া।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ তাদের এক প্রতিবেদনে জানায়, বর্তমানে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরই বসবাস মাত্র সাতটি দেশে (চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া এবং ব্রাজিলে)। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি জনবহুল দেশ হলো চীন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীনকে টপকে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি জনবহুল দেশে পরিণত হবে ভারত। তারা আরও জানিয়েছে, ২০ শতকের মাঝামাঝি সময়ে জন্মহার বাড়লেও এখন জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ কমে আসা শুরু হবে।
বিশ্বে জনসংখ্যা ৭০০ কোটি থেকে ৮০০ কোটি হতে সময় লেগেছে প্রায় ১২ বছর। বলা হচ্ছে, এ সংখ্যা ৯০০ কোটির মাইলফলক স্পর্শ করতে সময় লাগবে ১৫ বছর। মানে ২০৩৭ সালে জনসংখ্যা ৯০০ কোটিতে পৌঁছাবে। অন্যদিকে বিশ্বের জনসংখ্যা ১ হাজার কোটিতে স্পর্শ করবে ২০৮০ সালে। এ বিষয়টিই নির্দেশ করছে সামনের কয়েক দশকে জনসংখ্যা বৃদ্ধির পরিমাণ কমে আসবে।
এদিকে ২০১৯ সালে মানুষের গড় আয়ু ছিল ৭২.৮ বছর। ১৯৯০ সাল থেকে যা প্রায় ৯ বছর বেড়েছিল। গড় আয়ু বাড়ার এ ধারা অব্যাহত থাকবে বলে বলা হচ্ছে এবং ২০২৫ সালে এটি ৭৭.২ বছর বয়সে দাঁড়াবে। এদিকে ইউনাইটেড নেশনস পপুলেশন ফান্ডের (ইউএনএফপিএ) নির্বাহী পরিচালক ডা. নাতালিয়া কানেম জনসংখ্যা নিয়ে ভীত না হয়ে নারী-শিশু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি নজর বাড়াতে সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
ডা. নাতালিয়া বলেছেন, এই মুহূর্তটি সবাই উদযাপন করতে পারবে না, সেটা আমি বুঝতে পারি। কেউ কেউ উদ্বেগে আছেন, আমাদের পৃথিবীতে জনসংখ্যা তো অত্যধিক। সেই তুলনায় জীবন বাঁচানোর রসদ তো অপর্যাপ্ত। তবে আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানুষের এই সংখ্যা আতঙ্কের কারণ হওয়া উচিত নয়।
ডা. নাতালিয়া কানেম যুক্তি দিয়ে বলেন, অতীতে বিভিন্ন দেশ বিভিন্নভাবে জনসংখ্যা হ্রাস-বৃদ্ধির প্রবণতা পাল্টে দিতে চেয়েছে। কখনও কঠোর এক সন্তান নীতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে, কখনও আবার পরিবার পরিকল্পনা বা গর্ভপাতে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে। সেসব নীতির কোনোটাই মূল উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারেনি, বরং তার ফল হয়েছে বিপজ্জনক।
নাতালিয়া আরও বলেছেন, ফের আমরা মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন হতে দিতে পারি না, তেমন কিছু করতে পারি না, যেখানে একজন নারী কখন গর্ভধারণ করবেন বা আদৌ গর্ভধারণ করবেন কিনা, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়। আমাদের যেখানে নজর দেওয়া উচিত, সেখান থেকে আমাদের মনোযোগ সরিয়ে নিতে পারে এই জনসংখ্যা আতঙ্ক।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, মানুষের সংখ্যায় অত মনোযোগ না দিয়ে মনোযোগটা দেওয়া দরকার মানুষের ওপর। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, যে পৃথিবী আমরা গড়তে চাই, সেখানে ৮০০ কোটি মানুষ মানে ৮০০ কোটি সুযোগ তৈরির সম্ভানা, যারা মর্যাদার সঙ্গে পরিপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পাবে।









