পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত লোকসানি কোম্পানি আজিজ পাইপসের শেয়ার দর অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। শেয়ারটির দর গত পনের কার্ষদিবসে বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ টাকা। এই সময় শেয়ারটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৭ কোটি টাকা।
শেয়ার দরের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা বিনিয়োগকারীদের মাঝে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে কোম্পানিটিরি শেয়ার দর কেন এতো বাড়ছে, তার প্রকৃত কারণ জানে না বলে জানান আজিজ পাইপসের কর্তৃপক্ষ।
পুঁজিবাজারের সংশ্লিষ্টরা বলেন, আজিজ পাইপসের ব্যবসা লোকসান অবস্থায় রয়েছে। এরপর সবশেষ দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির লোকসান আরো বড় হয়েছে। লোকসান পরও কোম্পানির শেয়ার দর অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। গত পনের কার্যদিবসে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজার মূল্যে বেড়েছে ৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। অপরদিকে, ওই সময়ে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের মাধ্যমে বাজার মূল্যে বেড়েছে ৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
শেয়ার দর বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, আজিজ পাইপসের শেয়ার দর বৃদ্ধি বিষয়টি কমিশনের নজরে পড়েছে। দর বৃদ্ধির পেছনে কেউ জড়িত আছে কিনা, তা বিএসইসি খতিয়ে দেখছে। অপরদিকে কোম্পানিটির শেয়ার দর বৃদ্ধির প্রসঙ্গে কোম্পানির কর্মকর্তারা কথা বলতে নারাজ। তবে তারা জানান, শেয়ার দর কেন বৃদ্ধি পাচ্ছে জানি না। যা বলার ডিএসইকে জানিয়েছে।
গত ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানিটির দ্বিতীয় প্রান্তিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা যায়, কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরের (২০২১-২০২২) দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) লোকসান বৃত্ত আগের চেয়ে বড় হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ৬৬ পয়সা। যেখানে আগের অর্থবছরের (২০২০-২০২১) দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৪ পয়সা। চলতি অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১ টাতা ৯৯ পয়সা। আগের অর্থবছরের দুই প্রান্তিকে (জুলাই-ডিসেম্বর) শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ১১ পয়সা। ২০২১ সালে ডিসেম্বরে শেয়ার প্রতি সম্পদমূল্যে দাঁড়িয়েছে নেগেটিভ ১৭ দশমিক শূন্য ৬ টাকা।
শেয়ার দর বাড়ার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) থেকে আজিজ পাইপসকে এক নোটিশ পাঠিয়েছিল। ওই নোটিশের জবাবে কোম্পানিটি গত ২০ ফেব্রুয়ারি ডিএসইকে জানায়, শেয়ার দর এভাবে বাড়ার পেছনে কোনো কারণ নেই।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা মনে করেন, গত পনের কার্যদিবসে আজিজ পাইপসের শেয়ার প্রতি দর প্রায় ১৪ টাকা বেড়ে গত মঙ্গলবার দর দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৮০ টাকায়। কোন পরিকল্পনায় শেয়ার দর এভাবে বেড়েছে তার কারণ জানা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই শেয়ারটির দর বাড়ার প্রতি বিশেষ নজর দিতে পুঁজিবাজার রেগুরেটরকে অনুরোধ করেন।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি কোম্পানির শেয়ার দর দাঁড়িয়েছে ১১৪ দশমিক ৮০ টাকা। এর আগে ১ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ১০১ টাকা। মাত্র পনের কার্যদিবসে কোম্পানিটির শেয়ার দর বেড়েছে ১৩ দশমিক ৮০ টাকা। কোম্পানিটির শেয়ার সংখ্যা ৫৩ লাখ ৪৭ লাখ ১২৫টি। সেই হিসাবে গত ২২ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির মোট শেয়ারের মাধ্যমে বাজার মূল্যে হয়েছে ৬১ কোটি ৩৮ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা। গত ১ ফেব্রুয়ারি শেয়ারের বাজার মূল্যে ছিল ৫৪ কোটি ৫৯ হাজার ৬২৫ টাকা। পনের কার্যদিবসে ব্যবধানে কোম্পানিটির মোট শেয়ারের বাজার মূল্যে বেড়েছে ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৯০ হাজার ৩২৫ টাকা। মোট শেয়ারের মধ্যে ৭৬ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ ধারণ করেছে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারী। সেই হিসেবে এসব বিনিয়োগকারীদের শেয়ারের বাজার মূল্যে বেড়েছে ৫ কোটি ৬১ লাখ ৩২ হাজার ৩০০ টাকা। গত পনের কার্যদিবসে বাজার মূল্যে এতো বৃদ্ধি, এটা কোনো মতে মানতে রাজি নন, এ কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা বিনিয়োগকারীরা। তাই শেয়ার দর বাড়ার কারণ জানার জন্য সংশ্লিষ্ট রেগুলেটরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তারা।
উল্লেখ্য ১৯৮৬ সালে পুঁজিবাজারে আসা আজিজ পাইপসের অনুমোদিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৫ কোটি ৩৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। শেয়ার সংখ্যা ৫৩ লাখ ৪৭ হাজার ১২৫টি শেয়ার। রির্জাভ নেগেটিভ ২৪ কোটি ৯ লাখ টাকা। কোম্পানিটির দীঘমেয়াদি লোন ১২ কোটি ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং স্বল্পমেয়াদি লোন ৩ কোটি ৬৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ারের ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ মালিকানা রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে।
এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও বাকি ৬৯ দশমিক ৩২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে।
আনন্দবাজার/শহক









