- মিলছে না সরকার নির্ধারিত দামে
- খোলা চিনি ৯০, প্যাকেট ১০০-১০৫
- খোলা পাম তেল ১৩৮-১৪০ টাকায়
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিকেজি প্যাকেটজাত চিনি সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা, খোলা চিনি ৮৪ টাকা এবং পাম অয়েলের লিটার ১৩৩ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল গত বৃহস্পতিবার। যা রবিবার থেকে কার্যকর করার কথা ছিল। তবে সরকারি নির্দেশনার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না বাজারে। আগের দামেই কেনাবেচা চলছে চিনি ও তেলের।
রাজধানীর বাজারগুলোতে গতকাল চিনি ও পামতেলের দাম কমানোর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খুচরা বাজারে প্রতিকেজি খোলা চিনি ৯০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আর প্যাকেটজাত চিনির দাম ছিল ১০০ থেকে ১০৫ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, বাজারে প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ১৩৮ থেকে ১৪০ টাকায়।
সরকার নির্ধারিত দামে তেল চিনি কিনতে পারছেন না ক্রেতারা। বিষয়টি স্বীকার করছে সরকারি বাজার মনিটরিং প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির সর্বশেষ তথ্য মতে, রাজধানীতে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা।
রাজধানীর বাজারজুড়ে দেখা গেছে, ভোজ্যতেলের মধ্যে খোলা সয়াবিনের কেজি ১৭২ থেকে ১৭৫ টাকা। এক লিটারের বোতলজাত তেল ১৮৫ টাকা থেকে ১৯২ টাকা। ৫ লিটারের তেল ৯২০ থেকে ৯৪৫ টাকা। খোলা পাম অয়েল ১২৬ থেকে ১৩৫ টাকা। আর সুপার পাম অয়েল ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা লিটার।
জানতে চাইলে ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকার নির্ধারণ করে দিলে কী হবে। দাম তো কমার পরিবর্তে উল্টো বেড়েছে। বিশেষ করে চিনির দাম বস্তাপ্রতি ১০০ টাকা বেড়েছে। ৪২০০ টাকার চিনির বস্তা কিনতে হচ্ছে ৪ হাজার ৩০০ টাকায়। প্রতিকেজি চিনির কেনা দাম ৮৬ টাকা। তার সঙ্গে যাতায়াত খরচ যোগ করলে বিক্রি দাম বেড়ে তো যাবেই।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাম নির্ধারণের ঘোষণা জানেন না অনেক ব্যবসায়ী। তারা বলছেন, পত্রপত্রিকায় মাধ্যমে শুনছি, চিনি আর তেলের দাম কমানো হয়েছে। রবিবার থেকে কার্যকরি হবে। তবে নির্ধারিত নতুন দামে পাইকারি বাজারে আসার পর দাম হয়তো কমতে পারে। তবে আগামী সপ্তাহ লাগবেই খুচরা বাজারে দাম কমতে।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে, রবিবার থেকে প্রতি কেজি প্যাকেটজাত চিনি সর্বোচ্চ ৮৯ টাকা, খোলা চিনি ৮৪ টাকা এবং পাম তেলের লিটার ১৩৩ টাকায় বিক্রি হবে।
বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পাম তেল ও চিনির দাম নির্ধারণ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মিলগেট, পরিবেশক ও খুচরা পর্যায়ের জন্য আলাদা দাম ঠিক করে দেওয়া হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, প্রতি লিটার পাম সুপার খোলা তেল মিলগেট থেকে ১২৮ টাকায় কিনে পরিবেশকরা ১৩০ টাকায় বিক্রি করবেন। আর খুচরা পর্যায়ে তা বিক্রি হবে ১৩৩ টাকায়।
প্রতি কেজি খোলা চিনি মিলগেটে ৭৯ টাকায় কিনে পরিবেশক পর্যায়ে ৮১ টাকা এবং খুচরা বিক্রি হবে ৮৪ টাকা। আর প্যাকেটজাত চিনি মিলগেটে ৮২ টাকায় কিনে পরিবেশকরা বিক্রি করবে ৮৪ টাকা। ভোক্তাদের কাছে চিনি বিক্রি হবে ৮৯ টাকায়। এতদিন খুচরা পর্যায়ে প্রতি লিটার পাম সুপার খোলা তেল ১৪৫ টাকা ও খোলা চিনির দাম ছিল ৯০ টাকা। সে হিসাবে পাম তেলের দাম কমেছে ১২ টাকা আর চিনিতে দাম কমলো ৬ টাকা।
এক ব্যবসায়ী বললেন, খুচরা খোলা চিনি বিক্রি করছি ৯০ টাকা কেজি। তবে যদি পাইকারি ৫-১০ কেজি নেন, তাদের কাছে ৮৮ টাকা কেজি বিক্রি করছি। শুনেছি আজ (রবিবার) থেকে সরকার চিনির কেজি ৮৪ টাকা নির্ধারণ করেছে। কিন্তু আমার কেনাই পড়েছে ৮৬ টাকা দরে। পাম অয়েল কেজি বিক্রি করছি ১৩৮ থেকে ৪০ টাকা। তবে পাইকারি ১৩৫ টাকা কেজি। সপ্তাহ দুয়েক আগেও পাম অয়েলের দাম কমেছিল। এখনো সেই দামে বিক্রি করছি।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, সরকার চিনি ও তেলের দাম কমালেও আমরা কম দামে কিনতে পারিনি। আমরা না পেলে জনগণ কীভাবে পাবে। সরকার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে কিন্তু ব্যবসায়ীরা তো কম দামে মাল ছাড়ছে না। নতুন দামের চিনি ও তেল আসতে আসতে আবারও দাম বাড়িয়ে দেবে ব্যবসায়ীরা।









