বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত রয়েছেন সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্য। বিদেশে থাকাকালীন অর্জিত অর্থ যদি তারা বৈধ পথে দেশে পাঠায় তাহলে তাদেরও রেমিট্যান্সের অর্থের বিপরীতে দেয়া হবে নগদ প্রণোদনা। গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্র ও নীতি বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে। সার্কুলারে বলা হয়, এখন থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন থেকে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অর্জিত রেমিট্যান্সের বিপরীতে নগদ সহায়তা প্রদান করা হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত সেনা, নৌ, বিমান ও পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের প্রাপ্ত অর্থের বিপরীতে প্রণোদনার অর্থ ছাড়করণের জন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থা তাদের সদস্যদের প্রত্যেকের প্রাপ্যতার তালিকাসহ তাদের ব্যাংক বরাবর আবেদন করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ বাহিনীর আবেদনকৃত অর্থ ছাড়করণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর জন্য তৈরি তালিকাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস্ অ্যান্ড বাজেটিং ডিপার্টমেন্ট (এবিডি) বরাবর আবেদন করতে হবে।
সরকার থেকে তহবিল পাওয়া সাপেক্ষে ব্যাংক বরাবর অর্থ ছাড় করবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট ব্যাংক সশস্ত্র বাহিনী প্রদত্ত তালিকা মোতাবেক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের স্ব স্ব ব্যাংক হিসাবে নগদ সহায়তা জমা করবে। এই নগদ সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে ১ জুলাই ২০১৯ হতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের ওপর ২ শতাংশ নগদ এবং ১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের ওপর ২.৫ শতাংশ নগদ সহায়তা প্রযোজ্য হবে।
এদিকে গত বছর ২০২১ সালের তুলনায় চলতি বছরে রেমিট্যান্স কমার পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ২০২১ সালে এসেছিল ২২ বিলিয়ন ডলার। চলতি বছর অর্থাৎ ২০২২ সাল শেষে এই অঙ্ক ২১ বিলিয়নে নেমে আসার পূর্বাভাস দিল বিশ্বব্যাংক।
সংস্থাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ব্যাকিং চ্যানেলের বাইরে বড় অঙ্কের রেমিট্যান্স আসছে দেশে। এর ফলে অন্তত ৭ শতাংশ কম আসবে ব্যাংকিং চ্যানেলে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ফলে ব্যালেন্স-অব-পেমেন্টে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। এজন্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাচ্ছে। রেমিট্যান্সে গতি বাড়াতে আড়াই শতাংশ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া বিদেশিদের জমানো অর্থে সুদ হারও বাড়ানো হয়েছে।
বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনতে প্রমাণপত্র দেখানোর বিধি নিশেষও তুলে দেওয়া হয়েছে। এর পরেও গত বছরের তুলনায় কম রেমিট্যান্স আসবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর প্রবাসী আয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের ‘অভিবাসন ও উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে গ্লোবাল নলেজ পার্টনারশিপ অন মাইগ্রেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (নোমাড) এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এখন বিশ্ব জুড়েই প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ জনক্তির চাহিদা বাড়ছে। জরিপ করে দেখা গেছে, শ্রমবাজারে ৭০ শতাংশ এখন ডিজিটাল জ্ঞানসম্পন্ন হওয়া জরুরি। তবে আশার দিকও রয়েছে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নির্ভরই নয়, সম্প্রতি বসনিয়া এবং হারজেগোভিনাতে বাংলাদেশি প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন শ্রমিকও নিয়োগ হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশে ২২ দশমিক ২০ বিলিয়ন ২ হাজার ২২০ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে। সেই সুবাদে ঐ বছরে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বিশ্বে সপ্তম অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। চলতি বছর শেষে তা ১২০ কোটি বা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার কমে ২১ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসবে। আর এতে প্রবাসী আয় প্রাপ্তিতে বিশ্বে নবম স্থানে নেমে আসবে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে প্রবাসী আয় এসেছিল ২ হাজার ১৭৫ কোটি (২১.৭৫ বিলিয়ন) ডলার।
গত মার্চ মাসে ২৪ শতাংশ উল্লম্ফন ছাড়া গত ১০ মাসে দেশে প্রবাসী আয়ে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। এপ্রিলে ২০১ কোটি মার্কিন ডলারের প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম। গত বছরের এপ্রিলে ২০৭ কোটি ডলারের প্রবাসী আয় এসেছিল। সবশেষ অক্টোবর মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় আয় কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। অক্টোবরে প্রবাসী আয় এসেছে ১৬৪ কোটি ডলার। গত বছরের অক্টোবরে এসেছিল ২১০ কোটি ডলার।
আনন্দবাজার/শহক









