- এক মাস না যেতেই ধসে গেছে সড়ক
- নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার
- গাইডওয়ালসহ প্রায় ৬০ স্থানে ধস
নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করেই সিরাজগঞ্জ শাহজাদপুর উপজেলায় গাড়াদহ ইউনিয়ন ও হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নে অনিয়মের সঙ্গে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ করেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নির্মাণ কাজে শুরু থেকেই অনিয়মের আশ্রয় নিলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দায়িত্বরত কর্মকর্তার কোনো ভূমিকা নেই বলেও জানায় এলাকাবাসী।
নিম্নমানের কাজ হওয়ায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার না পেয়ে ক্ষুদ্ধ হয়ে এলাকাবাসী রাস্তাটি পুনঃনির্মাণ না করা পর্যন্ত বিল প্রদান বন্ধ রাখার জন্য গণস্বাক্ষরীত অভিযোগ প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা অধিদপ্তরের ২০২১-২২ অর্থ বছরে হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের অধীনে গাড়াদহ ইউনিয়নের পুরানটেপরী মৃত সাবের প্রাং এর বাড়ি থেকে পুরানটেপরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম পার্শ্ব পর্যন্ত ১ কিমি. এবং হাবিবুল্লাহ নগর ইউনিয়নের রতনকান্দি উত্তরপাড়া পাকার মাথা থেকে এচান এর বাড়ি পর্যন্ত অর্ধ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ করা হয়েছে। মোট দেড় কিলোমিটার রাস্তার প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯২৫ টাকা। রাস্তাটি নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রানা কোং।
এলাকাবাসীর লিখিত অভিযোগ ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিডিউল মোতাবেক রাস্তাটি নির্মাণ না করায় দেড় কিলোমিটার রাস্তায় ছোট বড় প্রায় ৬০ স্থানে ধসে গেছে। রাস্তার এজিং এর পাশে দেয়নি কোনো মাটি। ভেঙ্গে গেছে রাস্তা রক্ষা করার জন্য তৈরি গাইডওয়াল।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ১নং ইটের পরিবর্তে ২ নং ইট ব্যাবহার এবং ইটের সোলিং করে তার উপর হেরিং বোন বন্ড করার কথা থাকলেও ইটের সোলিং না দিয়ে ইটের খোয়ার উপর হেরিং বোন বন্ড করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকাবাসী ঠিকাদারের সাইট ম্যানেজারকে শিডিউল মোতাবেক কাজটি সুন্দর করে করার জন্য অনুরোধ করলে সে কথায় কর্ণপাত না করে উল্টো এলাকাবাসীকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে।
পুরান টেপরি এলাকার আলিম উদ্দিন, মালেক প্রাং, গোলাম হোসেন, লিটনসহ ৮নং ওয়ার্ড মেম্বার আইয়ুব আলী জানান, সড়কটির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকে কোনো কর্মকর্তাকে কাজটি তদারকি করতে দেখা যায়নি। যে কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট ও পরিমাণ মতো বালু এবং মাটি না দিয়ে দায়সারা ভাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে। তাদের আরও অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই ঠিকাদার এ অনিয়ম করে গেছে। ৫ ফিট উঁচু করার কথা কিন্তু তারা তা করেনি। তারা আরও জানান, অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারের লোকজন চাদাঁবাজির মামলা দেওয়ার হুমকি দেন। অপরদিকে রতনকান্দি উত্তরপাড়া গ্রামের রকিম উদ্দিন, লোকমান সরকার, আ. মতিন, রবিবুল সরকার, আনসার সরকারসহ একালাবাসী জানান, রাস্তার পাশ দিয়ে মাটি ফেলানোর কথা থাকলেও তারা ফেলাইনি তাই মাস না পেরুতেও রাস্তাটির অনেক জায়গা ধসে গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কোন অভিযোগ করেছেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানায়, চেয়াম্যান এর বাড়ির রাস্তা তাই তাকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
অপরদিকে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রানা কোং এর স্বত্বাধিকারী হাজী মো. রানা এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি সব অভিযোগ প্রথমে স্বীকার করলেও পরে তা অস্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে গাড়াদাহ ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম এবং হাবিবুল্লাহ নগর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাচ্চু’ ধস ও নিম্মমানের সামগ্রী বিষয়ে নিশ্চিত করে জানান বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পেয়েছি এবং তৎক্ষনাৎ পিআইওকে রাস্তাটি পরিদর্শন করে পুনঃসংষ্কার করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল কালাম আজাদ বলেন, ঠিকাদারকে এখন পর্যন্ত ২৫ শতাংশ বিল দেওয়া হয়েছে এবং রাস্তাটি সংস্কার করে দেওয়ার জন্য এখনি নির্দেশ দেওয়া হবে। তবে তিনি নিম্নমানের সামগ্রীর বিষয়ে কোনো কথা বলেনি।









