নিত্যপণ্যের দামে লাগাম নেই
- ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার প্রভাব হোটেল- রেস্তোরাঁয়
- হোটেলে ভোক্তার পাশাপাশি কমছে বেচাবিক্রি
- অনেকেই হোটেল ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন
হোটেলে ভাতের ভাতের দাম না বাড়ালেও পরিমাণ কমানো হয়েছে। আগে ১০ টাকায় যে পরিমাণ ভাত দেয়া হতো এখন তার কম দেয়া হচ্ছে। এভাবে হোটেল বাঁচলেও নিম্ন আয়ের মানুষ বাচবে কেমনে?
সারাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার কমে যাওয়ায় মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে। এমন সময় হঠাৎ লাগামহীন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সব পেশাজীবী মানুষের। সবজি থেকে ভোজ্যতেল, মাংস থেকে ডাল, থেমে নেই সিলিন্ডার গ্যাসের দামও। মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। এর ওপর দ্রব্যমূল্যের বাড়তি চাপ। পারিবারিক খরচের প্রভাবের পাশাপাশি দ্রুব্যমূল্যের উর্ধ্বগতি ব্যাপকভাবে প্রভাব ফেলছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়। ভাসমান ও শহরে কর্মস্থলে থাকা মানুষগুলো মারাত্মকভাবে বিপাকে পড়েছেন।
জীবিকার তাগিদে ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ছুটছেন নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। সকালে বেরিয়ে অনেকের ফিরতে হয় রাতে। দুপুরে খাওয়ার জন্য অনেকেরই একমাত্র ভরসাস্থল বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ। কেউ কেউ আবার রাতের খাবারও সারেন হোটেলেই। এমনও মানুষ আছেন যারা তিন বেলার খাবারই হোটেলে খান। নিত্যপণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে হোটেলে খাওয়া মানুষেরা বেকায়দায় রয়েছেন। গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। কেউ কেউ সাপ্তাহিক ছুটির দিনে হোটেলে পারিবারিকভাবে ভোজনের আয়োজন করেন। তারাও শখের ভোজ ছেড়ে দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল জেলা শহর ও বিভিন্ন উপজেলার হোটেল ঘুরে দেখা যায়,
হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে ইতোমধ্যে অধিকাংশ খাবারের দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে কিছু খাবারের দাম না বাড়িয়ে পরিমাণ বা মান কমিয়ে সমন্বয় করেছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, সবজি ও মুদিপণ্যের দাম বেড়েছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভোজ্যতেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি এবং মাংসের দামও। এতে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, দাম না বাড়িয়ে কোনো উপায় নেই। কিছু ছোট রেস্তোরাঁতে তেলেভাজা পরোটার পরিবর্তে তৈরি করছে শুকনো রুটি। ভোজ্যতেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এ প্রন্থা বেছে নিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা।
গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাবার তৈরি করতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ৫২০ টাকার গরুর মাংস দাঁড়িয়েছে ৬৫০ টাকায়। খাসির মাংস ৭শ’ টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫০ টাকা কেজি। মাছের দামও স্বাভাবিকের তুলানায় বেড়েছে। এতে তৈরি করা খাবারের মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছে অধিকাংশ হোটেল-রেস্তোরাঁ। এদিকে পণ্যের দাম বাড়ায় হোটেল ব্যবসায়ীদের কোনো ক্ষতি নেই জানিয়ে ভোক্তারা বলেন, হোটেল ব্যবসায়ীরা খাবারের দাম ঠিকই বাড়িয়ে দিচ্ছে। সমস্যায় পড়ছেন শুধু সাধারণ ভোক্তারা।
শহরে থাকা রিকশা, অটো-রিকশা শ্রমিকসহ অন্যান্য দিনমুজুরেরা দুপুরের খাবার হোটেলেই সেরে নিতেন। খাবারের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় তারা হোটেল ছেড়ে ভিড় করছেন ময়দার তৈরি চাপড়ার দোকানে। চাপড়ার সঙ্গে মরিচ ভর্তা আর সজের বাটনা মিলিয়ে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় সেরে নিচ্ছেন দুপুরের খাবার। তবে এর পরের ধাপের মানুষদের নিরূপায় হলেও যেতে হচ্ছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়।
শহরে থাকা নিম্নআয়ের ভোক্তারা বলেন, আমরা দিন আনি, দিন খাই। আমাদের কাছে একটু দাম বাড়লেই অনেক কিছু চিন্তা করতে হয়। তাই প্রতিটি জিনিসের দাম বাড়ার কারণে আমাদের মতো মানুষের অনেক অসুবিধা হচ্ছে। আমরা দৈনিক যে আয় করি তার মধ্যে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা খাওয়ার জন্য রেখে দেই। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে খেতে গেলে অন্যান্য খরচ মেটাতে পারি না। এজন্য হোটেলে ডাল ভাতের বাইরে কিছু খেতে পারি না। ভাতের দাম না বাড়লেও পরিমাণ কমানো হয়েছে। আগে ১০ টাকায় যে পরিমান ভাত দেয়া হতো এখন সেই পরিমাণ দেয়া হচ্ছে না।
হোটেল ব্যবসায়ীরা বলেন, সবজি ও মুদি পণ্যের দাম বেড়েছে। এছাড়া ভোজ্যতেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, মাছ, মাংসসহ সবকিছুর দাম বাড়তি। এ মুহূর্তে খাবারের দাম না বাড়িয়ে আমাদের উপায় নেই। আমরা ক্রেতাদের কথা চিন্তা করে সেভাবে দাম বাড়াইনি। মাংসের দাম বাড়ায় রান্না মাংসের দামও বাড়াতে হয়েছে। তাছাড়া আমাদের কোনো উপায় ছিল না। কিছু খাবারের দাম না বাড়িয়ে আমরা পরিমাণ কিছুটা কমিয়ে দিচ্ছি। কারণ মানুষ বেশি দামের কথা শুনলে খেতে চায় না। দ্রব্যমূল্যেও ঊর্ধ্বগতিতে হোটেলে ভোক্তাদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অনেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবল দৈনিক আনন্দবাজারকে বলেন, ভোজ্যতেল, মাংস ও গ্যাসসহ সব ধরণের নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। কীভাবে খাবারের মান ধরে রাখতে পারবো জানি না। হোটেলে বিক্রিও কমেছে। মানুষ এতো খরচ বহন করতে পারছে না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে খাবারের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। এতে ভোক্তারা নানা ধরণের কথা বলছে। হোটেল ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি।









