- কমছে উৎপাদন, দামে বেপরোয়া গতি
- যখন পানি দরকার তখন দেখা দেয় খরা, যখন দরকার নেই তখন অতিবৃষ্টি: মরিচচাষিরা
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কৃষিতে ব্যাপক প্রভাব দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কৃষিতে দিন দিন কমে যাচ্ছে উৎপাদন। যে কারণে কমছেই না কৃষিজ পণ্যের দাম, যার প্রভাব পড়ছে সাধারণ জনজীবনের ওপর। গত জুনের বন্যা, খরার কারণে মরিচ খেত নষ্ট হওয়া ও পোকার আক্রমণের কারণে স্থানীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় আশানুরূপ দাম কমছে না। যে কারণে আমদানি শুরু হওয়ার পরও কাঁচা মরিচের দামে স্বস্তি ফিরছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধদিপ্তর বলছে, এই সময়টাতে কাঁচা মরিচের চাষ কম হয়। তবে যা হয় তাতেও সংকট হয় না। বৃষ্টি ও খরায় এবার কিছু জমি নষ্ট হয়েছে, যে কারণে উৎপাদন কছিুটা কমে গেছে। এর প্রভাবইে মূলত দাম বেড়েছে। রবি মৌসুমের (এই সময় বেশি মরিচ আবাদ হয়) কাচা মরচিরে ফলন পেতে নভেম্বর পর্যন্ত অপক্ষো করতে হবে।
ঢাকার বিভিন্ন কাচাবাজার কারওয়ানবাজার,রামপুরা, বাড্ডা, মিরপুর, সেগুণবাগিচা সহ কয়েকটি খুচরা ও পাইকারি বাজারে মরচিরে কেজি মানভেদে ১৩০-১৭০ টাকায় ব্রিক্রি হচ্ছে। যা খুচরা বাজারে ২০০-২৪০ টাকায় ব্রিক্রি হচ্ছে। কারওয়ান বাজারের পাইকারি বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি হয়ে আসা মরিচও আমাদরে ১৩০-১৩ টাকা দিয়ে আমাদের কিনতে হচ্ছে। স্থানীয় মরিচের উৎপাদনও কছিুটা কম। যে কারণে দামটা এখনো চড়া।
বাংলাদশে পরসিংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য মতে, কয়কে বছর ধরে কাঁচা মরিচের সবচেয়ে বেশি দাম থাকে আগস্ট থেকে অক্টোবররে এই সময়। ২০২১ সালরে আগস্টে প্রতি কেজি মরিচের গড় দাম ছলি ৯২ টাকা, যা ২০২০ সালে ছিল ১৭৭ টাকা।
যারা আবাদ করছেন, খরা, বৃষ্টি, পোকার আক্রমণে তাদের উৎপাদন কম হচ্ছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশে মরিচের উৎপাদন ছিল ৪ লাখ ৯৩ হাজার টন। যা ২০১৯-২০ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১ লাখ ৫৮ হাজার টন। ২০২১-২২ এ এর উৎপাদন ২ লাখ টনের কিছু বেশি হয়েছে। মরিচের উৎপাদন সবচেয়ে বেশি হয় শীতে।
মরিচের বেশির ভাগ উৎপাদন হয় পাবনা, গাইবান্ধা, কুমিল্লা, দিনাজপুর, বগুড়া, যশোর, মাগুরা ও মেহেরপুরে। এসব এলাকায় খরার কারণে ক্ষেতে পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পোকার আক্রমণে উৎপাদন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসময়ে বৃষ্টি এবং খরা হচ্ছে। এর প্রভাব শুধু মরিচের ওপর নয় বরং সকল ধরনের ফসলের ওপর পড়তে পারে। বদলে যেতে পারে কৃষির গতিপথ। এ নিয়ে আমাদের এখনই ভাবতে হবে।
কৃষকরা বলছেন বর্তমান চাষাবাদে আগের মতো সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না তারা। তারা বলছেন, যখন পানির দরকার হয় তখন দেখা দেয় খরা, আর যখন করার দরকার তখন বৃষ্টি। যে কারণে আমাদের ফসল উৎপাদনের পরিমাণ কম হচ্ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে।









