হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর খবরে লালমনিরহাট জেলায় প্রভাব পড়ছে কাঁচমালসহ বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যের দামে। এমন দাম বৃদ্ধিতে হতাশ হয়ে পড়ছে উত্তরের জনপদ লালমনিরহাট জেলার বাসিন্দারা। এদিকে গতকাল শনিবার লালমনিরহাট থেকে পাটগ্রাম রুটে মহাসড়কের বাস চলাচল কম দেখা গেছে। পাশাপাশি জেলার পাম্পগুলো তেল সংকটের কথা বলে বন্ধ রাখা হয়।
গতকাল শনিবার সকালে সরেজমিনে কাঁচা বাজারে ঘুরে দেখা যায়, কাঁচাবাজারের সবজির দাম প্রতি কেজিতে ১০-১৫ টাকার বৃদ্ধি পেয়েছে। আলু ৩০ টাকা, বেগুন প্রতি কেজি ২৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা, পোটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাকরোল ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ঢেঁড়স ৩০ থেকে ৪০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা। ব্রয়লার মুরগির ডিম ৪০ থেকে ৫০ টাকা। এদিকে মাছের বাজার আগের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
পাটগ্রাম উপজেলার বাউরা বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী আইনুল হক বলেন, তেলের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ মালামালের পরিবহন খরচ বেশি পড়েছে। তাই বেশি দামে বিক্রি করছি। তবে কাপড় ব্যবসায়ী আসাদ হাতাশা ব্যক্ত করে জানান, সকাল থেকে এখনো কোনো মানুষ কাপড় কিনতে আসেনি। একটি টাকাও বিক্রি হয়নি।
হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়নের কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা সাধারণ কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়ছি। জানিনা আগামীতে কিভাবে আবাদ করব।
এদিকে তেল পাম্প মালিকরা বলছেন, গত রাতেই তেল শেষ হয়ে গেছে। এখন তেল না আসা পর্যন্ত কাউকে তেল দিতে পারছিনা। এজন্য তেলপাম্প বন্ধ রেখেছি। রিকশা চালক বাইরা শেখ বলেন, বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির কথা শুনে ব্যবসায়ীরা সব জিনিসের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন আমরা খেটে খাওয়া মানুষেরা বিপদে পড়েছি।
লালমনিরহাট-পাটগ্রাম রুটের বাসচালক আশরাফ আলী বলেন, সকাল থেকে লালমনিরহাট পাটগ্রাম রুটে খুবই কম সংখ্যক বাস চলাচল করছে। কারণ সরকার ভাড়া নির্ধারণ না করা পর্যন্ত আমরা বাস চলাচল করতে সাহস পাচ্ছিনা। তিনি আরও বলেন, বেশি দামের তেল কিনে লোকসান করতে পারবোনা।









