সরকার আমদানি অনুমতি বন্ধ করার পর ভারতীয় পেঁয়াজ আসা বন্ধ হয়ে দাম বেড়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা। তবে, আদা ও রসুনের দাম বাড়ার কোনও যৌক্তিক ব্যাখা নেই। মশুর, মটর, ছোলাসহ ডালজাতীয় পণ্যের দামেও উর্ধ্বগতি। মানভেদে মসুর কেজিতে ৪-৫ টাকা, মটরডাল কেজিতে দশ আর ছোলার দামও বাড়তি কেজিপ্রতি ৫ টাকা। এলাচ, দারচিনি, গোলমরিচ, লংসহ মসলাজাতীয় পণ্যের দামও কিছুটা বাড়তি। এসব পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে ডলারের মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ী নেতাদের কারও কারও দাবি বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ ও দাম ঠিক রাখতে সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকর ভূমিকা নেই। তাই এই অস্থিরতা
আগে দেওয়া আমদানি অনুমতিপত্রের মেয়াদ ৫ মে শেষ হওয়ায় স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে না। সেই অজুহাতে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে ভারত থেকে আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়ে কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঈদের ছুটির আগে এই পেঁয়াজ আড়তে বিক্রি হয়েছিল কেজি ২৮ টাকা। ঈদের ছুটির পর বাজারে দোকান খোলার সঙ্গে সঙ্গেই দাম বেড়ে বিক্রি হয়েছে কেজি ৩২ থেকে ৩৮ টাকায়।
আমদানি বন্ধের খবরে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজের দামও বেড়েছে। খাতুনগঞ্জে ভালো মানের পেঁয়াজ গত রবিবার বিক্রি হয়েছে কেজি ৪৫ থেকে ৪৮ টাকায়। চার দিন আগে বিক্রি হয়েছিল ২৯ টাকায়। পাইকারি বাজারগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। খুচরা দোকান আর পাড়া-মহল্লায় প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম রাখা হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা, যা গত সপ্তাহেও (৯ মে) বিক্রি হয়েছে ৩০ টাকা দরে।
আমদানি করা ছাড়া দেশি পেঁয়াজের মধ্যে বাজারে দুই ধরনের পেঁয়াজ পাওয় যায়। সম্পূর্ণ দেশি জাত ও হাইব্রিড। দেশি জাতের চাষ হয় মূলত পাবনা ও রাজশাহী এলাকায়। আর হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আসে ফরিদপুর থেকে। সেগুলোর দাম একটু কম। দুই জাতের পেঁয়াজে পাইকারিতে ২ থেকে তিন টাকা কমবেশি হয়। রাজশাহীর পেঁয়াজ পাইকারিতেই ১৯০ টাকা পাল্লা বা কেজিপ্রতি ৩৮ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে তা বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫৫ টাকা টাকা কেজি। এদিকে পেঁয়াজের দাম আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খাতুনগঞ্জের একাধিক পেঁয়াজ ব্যবসায়ী।
একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের পাইকারি বাজার কেজিপ্রতি ৩৫ টাকা। আগামী সপ্তাহে আরও ২-৩ টাকা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের এত দাম হওয়ার কথা না। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী ভোক্তাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছে।
সূত্রমতে, পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেলেও সরকারের ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরও চাইছে এখনই আমদানি অনুমতি (আইপি) না দেওয়া হোক। বাজার পরিস্থিতি দেখে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে। কারণ পেঁয়াজের সংকট হয় মূলত সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে, যখন ভারতে বন্যার কারণে পেঁয়াজ উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেশে পেঁয়াজ আসা জটিলতায় পড়ে। এখন পেঁয়াজের ভরা মৌসুম, তাই বাজারে দাম বাড়ার সুযোগ নেই।
আইপি না বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে উদ্ভিদ সংগনিরোধ দপ্তরের কেন্দ্রীয় পরিচালক রঞ্জিৎ কুমার পাল বলেন, আপাতত সরকারের কাছ থেকে নতুন করে আইপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। নতুন সিদ্ধান্ত এলে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমেই আমরা জানতে পারব। তিনি বলেন, ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ১৩ লাখ ৫৪ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানির জন্য আইপি ইস্যু করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত এসেছে পাঁচ লাখ ৪৪ হাজার টন। বাকি আইপির মেয়াদ পার হয়ে যাওয়ায় এবং সরকার নবায়ন না করায় পেঁয়াজ আসার সুযোগ নেই।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার কৃষকের কথা বিবেচনা করে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রাখলেও তার সুফল কৃষকরা তেমন একটা পাবে না। কারণ দাদন বা ধারে টাকা নিয়ে কৃষক পেঁয়াজ চাষ করে। ফসল তুলে তাৎক্ষণিক তা বিক্রি করেই তারা দাদন বা ধারের টাকা শোধ করে। তাই কৃষকের কাছে এখন আর তেমন পেঁয়াজ নেই, যা আছে তা এখন স্থানীয় আড়তদার ও বড় ব্যবসায়ীদের হাতে।
আনন্দবাজার/শহক









