শর্ত মানতে প্রয়োজন নীতিগত সিদ্ধান্ত
ইপিজেড এলাকার কোম্পানিগুলোর জন্য বন্ড লাইসেন্স না নেওয়া, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করাসহ বেশ কিছু প্রস্তাব করেছেন জাপানি ব্যবসায়ীরা।
রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা ইপিজেডের ভিতরে পরিচালিত শতভাগ বিদেশি ও যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা দেবে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো। এমন ঘোষণার পর ইপিজেডে জাপানিও বিনিয়োগ আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে জাপানি বিনিয়োগকারীদের রয়েছে কিছু সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা। প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে, কিছু বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নীতিগত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপান-বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার পাশাপাশি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সহযোগিতা বাড়াতে সম্প্রতি 'বাংলাদেশ-জাপান যৌথ সরকারি-বেসরকারি অর্থনৈতিক সংলাপ' অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে সরকারি-বেসরকারি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। যেখানে জাপানি বিনিয়োগকারীরা তাদের কিছু শর্ত তুলে ধরেছেন। ইপিজেড এলাকার কোম্পানিগুলোর জন্য বন্ড লাইসেন্স না নেওয়া, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট প্রত্যাহার করাসহ বিভিন্ন প্রস্তাব করেছেন জাপানি ব্যবসায়ীরা।
সংলাপে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের শুল্ক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা হবে। এনবিআরের কাস্টমস পলিসি মেম্বার সৈয়দ গোলাম কিবরিয়া বলেছেন, ইপিজেডের ভেতরের কোম্পানিগুলোর সুবিধা বাড়াতে হলে তা ইপিজেডের বাইরের কোম্পানিকেও দিতে হবে। শুধু ইপিজেডভূক্ত কোম্পানিগুলোকে বাড়তি সুবিধা দিলে তা বৈষম্য সৃষ্টি করবে। তাই এ বিষয়ে সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (বিডা)-এর ইনভেস্টমেন্ট ইকোসিস্টেম উইং এর সদস্য সঞ্জয় কুমার চৌধুরী বিডা সংশ্লিষ্ট দু'টি বিষয়ের অগ্রগতি উল্লেখ করে বলেছেন, জাপানিদের প্রস্তাব মেনে কমার্শিয়াল অপারেশনে যাওয়ার আগে আমদানি করা মেশিনারিজের সিএন্ডএফ মূল্যের ৬ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি ও টেকনিক্যাল ফি বাবদ ট্রান্সফারের সুযোগ দিয়েছি। কিন্তু জাপানিরা এটি আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এটি আরও বাড়ানো যায় কিনা, বাড়ালে আমাদের বিনিয়োগ ও রফতানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কিনা, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বিডাকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সঞ্জয় কুমার চৌধুরী আরও বলেন, ব্রাঞ্চ অফিস স্থাপনসহ বিভিন্ন বিষয়ে জাপানিদের যেসব প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো সম্পৃক্ত করে আমরা একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করেছি। নীতিমালাটি দ্রুতই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলেছেন মুখ্যসচিব।
প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সেই সংলাপের আয়োজন করা হয়। সভায় অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বিডা, বেপজাসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তা ও বাংলাদেশে ব্যবসারত জাপানি বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
আনন্দবাজার/শহক









