কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে যেখানে সেখানে অবৈধ হাটবাজার গড়ে উঠছে। উপজেলার ১৪ ইউনিয়নে হাটবাজারের সংখ্যা ১৩৬টির বেশি। তবে তালিকাভুক্ত ছাড়া বাকি শতাধিক হাট ও বাজারই অবৈধ। যা থেকে নিয়মিত ‘ইজারা’র অর্থ আদায় করা হলেও তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেয়া হচ্ছে না। এগুলোর কোনো আইনি অনুমতি না থাকায় প্রতিবছর কয়েক কোটি টাকার রাজস্ব থেকে সরকার বঞ্চিত হয়ে আসছে। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের লোকজন এসব হাটবাজার দখল, নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধভাবে নিয়মিত অর্থ আদায় করে থাকে। তারা সরকারকে বিন্দুমাত্র অর্থও না দিয়ে এবং সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই এসব অর্থ পকেটস্থ করছে।
দীর্ঘ দিন ধরে এসব অপতৎপরতা প্রকাশ্যে চললেও প্রশাসন তেমন ব্যবস্থা নিচ্ছে না। তাছাড়া ‘তালিকাভুক্ত নয়’ বলে সরকারের পক্ষ থেকে এসব হাটবাজার ইজারা দেয়াও যায় না। এ দিকে যত্রতত্র স্থাপিত এসব অননুমোদিত হাটবাজারের প্রভাবে বৈধ হাটবাজারে বিরূপ প্রভাব পড়ছে এবং বেচাকেনা কমে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ইজারাদাররা আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। একটি সহযোগী দৈনিকে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সূত্রমতে, সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হাটবাজারগুলো বছরে একবার করে টেন্ডারের মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে ইজারা। এভাবে দৌলতপুর উপজেলার বৈধ হাট ও বাজার থেকে প্রশাসনের আয় হয়ে থাকে তিন কোটি টাকার মতো। অথচ উপজেলায় এর প্রায় চার গুণ হাটবাজার এখন পর্যন্ত তালিকাভুক্ত করা হয়নি। সেসব হাটবাজার থেকে কোনো রাজস্বই পাচ্ছে না সরকার। বিপরীতে অবৈধ এসব হাট ও বাজারগুলোতে নিয়মিত মোটা অংকের অর্থ দিতে হয় মুষ্টিমেয় কিছু প্রভাবশালীকে। প্রচলিত আইনে ব্যক্তিগতভাবে কোনো হাটবাজার পরিচালনা করা না গেলেও যত্রতত্র সেই ঘটনা ঘটলেও কেউ কিছু বলছে না।
দৌলতপুর উপজেলার খলিসাকুণ্ডি ইউপির কাঁচাবাজারটি উপজেলা ছাড়িয়ে গোটা কুষ্টিয়া জেলাতেই বিখ্যাত। প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকার মাল বা পণ্য কেনাবেচা হচ্ছে। প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার খাজনা আদায় সত্ত্বেও তালিকাভুক্ত নয় বলে এখানকার কানাকড়ি রাজস্বও কর্তৃপক্ষের কাছে যায় না। স্থানীয় কিছু লোক ব্যক্তিগতভাবে এ হাট দিয়েছেন। এর খাজনা আদায় ও নিয়ন্ত্রণের কর্তৃত্বও তাদের হাতে।
খলিসাকুণ্ডির কাঁচাবাজারের এক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের সময় আমরা নিয়মিত খাজনা দিয়ে আসছি।’ এটা ভাগবাটোয়ারা হলেও তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যায় না। এটা ব্যবসায়ীরাও জানেন না। দৌলতপুর থানা বাজারের তোহা হাট বেশ বড় ও ঐতিহ্যবাহী। সপ্তাহে তিনদিনে এ হাট থেকে খাজনার টাকা নিয়মিত আদায় হলেও তা সরকার পাচ্ছে না। দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ভাগজোত হাট ও বাজার উপজেলার সবচেয়ে ব্যস্ত হাটগুলোর অন্যতম। দীর্ঘ দিন ধরে পরিচালিত হয়ে এলেও এটা সরকারের তালিকাভুক্ত নয়। স্থানীয়রা ‘খাজনা’ তুলে থাকেন।
দৌলতপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান নিজেই স্থানীয় হাটের একজন ইজারাদার। জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেক ইউনিয়নে আট-১০টি করে হাটবাজার আছে। তবে এর দু-একটি মাত্র সরকারি ইজারার। দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল জব্বার বলছেন, কেবল সরকারই হাটবাজার ইজারাদানের মালিক। বেসরকারি জমির হাটবাজার হুট করে সরকারি তফসিলভুক্ত করা যায় না। এ জন্য আমরা নোটিশ দিয়েছি এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে। আমরা আশা করি, সরকারি কোষাগার যেন কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত না থাকে।
আনন্দবাজার/শহক









