চা চাষকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিলে ভর্তুকি বাড়বে। তাতে আগ্রহ বাড়াবে উদ্যোক্তদের
-নোমান হায়দার চৌধুরী, জিএম, খাদিম টি কোম্পানি
বন্দরনগরী চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার কৃষকরা সম্প্রতি বাণিজ্যিকভাবে চাষ করছেন ভুট্টা। লাভজনক এ ফসল করে কৃষকরা দেখছেন অধিক লাভের মুখ। উৎপাদিত এসব ভুট্টা থেকে মানুষের চাহদিা মেটাবার পর, সবুজ গাছ ও পাতা ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে পুষ্টিকর গোখাদ্য। ভুট্টার গাছ ও দানার নানামুখী ব্যবহারের ফলে মিরসরাইয়ের কৃষিতে যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা।
ডেইরি ও গরু মোটাতাজাকরণ খামারের গো-খাদ্য হিসাবে ভুট্টার গাছ, পাতা, কান্ড ও দানার ব্যাপক চাহিদা। ভুট্টা থেকে পুষ্টিকর সাইলেজ তৈরি হওয়ায় বাড়ছে ভুট্টার আবাদ। ফলে শাক-সবজির পাশা-পাশি ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের। চলতি মৌসুমে ঘুর্ণিঝড় অশনির প্রভাব তেমন পড়েনি ভুট্টার ক্ষেতে। অল্পকিছু গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সময়মতো বৃষ্টির পানি পাওয়ায় বেড়েছে ফলন। ফলন হয়েছে আশানুরূপ।
মিরসরাইয়ে বিগত বেশ কয়েক বছর ভুট্টা চাষ হতে দেখা গেলেও এ বছর তা বেড়েছে জ্যামিতিক হারে। যেসব পতিত জমিতে ধান ও অন্যান্য ফসল হতো না সেসব জমিতেও ভুট্টা চাষ করে ভালো ফল পাওয়া গেছে। এবছর মিরসরাইয়ের ইছাখালি, ডোমখালী, ওয়াহেদপুর, আবুতোরাব, চরশরৎসহ বেশকিছু এলাকায় ভুট্টা চাষে সফল হয়েছেন চাষিরা। আগামী মৌসুমে আরো বেশি জমিতে ভুট্টা চাষ করতে চান তারা।
কৃষি অফিস সূত্রমতে, চলতি মৌসুমে উপজেলার ১৬ ইউনিয়ন ও দুই পৌরসভায় ১২৫ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ হয়েছে। গত মৌসুমে ৮০ একর জমিতে আবাদ হয়েছিল। ভুট্টাতে রোগ ও পোকা মাকড়ের আক্রমণ অত্যন্ত কম হওয়ায় উৎপাদন খরচও কম। যে কারণে কৃষকরা ভুট্টা চাষে বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ভুট্টার দামও পান ভালো। দেশি ও বিদেশি ফিড মিল কারখানাগুলোতে কৃষকরা সরাসরি ভুট্টা সরবরাহ করে।
মিরসরাই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ভুট্টা চাষ করেছেন নাহার এগ্রো গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের জমিতে চাষের পাশাপাশি অন্য জমি লিজ নিয়ে চাষ করছে এবং কৃষকদের অনাবাদি ও এক ফসলী জমিতে ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করছে। অনেক কৃষক ভুট্টা চাষ করে লাভের মুখ দেখেছেন। আগামীতে আরো ব্যাপক আকারে এই কৃষিপণ্যটি চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিরসরাইয়ে ডেইরি শিল্প দ্রুত বাড়ছে। গড়ে উঠেছে বড় আকারের একাধিক খামার। এসব ফার্মে গরুকে খাওয়ানোর জন্য প্রতিবছর অনেক ভুট্টার প্রয়োজন হয়। আগে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে কেনা ভুট্টা দিয়ে প্রয়োজন মেটানো হয়। এখন এখানকার চাষ করা ভুট্টা দিয়ে চাহিদা মেটানো হচ্ছে। এছাড়া দেশের সবচেয়ে বড় ডেইরি খামার নাহার ডেইরি খামার মিরসরাইয়ে রয়েছে। এজন্য ভুট্টার চাহিদাও বেশি। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন খামারিরা ভুট্টা চাষ করেছেন।
উপজেলার ইমামপুর এলাকার কৃষক হারুন আর রশিদ বলেন, নাহার এগ্রোর এক কর্মকর্তার পরামর্শে এবার ভুট্টার আবাদ করেছি। ভুট্টা আবাদে খরচ তুলনামূলক কম। মাত্র দুবার সেচ দিলেই হয়।
নাহার এগ্রো গ্রুপের জিএম (উৎপাদন) মনোজ কুমার চৌহান জানান, উপজেলার পতিত কৃষিজমি ভুট্টা আবাদের আওতায় আনা হচ্ছে। গরুর খাদ্য হিসেবে আগে নিজেদের জমিতে ভুট্টা চাষ করতাম। বাইরে থেকে সংগ্রহ করা হতো। এখন কৃষকদের বীজ, সার দিয়ে থাকি। উৎপাদন হলে তাদের থেকে আবার কিনে নিই। এবার প্রায় ২১ একর জমিতে কৃষকরা আমাদের থেকে বীজ নিয়ে ভুট্টা চাষ করেছেন। আগামী বছর ৫০ একর জমি টার্গেট রয়েছে। আমরা নিজেরাও বেশ কিছু জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছি। এছাড়া অনাবাদি জমি লিজ নিয়ে আবাদ করছি।
মনোজ কুমার চৌহান বলেন, অনাবাদি ও এক ফসলি জমিতে ভুট্টা চাষের জন্য আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি একাধিক কৃষককে জমির আয়তন অনুযায়ী উৎপাদন খরচ দিয়ে ভুট্টা আবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
সূত্রমতে, প্রতি একর জমিতে ১০ থেকে ১১ টন ভুট্টা উৎপাদন হয়। সারাবছরই ভুট্টা চাষ করা যায়। তবে অক্টোবর-নভেম্বরে চাষ করা ভালো। মূলত এগুলো মিক্সার করে শীতকালে গরুকে খাওয়নোর জন্য রিজার্ভ রাখা হয়। আধুনিক মেশিনের মাধ্যেমে সাইলেজ তৈরি করা হয়।
মিরসরাই উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কাজী নুরুল আলম বলেন, উপজেলায় ভুট্টার আবাদ বাড়ছে। আমরাও কৃষকদের ভুট্টা আবাদে উৎসাহ দিচ্ছি। এবার ১২৫ একর জমিতে ভুট্টা করা চাষ হয়েছে। লাভজনক হওয়ায় আগামীতে এর পরিধি আরো বাড়বে।









