প্রতিবছর হাওরের কৃষকদের বন্যার ভয় থাকলেও এ বছর প্রশাসনের সহায়তায় বন্যার আগেই হাওরের ধান কেটে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন তারা। তবে হাওরে ধান কাটার বিপ্লব হলেও ধান ঘরে তুলে খুশি নন সুনামগঞ্জ জেলার অধিকাংশ কৃষক। তাদের ধান খাদ্য গুদামে দেয়ার আশ্বাসে কৃষি কার্ড নিয়ে যাওয়া হলেও ধানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। সরাসরি খাদ্য গুদামে ধান দিতে না পারায় কৃষকরা বাধ্য হয়েই ধানগুলো মধ্যস্বত্বভোগী ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করছেন।
জানা যায়, সুনামগঞ্জের ১১টি উপজেলার ছোট-বড় ১৫৪টি হাওরে দুই লাখ ২০ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। সেখানে ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৩ লাখ মেট্রিক টন। কিন্তু এ বছর সুনামগঞ্জ থেকে সরকার ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ তিন টন ধান খাদ্য গুদামে দিতে পারবেন। যা জেলার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম। ফলে কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগী ব্যাপারীদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
এদিকে সরকার বোরো ধান প্রতি কেজি ২৬ টাকা ও প্রতি মণ ১০৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিলেও দালাল-ফড়িয়ার কাছে জিম্মি হয়ে কৃষকদের তা বিক্রি করতে হচ্ছে ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা মণে। কৃষকের ধান খাদ্য গুদামে বিক্রি করে দেয়ার আশ্বাস দেখিয়ে দালাল ও ফড়িয়ারা তালিকাভুক্ত কৃষকের কাছ কার্ড দিয়েই খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করেন। এছাড়াও মণ প্রতি কম টাকা দেয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
দেখার হাওরের আনোয়ারপুর গ্রামের কৃষক আলী জানার, ‘আমি একটা ধানও সরকারি গুদামে দিতে পারছি না। সরকার কয় কৃষকের কাছ থাকি ধান নেয়া অইবো, কিন্তু আসলে নেয় কার কাছি বুঝি না। আমরা কি তাইলে কৃষক না?’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক বলেন, ‘ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বাররা আমরার কাছ থাকি কার্ড নিয়া গেছে। অনেক মিষ্টি মিষ্টি কথা কইয়া তারা কার্ড নেয়। পরে আর তারার খোঁজ খবর পাওয়া যায় না। সরকার এরারে কিচ্ছু কয় না।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. সফর উদ্দিন জানান, আমরা সুনামগঞ্জ জেলায় প্রায় ৯২ হাজার কৃষকের তালিকা করেছিলাম। এখন সবাইতো ধান দিতে পারবে না। আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ মেট্রিক টন কিন্তু সরকার নিবে ২৫ হাজার ৮৬৬ মেট্রিক টন। তাই বাকিদের ব্যাপারীর কাছে ধান বিক্রি করতে হবে।
আনন্দবাজার/শহক









