► তৈরি হচ্ছে সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা ► শ্রমিকদের মাঝে বেড়েছে ক্ষোভ ► দেশের ৭০ শতাংশ কারখানার ৫০ হাজারের বেশি ছাঁটাই ► কোরবানির ঈদ সামনে রেখে নানা কৌশলে চলছে ছাঁটাই ►এখনো মে মাসের বেতন পাইনি ৪৬১ কারখানার শ্রমিকরা
সরকারের প্রণোদনাতেও কমছে না পোশাক খাতের কর্মী ছাঁটাই। নানা কৌশলে ছাঁটাই করা হচ্ছে এ খাতের কর্মীদের। এমন অবস্থায় অসহায় হয়ে পড়ছে কারখানার শ্রমিকরা। অন্যদিকে করোনার প্রভাবে সারা দেশে ৪২০টি কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে, চাকরিচ্যুতির ঘটনায় বাড়ছে সামাজিক অস্থিরতা ও শ্রমিকদের মধ্যে নানা ক্ষোভ। এছাড়া দেশের এমন করুন অবস্থাতে কর্মহীন শ্রমিকরা কোনো কাজও করতে পারছে না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, যেকোনোভাবে পোশাক খাত টিকিয়ে রাখতে হবে। অন্যথায় সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে পড়তে পারে। শিল্প-কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে কর্মসংস্থান এবং বাজার অর্থনীতিতে ধস নামবে। তাই সরকারের পাশাপাশি মালিকদেরকেও মানবিক হতে বলছেন বিশ্লেষকরা।
জানা যায়, বিশ্ববাজারে ৩১৮ কোটি ডলারের বেশি ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিত করেছে ক্রেতারা। ফলে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিকের জীবিকা এবং ৩৫ বিলিয়নের মতো রপ্তানি আয় নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এছাড়া কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পোশাক খাতে নানা কৌশলে কর্মী ছাঁটাই করা হচ্ছে। কাউকে জোর করে মাতৃত্বকালীন ছুটি, সাধারণ ছুটির সময় বাড়ি যাওয়া শ্রমিকরা ফেরার পর নানা অজুহাতে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। করোনার এই সময়ে দেশের চার হাজারের বেশি কারখানার ৭০ শতাংশ কারখানায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার শ্রমিক কর্মচ্যুত হয়েছেন।
জানতে চাইলে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি ড. রুবানা হকবলেন, ‘মহামারিতে টালমাটাল, জনজীবন বিপর্যস্ত, ঠিক এমন এক অভূতপূর্ব সংকটের মধ্যে সরকার দেশের শীর্ষ রপ্তানি খাতকে সংকট মোকাবেলায় সম্ভাব্য সব ধরনের সুযোগ দিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তৈরি পোশাক খাত আবারও ঘুরে দাঁড়াবে।’
এদিকে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের ৪৬১ কারখানায় এখনো শ্রমিকদের মে মাসের বেতন দেওয়া হয়নি। বেতন না পেয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন লক্ষাধিক শ্রমিক। এর মধ্যে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ী শিল্পাঞ্চলের বিসিক এলাকার নাইটিঙ্গেল, পারিজাত এলাকার মিজহু করপোরেশন ও কোনাবাড়ী এলাকার মাস্টার পিট কারখানায় এখনো বেতন হয়নি। টঙ্গী, বোর্ডবাজার, ভোগড়া, কোনাবাড়ী ও কাশিমপুর শিল্প এলাকায় এ ধরনের কয়েক শ কারখানার লক্ষাধিক শ্রমিকের মে মাসের বেতন হয়নি।
আনন্দবাজার/শহক









