আলুতে হতাশ চাষি-----
- মণপ্রতি খরচ ৫০০ টাকা
- বাজারে বিক্রি ৩৭৫ টাকা
- প্রতিমণে লোকসান ১২৫ টাকা
কুড়িগ্রামের উলিপুরে এ বছর ব্যাপক আলুর ফলন হওয়ায় বাজারে আলুর দামে ধস নামায় বিপাকে পড়েছেন আলু চাষিরা। উপজেলার তিস্তা নদী বেষ্টিত এলাকায় প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ একর জমিতে আলুর চাষ করা হয়েছে। তিস্তার খেওয়াগুলোর মধ্যে থেতরাই পানিয়ালের খেওয়া, ভোলার খেওয়া, নাগড়াকুড়ার খেওয়া, কাজির চকের খেওয়া ও জিগাতলার খেওয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায় বস্তা বস্তা আলু নিয়ে চাষিরা বসে আছেন বিক্রি করার উদ্যেশ্যে। এলাকাগুলোর মধ্যে গোড়াই পিয়ার, কদম তলা, জুয়ান সতড়া, থেতরাই, হোকডাঙ্গা, নাগড়াকুড়া, নন্দুনেফড়া, শুকদেবকুন্ড, বজরা, সাতালস্কার সহ আরও অনেক এলাকা ঘুরে দেখা যায় আলুর ব্যাপক ফলন হয়েছে। আলু নিয়ে বিপাকে পরেছে আলু চাষিরা। আলু চাষিরা বলেন, আলুর অনেক দাম কমে গেছে। আলু রাখতে পারতেছি না বেচতেও পারতেছিনা।
আলু চাষিদের মধ্যে রুহুল আমীন, বাবলু, নুরুজ্জামান, জলিল মিয়া, রফিকুল ইসলাম, আনারুল, শফিকুল, চাঁদ মিয়া, রবিয়াল, আশরাফুল, কাদের, ছবুর, নূর মোহাম্মদ, নুরু মিয়া, নুরুল আমীন, রঞ্জু মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, এবারে গত বছরের তুলনায় আলুর ফলন অনেক বেশি হয়েছে। তবে বাজারে ধস নামায় আমরা অনেক বিপাকে আছি। তারা বলেন, আমাদের আলুর মণপ্রতি খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। অথচ বর্তমান আলুর বাজার মণপ্রতি ৩৭৫ টাকা। মণপ্রতি ১২৫ টাকা লস হচ্ছে। এ লস আমাদের কে জোগান দিবে। তারা আরও বলেন, আমাদের শতাংশ প্রতি আলু উৎপাদন হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন মণ। প্রতি শতাংশ জমিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। এখন বাজারে বেচতে হচ্ছে ৩৭৫ টাকা মণ।
আলু ব্যাবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, এবারে আলুর অনেক ফলন হয়েছে। বাজার ধস নামায় অন্যান্য ব্যবসায়ীরা আলু বাজারে বিক্রি না করে হিমাগারে রাখতে বাধ্য হচ্ছে। তবে উপজেলায় হিমাগার না থাকায় আলু মজুদ করে রাখা অনেক কষ্টকর। অন্য উপজেলার হিমাগারগুলো আলু নিতে চাচ্ছে না। সে কারণে ব্যবসায়ী আর চাষিরা আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
অবশ্য চাষি আর ব্যবসায়ীরা বলছেন, তিস্তা নদী পারাপারের জন্য থেতরাই পানিয়ালের ঘাটে ব্রিজ তৈরি আর নদী বেষ্টিত এলাকায় হিমাগার স্থাপনে সরকার উদ্যোগ নিতো তাহলে অনেক উপকার হত। নিজ উপজেলায় কোল্ডষ্টর হলে আমাদের যান বাহন খরচ কম লাগত আমরা পুসিয়ে নিতে পারতাম।
উলিপুর উপজেলার কৃষি অফিসের উপ-সহকারী মোস্তফা কামাল বলেন, এবারে আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। আমরা আলু চাষিদের শুরু থেকে বিভিন্ন রকমের রোগবালাই সম্পর্কে অবগত করিয়েছি। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিস থেকে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নতুন জাতের সানসাইন গোল আলুর বীজ দিয়েছি যা বাজারে অধিক রপ্তানিযোগ্য। এ আলুতে রয়েছে অনেক ক্যারটিন পুষ্টি। যা মানুষের শরিরের পুষ্টির ঘাটতি পুরণ করে। সানসাইন গোল আলুর ব্যাপক ফলনে চাষিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া পড়েছে।









