‘অপুর সংসার’ চলচ্চিত্রটির নায়িকা শর্মিলা ঠাকুরের প্রথম সকালের কথা মনে আছে নিশ্চয়? ঘুমন্ত সৌমিত্রকে রেখে তিনি কয়লার আগুন জ্বালান। সেই আগুন আর কয়লাচালিত রেলের ধোঁয়া এক সময় আস্তে আস্তে পুরো এলাকাকে ঘিরে ফেলে। দৃশ্যটিতে যদিও অপুর সংসারের জীবনের শেষ অধ্যায় বুঝানো হয়েছিল কিন্তু ধোঁয়া যে পাশের দেশকেও গ্রাস করতে পারে সে বিষয়টি হয়তো পরিচালক তখন ভাবতে পারেননি। তবে বিশ্ব ব্যাংকের গত ১৪ ডিসেম্বরের বায়ুদূষণের প্রতিবেদন বলছে বাংলাদেশের (ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনার) বাতাসকে দূষণের ক্ষেত্রে ৩৮-৪০ শতাংশ দায়ী ভারতের বায়ু। চির প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানও একে অপরের বায়ুদূষণে সমান দায়ী।
‘স্ট্রিভিং ফর ক্লিন এয়ার: এয়ার পলিউশন এন্ড পাবলিক হেলথ ইন সাউথ এশিয়া’ শীর্ষক বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে দু’দেশের ক্ষেত্রে প্রায় একই ধরনের কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। শতাধিক পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে দেয়া হয়েছে বেশকিছু পরামর্শও। গত ৭ ডিসেম্বর দৈনিক আনন্দবাজারে বায়ুদূষণ নিয়ে প্রধান সংবাদ ‘অর্থনীতির ভয় বায়ুদূষণ’ এবং ‘বায়ুদূষণে দায়ী ভারতের বাতাসও” শিরোনামে বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিনের সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়। যে প্রতিবেদনে মন্ত্রী দাবি করেছিলেন আমাদের বাতাস দূষণে ভারতের বাতাসও দায়ী। গত ১৪ ডিসেম্বরের বিশ্ব ব্যাংকের প্রথম প্রতিবেদনটি সেই কথারই প্রমাণ দিল।
জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী বলেছিলেন, বাংলাদেশের বায়ুদূষণ ও পরিবেশ দূষণে শুধু আমরা নিজেরা নই সেখানে ভারতও দায়ী। ভারতের দূষিত বায়ু আমাদের দেশে আসে। এতে বায়ুদূষণে প্রভাব ফেলে। এজন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। আর বায়ুদূষণে মোট দেশজ উৎপাদন-জিডিপি ক্ষতি হচ্ছে। দৈনিক আনন্দবাজারকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে বায়ুদূষণ রোধে কাজ করতে হবে। আমরা নিজের কাজটা নিজে করতে পারলে বায়ুদূষণ রোধ করা সম্ভব হবে। এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, আশপাশ পরিষ্কার রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কিছু উন্নয়নমূলক কাজ, যানবাহনের কালোধোঁয়া, কল-কারখানা, ইটভাটার ধোঁয়া বায়ু ও পরিবেশদূষণে কাজ করে।
তবে বিশ্ব ব্যাংক যাই বলুক না কেন অনেকেই এ তথ্য বিশ্বাস করতে চান না। প্রতিবেদন তৈরির সময় সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ-সিপিডির এক অনুষ্ঠানে আগত এক ব্যক্তি প্রশ্ন করে বসেন, বিশ্বব্যাংক এমন প্রতিবেদন কীভাবে তৈরি করে? যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় একবার যুক্তরাষ্ট্রে ভূমিকম্প হলে তিনি বলেছিলেন হাইতি গরম বাতাস ছেড়ে দেয়ায় তার দেশে ভূমিকম্প হয়েছে। বাতাস তো প্রাকৃতিক বিষয় এটি এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাবেই।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বায়ুদূষণের বড় কারণ অতি ক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২ দশমিক ৫ ও পিএম ১০)। আর বায়ুদূষণজনিত রোগবালাইয়ে বছরে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। ঘরের বাইরের বায়ুদূষণ মৃত্যুর ক্ষেত্রে ৬৩ শতাংশ ও ভেতরের ৩৭ শতাংশ দায়ী। বায়ুদূষণের কারণ হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নির্মাণকাজের ধুলা, শিল্পকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া সবচেয়ে বড় উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রান্নার চুলায় জীবাশ্ম জ্বালানির (কাঠ, খড়, গোবর ও পাতা পোড়ানো) ব্যবহারও দূষণ ও মৃত্যু ঘটাচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিশ্বব্যাংক তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ভারতের পাঞ্জাবের বায়ুদূষণে ৩০ শতাংশ ভূমিকা আছে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের দূষিত বায়ু। আর বাংলাদেশের তিনটি শহর যথা- ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় বায়ুদূষণে ৩০ শতাংশ ভূমিকা আছে ভারত থেকে আসা বায়ুর। ঢাকায় বায়ুদূষণের উৎস প্রায় ৪ শতাংশ প্রাকৃতিক ও ৬ শতাংশ অভ্যন্তরীণ। প্রায় ২৮ শতাংশ দূষণের উৎস সীমান্তের ওপার থেকে আসা দূষিত বায়ু। দেশের অন্য বিভাগ ও জেলা থেকে আসা দূষিত বায়ুও রাজধানীর বাতাসকে দূষিত করছে। ঢাকার বায়ুদূষণের ক্ষেত্রে অন্য বিভাগ ও জেলার দূষিত বায়ুর ভূমিকা ৬০ শতাংশের কিছু বেশি।
বাংলাদেশের বায়ুদূষণে ভারতের বাতাস ৩৮-৪০ শতাংশ দায়ী বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্ব ব্যাংক। এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বায়ুমণ্ডলী দূষণ অধ্যায়ন কেন্দ্র-ক্যাপসের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের ভৌগলিক অবস্থান ভারতের পাশে। এখানকার বায়ুপ্রবাহ বছরের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিকে প্রবাহিত হয়। মৌসুমি বায়ু জুন-জুলাই-আগস্ট-সেপ্টেম্বরে উত্তর-পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তর-পূর্ব থেকে বায়ুপ্রবাহিত হওয়ার ফলে এটি বাংলাদেশের ওপর হয়ে ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তানের দিকে যায়। এ সময়ে বাংলাদেশের বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে ভালো থাকে। বায়ুতে যে ধুলাবালি থাকে তা অন্যদেশ থেকে আসে।
অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান আরও বলেন, আবার বাংলাদেশ হয়ে বায়ু অন্যদেশে ধাবিত হয়। শুষ্ক-মৌসুম তথা, নভেম্বর-ডিসেম্বর-জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। তাতে ভারত, নেপাল, ভুটান, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে বায়ু প্রবাহিত হয়। এসব বায়ুর মধ্যে দূষিত বায়ুর পরিমাণ বেশি হওয়ায় বাংলাদেশের বায়ুকে দূষিত করে। এটাকে বাংলাদেশের বায়ুদূষণের ট্রান্স বাউন্ডারি হিসেবে চিহ্নিত করা যায়। এখন কী পরিমাণ দূষিত বায়ু নিয়ে আসে আর কতটুকু নিয়ে যায় তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত নিয়ে গবেষণার বিষয়। আমার জানামতে, এ ব্যাপারে পর্যাপ্ত তথ্য-উপাত্ত আমাদের হাতে নেই যাতে আমরা বলতে পারবো কি পরিমাণ বায়ুদূষণ করছে।
দৈনন্দিন রান্নার উৎস তথা লাকড়ি, খড় ইত্যাদিকেও চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কী ব্যবস্থা নেয়া যায়? এ প্রশ্নের জবাবে ড. আহমদ কামরুজ্জামান বলেন, বায়ুদূষণের ব্যাপারে কিছু আছে আউটডোর আর কিছু ইনডোর। ইনডোরের মধ্যে রান্নাবান্না, গৃহাস্থলির উৎসকে বলা হয়। আমরা যেহেতু ঘরে অবস্থান করি সেক্ষেত্রে গৃহাস্থলির রান্নাবান্নার ধোঁয়া আমাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে। রান্নায় ক্লিন ফুয়েল ব্যবহার করলে এ ক্ষতির পরিমাণ কমবে। রান্নাঘরে এক্সস্ট ফ্যান, ভেন্টিলেটর ব্যবহার না করলে শহরের অভিজাত এলাকাতেও বায়ুদূষণ হবে। আর গ্রামের ক্ষেত্রে মাটির চুলা ব্যবহার করতে হবে। যেখানে বায়ুদূষণ কম হয়।
বায়ু ও শব্দদূষণ বিষয়ে চলতি বছরের মে মাসে একটি গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ক্যাপস। তাতে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরের ঢাকা শহরের ১০টি স্থানে বায়ু ও শব্দের মান পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেই গবেষণায় ঢাকার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম বস্তুকণা পিএম ২ দশমিক ৫-এর উপস্থিতি আদর্শ মানের (১৫ মাইক্রোগ্রাম) চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। আর পিএম ১০ বস্তুকণার উপস্থিতি আদর্শ মানের চেয়ে দুই গুণ বেশি।
শাহবাগ এলাকায় বাতাসে পিএম-২ দশমিক ৫-এর উপস্থিতি প্রতি ঘনমিটারে ৮৫ মাইক্রোগ্রাম। পিএম-২ দশমিক ৫-এর উপস্থিতি সবচেয়ে কম জাতীয় সংসদ এলাকায়, যার পরিমাণ ৭০ মাইক্রোগ্রাম।
ক্যাপস অন্য এক গবেষণায় জানায়, চলতি বছরের ১ হতে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকার বায়ুমান ছিল অস্বাস্থ্যকর ও ৬ দিন ছিল অসম্ভব অস্বাস্থ্যকর। গত ৭ বছর ধরে ডিসেম্বর মাস এমনই যাচ্ছিল। এর মূল কারণ ধুলাবালি। ঢাকার গাছের পাতায় প্রতিদিন জমে ৪৫০ মেট্রিক টন বা ৪ লাখ ৫০ হাজার কেজি ধুলা। একটি হাতির ওজন ৪ টন হলে সেই হিসেবে ১১২টির বেশি হাতির সমান ধুলা গাছের পাতায় জমা হচ্ছে। এটিও বায়ুদূষণে অন্যতম কারণ। এতে করে অক্সিজেন উৎপাদন কমছে ২০ শতাংশ।
পরিবেশ, শিক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সংগঠন ‘গণ উন্নয়ন কেন্দ্রের’ প্রধান নির্বাহী এম আব্দুস সালাম বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন সম্পর্কে বলেন, পাশাপাশি দেশ হওয়ায় এক দেশের বাতাস আরেক দেশে যাবেই। এটিকে বাধাগ্রস্ত করার উপায় নেই। তবে বাতাস কেন দূষিত হচ্ছে সে সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। আর কোন কোন বিষয়ে বাতাস দূষিত হচ্ছে তার একটি ভালো গবেষণা হওয়া দরকার। এম আব্দুস সালাম আরও বলেন, পরিবেশ নিয়ে পড়াশোনা থাকলেও জীবনের সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা নিয়ে চর্চা নেই। আমরা বিষয়টিকে চর্চায় নিয়ে আসতে পারলে পরিবেশ দূষণ কম হতো। আর পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ হচ্ছে কলকারখানার কারণে কী পরিমাণ দূষিত হচ্ছে তা চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।
শুধু ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা নয় গ্রামেও বায়ুদূষণ কতটা ক্ষতিকর তা নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করছিলেন মো. সরদার সরোয়ার। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলা সদর থানার ভবানীপুর গ্রামে। তিনি জানান, ইটভাটার ছাই উড়ে গিয়ে গাছের পাতায় পড়ে। তাতে ফল গাছে ফল আসে না। কৃষিজমিতে ফসল হয় না। আমাদের গ্রামে ইটভাটার কারণে প্রায় ২০-২৫ বছর ধরে ফলদগাছগুলোতে ফল আসেনি। আর রোগবালাইতে লেগেই ছিল। আমরা প্রশাসনের ও গ্রামের মানুষের সহযোগিতায় একটি ইটভাটা বন্ধ করতে পেরেছি। তাতেই এক বছর পর গাছগুলোতে ফল আসা শুরু হয়েছে। ক্ষেতে ভালো ফসল হচ্ছে।
বিশ্বের সবচেয়ে খারাপ বায়ুদূষণের দশটি শহরের মধ্যে নয়টি দক্ষিণ এশিয়ায়। দক্ষিণ এশীয়রা পরিবেষ্টিত বায়ুদূষণের অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর মাত্রার সংস্পর্শে আসে, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ, দরিদ্র স্থানে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইন সুপারিশ হচ্ছে ২ দশমিক ৫- বাতাসে ছোট ধুলো বা কাঁচের কণার ঘনত্ব- প্রতি ঘনমিটার (মিলিগ্রাম পার ঘন মিটার) বার্ষিক গড় ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। কিন্তু দক্ষিণ এশিয়ায় জনসংখ্যার প্রায় ৬০ শতাংশ এমন এলাকায় বাস করে যেখানে পিএম ২ দশমিক ৫ এর ঘনত্ব (মিলিগ্রাম পার ঘন মিটার) বার্ষিক গড় ৩৫-এর বেশি। ঘনবসতিপূর্ণ ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমিতে এটি হু যে স্তরকে স্বাস্থ্যকর বলে মনে করে তার ২০ গুণ বেশি।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বায়ুদূষণের এক্সপোজারের ভৌগলিক বণ্টন অনুসারে ভারতের ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাব এলাকায় মৃত্যু সবচেয়ে বেশি হবে। ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূমি, যা ২০৩০ সালে ভারতের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ ধারণ করবে, সেখানে বায়ুদূষণের মৃত্যুর ৪৭ শতাংশের জন্য দায়ী হবে। ভারতের ২০৩০ জনসংখ্যার ২১ শতাংশসহ পশ্চিমাঞ্চলীয় গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান রাজ্যগুলো ২২ শতাংশের জন্য দায়ী। অন্যদিকে ভারতের দক্ষিণের রাজ্যগুলো-অন্ধ্র-প্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং তেলেঙ্গানা- যা একসাথে হবে দেশের ২০৩০ জনসংখ্যার ২২ শতাংশ, পরিবেশ দূষণের ১৮ শতাংশের জন্য দায়ী হবে।
সূক্ষ্ম কণা পদার্থের সংস্পর্শে আসার ফলে ২০৩০ সালের বেসলাইন অনুযায়ী অকাল মৃত্যুর একটি সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়, বাংলাদেশে বাইরের সূক্ষ্ম কণার সংস্পর্শে পিএম ২ দশমিক ৫ শতাংশের কারণে ৬৩ মৃত্যু ও পারিবারিক পিএম ২ দশমিক ৫ শতাংশের কারণে ৩৭ শতাংশ মৃত্যু হবে। তাতে বছরে ১ লাখ ৮৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে।
ভারতে ইন্দো-গাঙ্গেয় সমভূতিতে বাইরের সূক্ষ্ম কণার সংস্পর্শে ৬৯ শতাংশ ও ঘরের ৩১ শতাংশসহ মোট ৭ লাখ ৬৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। ভারতে বাইরের ৬৭ শতাংশ ও ঘরের ৩৩ শতাংশসহ ৮ লাখ ৭৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। নেপালে বাইরের ৩২ ও ঘরের ৬৮ শতাংশসহ ৮৬ হাজার। পাকিস্তানে বাইরের ৬০ ও ঘরের ৪০ শতাংশসহ ২ লাখ ৩১ হাজার ও শ্রীলঙ্কায় পিএম ২ দশমিক ৫ এর কারণে বাইরের ৩২ ও ঘরের ৬৮ শতাংশসহ ১৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হবে। তাতে করে দক্ষিণ এশিয়ায় পিএম ২ দশমিক ৫ এর সূক্ষ্ম কণার সংস্পর্শে ঘরের বাইরে ৬৬ ও ঘরে ৩৪ শতাংশসহ মোটি ২১ লাখ ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যুর কারণ হতে পারে।
আনন্দবাজার/শহক









