একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়ার পরেও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মশা কে হার মানাতে পাচ্ছে না বিমানবন্দরে কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। সন্ধ্যার অন্ধকারের সঙ্গেই যেন মশার এখানে তাদের রাজত্ব শুরু করে। যাত্রীসহ বিমানবন্দরে আসা হাজার হাজার মানুষ পড়েন মশার বিড়ম্বনায়।
এদিকে মশা নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন একে ওপরের দোষারোপ করলেও ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু পদক্ষেপ। এতে টার্মিনালের ভেতরে মশার উপদ্রব কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও, টার্মিনালের বাইরের মশারা অবাদ রাজত্ব। এই ভোগান্তিতে সবচেয়ে বেশি আছেন বিমানবন্দরের বে- এরিয়ায় কর্মরত বিমানবন্দরের বিভিন্ন সংস্থার কর্মীরা।
সরেজমিনে বিমানবন্দর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় বিমানবন্দরের ২ নম্বর টার্মিনালে অপেক্ষারত যাত্রীর স্বজনরা হাত পা নাড়ছেন মশার উৎপাতে। অন্য দিকে টার্মিনালের দ্বিতীয় তলায় বিদেশগামী যাত্রীদেরও টার্মিনালে প্রবেশের আগে সহ্য করতে হচ্ছে মশার কামড়।
মশার উৎপাতে অতিষ্ঠ মোস্তফা রনি বলেন, দেশে মশা আছে সব জায়গায়ই; কিন্তু বিমানবন্দরের মত এত মশা জীবনে আগে কোথাও দেখেনি! এখানে মশা মারতে ভালো ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
বিমানবন্দরে কর্মরতরা বলছেন, নভেম্বর থেকে বিমানবন্দরে মশার উৎপাত বাড়ে, শীতকালে মশার উপদ্রব থাকে সবচেয়ে বেশি। এই সময়ে দিনের বেলায়ও মশার কামড় সহ্য করতে হয়। শীত কমতে থাকলে মশার উপদ্রবও কমে। বর্ষার মৌসুমে সহনীয় হয় মশার উৎপাত। ফেব্রুয়ারির পর থেকে এমনিতেই এই এলাকায় মশার উপদ্রব কমে যায়। সামগ্রিকভাবে মশার উপদ্রব আগের চেয়ে কমেছে।
বরাবরই মশা নিবরাণ নিয়ে একে ওপরকে দোষারপ করে আসছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বিমানবন্দরের বাইরের এলাকা থেকে মশা আসছে এমন অভিযোগ তুলে ডিএনসিসি-কে দুষছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে বিমাননবন্দরে পরিচ্ছন্নতার অভাব, মশার প্রজনন ক্ষেত্র আছে বলে অভিযোগ ডিএনসিসির।
এর প্রেক্ষিত্রে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মশার উৎপাত নিয়ন্ত্রণে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। কমিটিতে বিমান মন্ত্রণালয়, বিমানবন্দর, সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য অধিদফতর, বেবিচকের প্রতিনিধি অন্তভূক্ত করা হয়। বৈঠকে সিটি করপোরেশন, সিডিসি ও বেবিচকের সমন্বয়ে বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে তিন মাইলের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা, মশা নিধনে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে বলা হয়। পরবর্তীতে ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) পক্ষ থেকে একটি ‘ভেহিকল মাউনটেড ফগার মেশিন’ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অ্যাভিয়েশন কিউরিটির (অ্যাভসেক) একটি ফগার মেশিন পিক-আপ গাড়িতে স্থাপন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পর একবার বিমানবন্দর এলাকায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের প্রবেশের গেটগুলোতে মশার কয়েল জ্বলানো হয়। টার্মিনালের ভেতরে ও বাহিরে কীটনাশকও ছেটানো হয়।
ডিএনসিসি প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমরা প্রায় ১১ লাখ টাকা দামের ভেহিকল মাউনটেড ফগার মেশিন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে ক্রুসহ দিয়েছি। তাদের মশার উৎপত্তিস্থলগুলো চিহ্নিত করে দিয়েছি। বিমানবন্দরের ঝোপ পরিষ্কার করতে জনবল দিয়েও সহায়তা করেছি। ফলে সামগ্রিকভাবে মশার উপদ্রব কমছে। তবে বিমানবন্দরে ভেতর ও বাহিরের জলাশয়গুলো সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে, না হলে মশার বংশবৃদ্ধি হবে, উপদ্রব ছড়িয়ে পড়বে।’
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এএইচএম তৌহিদ-উল আহসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মশা নিধনে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নিয়েছি। জলাশয়, বিমানবন্দরের বিভিন্ন স্থান পরিষ্কার করা হচ্ছে নিয়মিত। কীটনাশক ছিটানো হয় নিয়মিত। ফলে মশার উপদ্রব কমেছে। গত মাসে সিডিসি একটি সার্ভে করে, যেখানে দেখা যায় বিমানবন্দর এলাকায় কোথাও মাশার লার্ভা পাওয়া যায়নি। এখন মশার উপদ্রব সহনশীল আছে।
আনন্দবাজার/শহক








