গত ছয় মাসে চিংড়ি রফতানি থেকে আয় হয়েছে ২৬৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময় ছিল ১৯৪ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার। এক্সপোর্ট প্রোমোশন ব্যুরো (ইপিবি) এর তথ্যমতে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানির পরিমাণ ৩৮ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় লাভের মুখ দেখেছেন চিংড়ি রফতানিকারকরা।
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএফইএ) সূত্রমতে, বাংলাদেশ থেকে রফতানি হওয়া চিংড়ির ৮৫ শতাংশ যায় ইউরোপের দেশগুলোতে। ১৫ শতাংশ যায় আমেরিকা, জাপানসহ অন্যান্য দেশে।
তবে এই ব্যবসা আবার হারোনার শঙ্কা করছে রফতানিকারকরা। বিএফএফইএ-এর সদস্যরা জানান, বিশ্বব্যাপী ওমিক্রনের সংক্রমন বাড়তে থাকায় গত এক সপ্তাহে অর্ডার কমতে শুরু করেছে। ওমিক্রমের সংক্রমন আরও বাড়লে আবারও রফতানিতে বড় ধাক্কা আসবে।
চিংড়ির পাশাপাশি লাইভ ফিশের রফতানিতেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। লাইফ ফিশের ৩৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এই সেগমেন্টে রফতানির পরিমাণ এখনো খুবই কম। ছয় মাসে রফতানি হয়েছে ৪ দশমিক ৪১ মিলিয়ন ডলার। তবে চিংড়ি ও লাইফ ফিশ রফতানিতে প্রবৃদ্ধি আসলেও কমেছে ফ্রোজেন ফিশ রফতানির পরিমাণ। এই সেগমেন্টে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ছিল ২৩ দশমিক ৯০ শতাংশ।
২০২০-২১ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে ৬৬ দশমিক৩৩ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি হলেও ২০২১-২২ এর প্রথম ছয় মাসে রফতানি হয়েছে ৫৩ দশমিক ০৫ মিলিয়ন ডলার।
রফতানিকারকরা বলছেন, বিশ্ব্যব্যপি চাহিদার শীর্ষে থাকা ভেন্নামি চিংড়ির বাণিজ্যিক উৎপাদন করে বিশ্ববাজারে ব্যবসার দখল বাড়াচ্ছে ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বেশকিছু দেশ। কিন্তু বাংলাদেশ কয়েক বছর ধরে চেষ্টা করলেও এখনও বাণিজ্যিক উৎপাদনে যেতে পারেনি।
বিশ্ব বাজারে বর্তমানে গলদা ও বাগদার চাহিদা কমে, বেড়েছে ভেন্নামি শ্রিম্প বা প্যাসিফিক হোয়াইট-লেগড শ্রিম্পের চাহিদা। বিশ্বের মোট চিংড়ি রপ্তানির ৭৭ শতাংশই এখন ভেন্নামির দখলে। আর বাগদা চিংড়ির দখলে রয়েছে মাত্র ১১ শতাংশ। বর্তমানে ভেন্নামি চিংড়ির চেয়ে বাগদা চিংড়ির দাম পাউন্ডপ্রতি ২ ডলার বেশি। বৈশ্বিক অর্থনীতির ধীর গতির কারণে ক্রেতারা খরচ কমানো শুরু করেছেন।
২০১৩-১৪ থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছর পর্যন্ত পাঁচ বছরে চিংড়ির বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের দখল ৪ শতাংশ কমে ২ শতাংশে নেমেছে। আর এ সময় ধারাবাহিকভাবে চিংড়ি রফতানি কমেছে ৩৩ শতাংশ। এ সময় চিংড়ির উৎপাদনও ২৮ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে গেছে। ফলে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চিংড়ি রফতানিকারক কোম্পানিগুলোর শেয়ার যুক্ত করেও নেতিবাচক ধারা দেখা গেছে সে সময়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, উচ্চ ফলনশীল এবং দাম কম হওয়ায় হাইব্রিড জাতের এ চিংড়ি চাষ করে ইতোমধ্যে ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। তবে বাংলাদেশে এ চিংড়ি চাষের বাণিজ্যিক অনুমতি দেয়নি সরকার।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ হিসাব বছরে বাংলাদেশ মোট ৫৪৫ মিলিয়ন ডলারের ৪১,২৩৬ মেট্রিক টন চিংড়ি রপ্তানি করে। এরপর থেকেই বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে চিংড়ির বাজার হারাতে থাকে। সেই সাথে উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমেছে।
২০১৩-১৪ অর্থ বছর থেকে চিংড়ি রপ্তানি ৩৪ শতাংশ কমে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে হয়েছে ৩৬১ মিলিয়ন ডলার। সে বছর ২৯ হাজার ৫৪৩ মেট্রিক টন চিংড়ি রফতানি হয়েছিল। ২০১৯-২০ সালে আরও কমে চিংড়ি রফতানি দাঁড়ায় ৩৩২ মিলিয়নে এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে রফতানি কমে আরও দুই মিলিয়ন।
আনন্দবাজার/শহক









