সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার এই মাসেই চান ব্যবসায়ীরা
প্রকাশ:

বিস্তারিত
জানুয়ারি থেকে ব্যাংকঋণে সিঙ্গেল ডিজিট (এক অংকের) সুদহার কার্যকরের কথা থাকলেও তা তিন মাস পিছিয়ে আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে ব্যবসায়ীরা চান এপ্রিল নয়, জানুয়ারি থেকেই সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর হোক। আর এজন্য পদক্ষেপ নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে অর্থমন্ত্রীকে চিঠিও দিয়েছেন পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক।
বস্ত্র ও পোশাক খাতের তিন সংগঠন বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ও বিটিএমএর পক্ষ থেকে এ চিঠি দেন তিনি । চিঠিতে দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসায় ব্যয় হ্রাস ও রফতানি প্রবৃদ্ধির স্বার্থের কথা চিন্তা করে এই মাস থেকেই বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার ৯ শতাংশে নামিয়ে আনার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণপূর্বক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, চিঠিটি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেই দেয়া হয়েছে। দেশে এখন শিল্পের ক্রান্তিকাল চলছে, এ অবস্থায় আমাদের টিকে থাকাই মুশকিল। আর এই সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর এর যত দেরি হবে ততই আরো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদের। এ জায়গায় আমাদের রক্ষা করতে হলে এখনি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা উচিত। এতে বিনিয়োগ দ্রুত না বাড়লেও আমাদের মৃতপ্রায় অবস্থা থেকে বের হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা ১৩, ১৪ শতাংশ সুদের বোঝা বয়ে বেড়াচ্ছি। আর তা যদি চার মাস দেরি হয় সুদ অনেক বেড়ে যাবে। আমাদের সমস্যা থেকে বের হতে হলে আমাদের নতুন এখনি বিনিয়োগ করতে হবে, সম্প্রসারণ করতে হবে, সেক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে ব্যাংকঋণের। এমনিতেই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিলম্ব হয়েছে , এখন যখন রাজি হলেনই তখন আবার দেরি কেন?
এইদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য দেশের সব ব্যবসায়ী সংগঠন দীর্ঘদিন যাবত দাবি জানিয়ে আসছে। দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা পরিচালন ব্যয় কমানো, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ঋণের সুদহার সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার জন্য অনেক দিন আগেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কথা ছিল, ২০২০ সালের প্রথম দিন থেকেই উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য ব্যাংকঋণের সুদহার হবে সিঙ্গেল ডিজিট। আর এ নিয়ে বেশ তোড়জোড় ছিল অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের। কিন্তু হুট করেই গত সোমবার বেসরকারি ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সঙ্গে বৈঠক শেষে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তিন মাস পেছানোর ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সেই সঙ্গে তিনি জানান আমানতের সুদহারও ছয় শতাংশে নামিয়ে আনা হবে ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আমরা কথা দিয়েছিলাম, নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে আমানত ও ঋণের সুদহার ৬ ও ৯ শতাংশ বাস্তবায়ন করব। কিন্তু এখনো আমরা প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারিনি। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে বেশ কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের প্রস্তাবগুলো ঠিক রেখেই তিনি নতুন কিছু সংশোধনী দিয়েছেন। বিষয়গুলো সমন্বয় করতে কিছু সময় দারকার। আমরা আগে বলেছিলাম, এক অংকের সুদহার শুধু উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য হবে। কিন্তু এখন এটি সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। শুধু ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড এক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম হবে। নতুন ও পুরনো সব ধরনের ঋণের ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর করা হবে। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিরা জানিয়েছেন, সুদহারবিষয়ক নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য তিন মাস সময় দরকার। এজন্য আগামী ১ এপ্রিল থেকে এটি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
আনন্দবাজার/শহক








