পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে সাহস পাচ্ছেনা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। বিশেষ সুবিধায় বিনিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হলেও তাতে সাড়া আসছে না তেমন। ব্যাংকারদের একটাই কথা, আমানতকারীদের অর্থে এই মুহূর্তে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে যাওয়া ব্যাংকগুলোর পক্ষে সম্ভব না।
এদিকে পুঁজিবাজাররের বেহাল দসায় টাকার প্রবাহ বাড়ানোর বিকল্প পদ্ধতি বের করতে গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকারদের সাথে কয়েক দফায় বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামি ৪/৫ দিনের মধ্যেই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নতুন নির্দেশনা আসতে পারে বলে জানা গেছে।
আরও জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে গত ২২ সেপ্টম্বর ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন একটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। যাতে বলা হয়েছিল ব্যাংকগুলো তাদের হাতে থাকা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বন্ধক রেখে রেপোর মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য অর্থের সংস্থান করতে পারবে।
ব্যাংকগুলোকে সার্কুলার জারির তিন মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে আবেদন পত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা জারির সময় ব্যাংকগুলোর হাতে তাদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ২২ হাজার কোটি টাকার ট্রেজারি বিল ও বন্ড ছিল। অর্থাৎ ব্যাংকগুলো এ ২২ হাজার কোটি টাকা পুুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারত অথচ গত তিন মাসে একটি ব্যাংক বাদে কোনো ব্যাংকই বাংলাদেশ ব্যাংকের এ নির্দেশনায় সাড়া দেয়নি।
এ দিকে অব্যাহতভাবে পুঁজিবাজারে চলছে পতনের খেলা। মূলধন হারিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা পথে বসে গেছে। বিশেষ করে কয়েক দিন ধরে ধারাবাহিকভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ কমছে । কৃত্রিমভাবে গত দুই দিনে সূচক বাড়ানোর চেষ্টা করে পতন ঠেকানো হচ্ছে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।
এমনি পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহ হারানো ব্যাংকগুলোকে পুঁজিবাজারমুখী করতে নির্দেশনা দেয়া হয় নীতিনির্ধারণী মহল থেকে। এ কারণে গতকাল ব্যাংকারদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
আনন্দবাজার/তাঅ









