করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অচল প্রায় বিশ্বে এবার প্রবৃদ্ধির বদলে সংকুচিত হবার পূর্বাভাস দিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
সংস্থাটির তথ্য মতে, ১৯৩০ সালের মহামন্দার পর বিশ্ব কখনো এতটা খারাপ অবস্থায় পৌঁছায়নি। সব মিলিয়ে এ বছর বিশ্ব অর্থনীতির মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি মাইনাস ৩% পর্যন্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ভার্চুয়ালভাবে শুরু হয়েছে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএমএফ-এর বসন্তকালীন সভা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতি-নির্ধারকরা অনলাইনে এই সভায় অংশ গ্রহণ করছে।
আইএমএফ সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি নীতি-নির্ধারকরা করোনা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এই মন্দার প্রভাব আগামী বছর পর্যন্তও দীর্ঘায়িত হবে।
যদি এ বছর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় সেক্ষেত্রে ২০২১ সালে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এটা এখন স্পষ্ট যে ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার পর সবচেয়ে ভয়াবহ মন্দার সামনে দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবী। এটা এক দশক আগের অর্থনৈতিক সংকটকেও ছাপিয়ে যাবে। এই লকডাউন বিশ্বের প্রবৃদ্ধি নাটকীয় গতিতে পেছনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
আইএমএফের প্রধান অর্থনীতিবিদ গীতা গোপীনাথ জানান, এই সংকটে বিশ্ব আগামী দুই বছরে ৯ ট্রিলিয়ন ডলার (৯ লাখ কোটি ডলার) প্রবৃদ্ধি হারাতে। এই অঙ্ক জার্মানি ও জাপানের মতো দুই শিল্পোন্নত দেশের মোট জিডিপির পরিমাণের চেয়েও বেশি।
পূর্বাভাস অনুসারে, বিশ্বের দ্বিতীয় বড়ো অর্থনীতির দেশ চীনে এ বছর সংকোচন না হলেও প্রবৃদ্ধি হার হবে মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ। যা ১৯৭৬ সালের পর চীনে সবচেয়ে কম। ইউরোপের সবচেয়ে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ জার্মানির প্রবৃদ্ধি হবে মাইনাস ৭ শতাংশ, জাপানে মাইনাস ৫ দশমিক ২ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে মাইনাস সাড়ে ৬ শতাংশ।
মহামারির প্রভাবে অর্থনীতির অনেক হিসাব বদলে যাবে। পরের বছর অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখলেও অনিশ্চয়তার কথা বলছে আইএমএফ। কারণ অর্থনীতির এই পরিবর্তন সাধারণ মানুষের ভোগ ব্যয় এবং ভোক্তা আচরণে অনেক প্রভাব ফেলতে পারে।
দুর্বল চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থার ফলে ভোক্তার আস্থা কমে আসতে শুরু করবে। এটি পুনরুদ্ধার কতটা হবে তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের করোনা ভাইরাসের টেস্ট করতে আরো বরাদ্দ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
তাছাড়া স্বাস্থ্যখাতে সংকট মোকাবিলায় অবসরপ্রাপ্তদের নিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত সুরক্ষা এবং ভেন্টিলেশন সংগ্রহ এবং মেডিক্যাল পণ্য বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আইএমএফ।
আনন্দবাজার/তা.তা









