কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন
- ১৬ বছর ধরে নেই জেনারেটর
- ব্যবহারের অনুপযোগী শৌচাগার
- কালোবাজারির পকেটে টিকেট
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার অন্যতম বাণিজ্যিক এলাকা রবিরবাজারের ব্যবসায়ী জয়নুল আহমদ। ব্যবসায়ীক কাজে প্রায়ই ঢাকায় যাতায়াত করেন তিনি। রেলপথে যাতায়াতে তার রয়েছে তিক্ত অভিজ্ঞতা। বেশিরভাগ সময় কাউন্টার বা অনলাইনে টিকেট সগ্রহ করতে পারেন না তিনি। বাধ্য হয়ে কালোবাজারি চক্রের নিকট থেকে টিকেট সংগ্রহ করেন। তিনি জানান, প্রায়ই দ্বিগুণ দামে টিকিট ক্রয় করতে হয়। আবার কখনও বাধ্য হয়ে দায়িত্বরতদের টাকা দিয়ে দাঁড়িয়ে গন্তব্যে যেতে হয়।
বিশাল জনবহুল এ অঞ্চলের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটগামী যাত্রীদের তুলনায় আসন সংখ্যা কম। কুলাউড়া রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে সিলেট-ঢাকা রেলপথে বন্ধের দিন ছাড়া প্রতিদিন পারাবত একপ্রেস, জয়ন্তিকা একপ্রেস, উপবন একপ্রেস ও কালানী একপ্রেসসহ ৪টি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করে। সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে পাহাড়িকা একপ্রেস, উদয়ন একপ্রেসসহ দুটি আন্ত:নগর ট্রেন চলাচল করে।
ঢাকা-সিলেট ও সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে যেকটি ট্রেন চলাচল করে যাত্রীদের তুলনায় আসন সংখ্যা খুবই সীমিত। সব মিলিয়ে কুলাউড়া স্টেশন থেকে ঢাকা পথে ২৪৯টি এবং চট্টগ্রাম পথে ৪৩টি আসন বরাদ্দ আছে। বরাদ্দকৃত আসনের টিকিটের ৫০ শতাংশ টিকিট কাউন্টার এবং বাকি ৫০ শতাংশ টিকিট রেলসেবা অ্যাপের মাধ্যমে যাত্রীরা ক্রয় করতে পারেন। রেলপথে যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন তাদের ভাষ্যমতে বরাদ্দকৃত ট্রেনের টিকেটের বেশি অংশ চলে যায় কালোবাজারি হাতে। যার ফলে বিপাকে পড়তে হয় যাত্রীদের। ব্যবসায়ী, রোগী, চাকরিজীবীসহ অন্যান্য যাত্রীরা নিয়মিত একই অবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।
কুলাউডা রেলওয়ে স্টেশন থেকে বড়লেখা, জুড়ী ও কুলাউড়া উপজেলার হাজারো যাত্রী রেলপথে সারাদেশে যাতায়াত করেন। ঢাকায় নিয়মিত রেলপথে যাতায়তকারী যাত্রী মাসুম জানান, প্রায় সময় কাউন্টার বা অনলাইনে টিকিট পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা বেশি দপা বাইরে থেকে টিকিট ক্রয় করতে হয় ।
২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টারের দায়িত্ব পালন করছেন মুহিব উদ্দিন আহমদ। একজন স্টেশন মাস্টারসহ সহকারী তিনজন দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে রয়েছেন দুজন। পাঁচ বছর ধরে টিকিট কালেক্টরের (টিসি) ১৬টি পদের সবকটি পদই শূন্য রয়েছে। টিটিই ১৮ পদের বিপরীতে ১৬টি শূন্য। ট্রেনের পরিচালক ১৯ পদের বিপরীতে ১৫ টি শূন্য। পয়েন্টসম্যান ১৯ পদের বিপরীতে ১৪ টি শূন্য। এবং বুকিং মাস্টার, পার্সেল সহকারী, সান্টিং স্টাফ, আয়া, পোর্টারসহ ২৩ টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে।
স্টেশনটির দ্বিতীয় শ্রেণির যাত্রী বিশ্রামাগার এবং শৌচাগার ব্যবহার অনুপযোগী। দুর্গন্ধে অনেকে টয়লেট ব্যবহার করতে পারে না। দীর্ঘদিন থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর বিশ্রামাগার বন্ধ রয়েছে। স্টেশনটির বড় সমস্যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ২০০৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত স্টেশনটিতে জেনারেটর নেই। যার ফলে বিদ্যুৎ চলে গেলে স্টেশন অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
কুলাউড়া রেলস্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মো. মুহিব উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘চাহিদার তুলনায় এ স্টেশনের টিকিট অনেক কম রয়েছে। আমরা টিকিট বাড়ানোর চাহিদা দিই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। টিকিটের বিষয়ে তিনি জানান, কাউন্টার থেকে টিকিট কালোবাজারি হয় না। অনলাইনে টিকিট কিনে কালোবাজারিরা যাত্রীদের নিকট দ্বিগুণ দামে বিক্রি করে।
আনন্দবাজার/এম.আর









