অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, তিস্তা ও ঘাঘটসহ গাইবান্ধা জেলার সব নদ-নদীর পানি। গত চার দিন ধরে দ্বিতীয় দফায় পানি বাড়ায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। এতে করে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটাসহ চার উপজেলার চরাঞ্চল ও নদীর তীরবর্তী ২৬টি ইউনিয়নের এক লাখ ২২ হাজারের বেশি মানুষ।
গতকাল (১৫ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে সব রেকর্ড ভেঙে বিপদসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এছাড়াও ঘাঘট নদীর পানি শহর পয়েন্টে বেড়েছে ৯৫ সেন্টিমটার, যমুনা নদীর পানি সাঘাটা পয়েন্ট বেড়েছে ৯০ ও করতোয়া নদীর পানি কাটাখালি পয়েন্টে বেড়ে বিপদসীমার কাছাকাছি আছে। আর এমন ভয়াবহ পানিবৃদ্ধির ঘটনায় বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে পড়েছে গাইবান্ধাবাসী।
ইতোমধ্যে বন্যায় ডুবে গেছে চরাঞ্চল এবং নিম্নাঞ্চলের জমির বীজতলা, পাট, ভুট্টা, বাদাম ও মরিচসহ শতশত হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল। এর আগে প্রথম দফার বন্যায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে ডুবে নষ্ট হয়েছিল।
এদিকে পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছেন হাজার হাজার মানুষ। অনেকে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, উচু সড়ক ও আশ্রয়কেন্দ্রে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য ও পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থার কষ্ট নিয়ে খোলা আকাশের নিচে পলিথিনের তাবু টানিয়ে থাকছে মানুষ।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধা জেলার চার উপজেলার বন্যার্তদের মধ্যে বিতরণের জন্য ৪১০ মেট্রিক টন চাল, ১৫ লাখ টাকা, এক হাজার ৮০০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং শিশু খাদ্যের জন্য চার লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়াও গোখাদ্যর জন্য চার লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
আনন্দবাজার/এম.কে








