প্রতি বছরই হাওরাঞ্চেলে বোরো ধানের ব্যাপক আবাদ হলেও প্রায়শই ঘটে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এতে ব্যাপক ক্ষতি হয় কৃষকের। তাই কৃষক চাই অল্প দিনের মধ্যে ধানের আবাদ করে ঘরে তোলার জন্য। কৃষকের সেই আশা পূরণ করতে আসছে ব্রি- ৮৪ ধান, যা মাত্র ১৩৭ দিনেই এই ধান কেটে ঘরে তোলা যাবে। প্রোটিন, জিংক ও আয়রন সমৃদ্ধ নতুন জাতের এই ধান এরইমধ্যে সাড়া ফেলতে শুরু করেছে কিশোরগঞ্জের হাওর এলাকার কৃষকের মাঝে।
বহুদিন যাবত হাওরের কৃষকরা নতুন জাতের ধানের অপেক্ষায় ছিলো। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কৃষকের হাতে চলে এসেছে ব্রি-৮৪ ধান। অকাল বন্যার আগেই এই ধান সহজেই ঘরে তুলতে পারবে কৃষক। যার ফলন বেশি হবে। স্বল্পমেয়াদী হওয়ায় হাওরের মতো নিচু জায়গায় ধানটি খুবই উপযোগী হবে বলে মনে করছেন বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট।
প্রথমবারের মতো ব্রি-৮৪ ধান আবাদ করা পাকুন্দিয়া উপজেলার আদিত্যপাশা গ্রামের কৃষক আনিস মিয়া জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শে জমিতে প্রথম এই ধান রোপণ করি। স্বল্পমেয়াদী, রোগ-বালাই কম থাকায় অল্প খরচ হয়েছে ব্রি-৮৪ ধান চাষ করতে। আগাম অন্য জাতের ধানের চেয়ে এর ফলনও বেশি হয়েছে। আর ব্রি-২৮ এর চেয়ে ৭/৮ মণ বেশি ধান পেলাম এবার। তাই হাওরাঞ্চলসহ স্থানীয় কৃষকদের জন্য এ ধান খুবই উপকারি হবে।
এই ধান চাষ করা একই এলাকার রহমত আলী জানান, নতুন জাতের ব্রি-৮৪ ধান চাষ করে বেশ আনন্দ পেলাম। খুব দ্রুত এই ধান পেকেছে। যার ফলে বৃষ্টি বা অকাল বন্যায় ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না। । আর ফলনও হয়েছে, আশার চেয়ে বেশি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল হাসান আলামিন জানান, ব্রি-৮৪ প্রতি হেক্টর জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মেট্রিক টন ধান পাওয়া যায়। যা অন্য আগাম জাতের ধানের চেয়ে বেশি। রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেক কম। কম সময়ে পেকে যাওয়ায় আগেভাগে কাটা যায় এই ধান। নতুন জাতটি পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি নিরাপদ কৃষিতেও ভূমিকা রাখবে তাদের বিশ্বাস।
আনন্দবাজার/শহক







