- প্যাকেটজাত চিনি উধাও
দেশে চিনির মোট চাহিদার বড় অংশ মেটানো হয় আমদানি করা চিনির মাধ্যমে। এই চিনি আমদানি হয় মূলত কয়েকটি বড় গ্রুপের হাত ধরে। এসব গ্রুপের ব্যবসায়ীরা গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের অজুহাতে চিনির দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ব্যবসায়ী বলছেন, চিনির সব ধরনের কাঁচামাল রয়েছে। তবে গ্যাস সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী চিনি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। তাছাড়া উৎপাদন খরচও বাড়ছে। এ কারণে চাহিদার তুলনায় চিনি সরবরাহ কম থাকায় চিনির দাম বাড়ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কারসাজির মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে চিনির দাম বাড়িয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে খোলা চিনির দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। তবে প্যাকেটজাত চিনি প্রায় উধাও হয়ে গেছে।
ক্রেতারা বলছেন, ব্যবসায়ীরা জনগণকে জিম্মি করে খেলায় মেতেছেন। তারা ইচ্ছা মতো দাম বাড়াচ্ছে। আবার বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটের কারণে তাদের উৎপাদন কমেছে। যার জন্য বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আবার খুচরা দোকানিরা বলছেন, বেশি দামে কেনা তাই বিক্রিও করতে হয় বেশি দামে।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় খোলা চিনি ৯০ টাকা এবং প্যাকেটজাতের দাম ৯৫ টাকায় বিক্রির জন্য দাম নির্ধারণ করে দেয়। তবে বাস্তবে কার্যকর হয়নি। বরং এখন উল্টো দাম বাড়ছে।
এর আগে গত ২২ সেপ্টেম্বর খোলা চিনির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৪ টাকা আর প্যাকেটজাত ৮৯ টাকা। নির্ধারিত দামে চিনি সরবরাহ না দেওয়ায় দাম বাড়াতে বাধ্য হয় সরকার। কিন্তু সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে চিনি।
দাম বৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাজার দর মনিটরিং প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর কর্মকর্তারা। টিসিবির তথ্যমতে, এক সপ্তাহ আগে চিনির কেজি ছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। এখন সেই চিনি কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকা ১০০ টাকায়।
দাম বৃদ্ধির বিষয়ে টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন বলেছেন, টিসিবির চিনির দাম বাড়েনি। তবে বাজারে চিনির দাম বেড়েছে। কেন দাম বাড়লো তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলাদা যে বিভাগ রয়েছে, তারা বলতে পারবে।
এদিকে, রাজধানীর বেশির ভাগ দোকোনে খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকা কেজিতে। এক সপ্তাহ কিংবা তিনদিন আগের কেনা চিনি কিছু কিছু দোকানে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১০৫ টাকা কেজিতে। তবে এ সময় বাজার ও দোকানগুলোতে প্যাকেটজাত চিনির দেখাই মেলেনি। এই দোকানগুলোতে এক সপ্তাহ আগেও চিনি বিক্রি হয়েছে ৯০-৯৫ টাকা কেজিতে। আর প্যাকেটজাত চিনি ছিল ৯৫ টাকা কেজি।









