বিনামূলে পাওয়া ধানের বীজ রোপন করে সর্বস্বান্ত হয়েছেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অর্ধশতাধিক কৃষক। ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী এনজিও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র থেকে কৃষকদেরকে এ বীজ প্রদান করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এনজিওটির কাছে ধর্ণা দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছে না।
জানা যায়, উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি গ্রামের চরাঞ্চলের ৬১ জন দরিদ্র কৃষকের মাঝে আমন মৌসুমে রোপণের জন্য বিঘাপ্রতি ১ কেজি ধানের বীজ ও প্রয়োজনীয় সার বিনামূল্যে প্রদান করে গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ, গ্রাম বিকাশ কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় নিন্ম মানের বীজের কারণে বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২০ থেকে ৩০ কেজি ধান। এতে ধানের উৎপাদন খরচও উঠছে না বলে জানান কৃষকরা।
এ বিষয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের গ্রাম বিকাশ কার্যালয়ে ভুক্তভোগী কৃষকরা অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না। আগামী দিন কিভাবে চলবে এ চিন্তায় কিংকর্তব্যবিমূঢ় চরাঞ্চলের হতদরিদ্র কৃষকরা। পূর্ব খড়িবাড়ি গ্রামের রাবেয়া বলেন, গ্রাম বিকাশ থেকে বিনামূল্যে দেওয়া হাইব্রিড ব্রি-৫২ জাতের ধানের বীজ একবিঘা জমিতে চাষ করেছিলেন আমার স্বামী। কিন্তু, ধানের ফলন হয়েছে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ একমণ। ধারদেনা করে চাষাবাদ করেছি, বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এক হাজার টাকা সারের দোকানে বাকি আছে। ধান হয়েছে মাত্র ৩০ কেজি। এখন আমরা খাব কি আর ধারদেনা ও দোকানের বাকি পরিশোধ করবো এ নিয়ে চিন্তায় আছি।
একই এলাকার আব্দুল আজিজ বলেন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র বলেছিলো প্রতিবিঘায় ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান হবে। তাদের প্রলোভনে বীজ রোপণ করেছি। ধান হয়েছে বিঘায় ১০ থেকে ১৫ কেজি। অথচ গতবার এ জমিতে ধান হয়ছিলো ১৮ মণ।
বিনামূল্যে বীজ পাওয়া আসমার স্বামী আইজুল বলেন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের বীজে রোগবালাই বেশি। বিভিন্ন ধরণের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো লাভ হয়নি। এ বিষয়ে গ্রাম বিকাশের লোকজনকে বারবার জানালেও তাঁরা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
কৃষক আবুল কাশেম বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছে অভিযোগ করেছি। গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র আমাদের পাত্তাই দিচ্ছে না। ক্ষতিপূরণ না দিলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে।
এ বিষয়ে টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক দুরুল হুদা বলেন, তিস্তা নদীর এ পাড়ে (৬ ও ৯ নং ওয়ার্ড) ৩২ জনকে ধানের বীজ ও সার দিয়েছিলাম তাদেও ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু নদীর ওই পাড়ে (পূর্ব খড়িবাড়ি ) যে ৬১ জন কৃষককে ধানের বীজ দিয়েছি তাদের ফলন ভালো হয়নি। আমরা কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করছি। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কোনো আশ্বাস এখনও পাইনি।
নিম্নমানের বীজ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা পিকেএসএফ এর অর্থায়নে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ বিতরণ করেছি। পিকেএসএফ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ব্রী-৫২ জাতের বীজ ডিলারের কাছ থেকে সংগ্রহ করে কৃষকদের দিয়েছি। গ্রাম বিকাশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার আব্দুস সালাম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করেছি।
টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, গ্রাম বিকাশ কর্তৃপক্ষ আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরুপন করে সহায়তা প্রদানের জন্য তাদেরকে বলেছি।
ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সেকেন্দার আলী বলেন, ঘটনাটি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি নিয়ে গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো।
আনন্দবাজার/এম.আর









