- ধ্বংস হচ্ছে উপকূলীয় বনাঞ্চল, বাড়ছে পরিবেশ দূষণ
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় যত্রতত্র বৈধ ও অবৈধ করাতকল বসানো হয়েছে। এসব করাতকলে বনের ম্যানগ্রোভ-ননম্যানগ্রোভসহ অপরিপক্ক গাছপালা চেরাই চলে সমানতালে। এতে উপকূলের সংরক্ষিত-অসংরক্ষিত বনাঞ্চল ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। বনবিভাগ এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের উদাসীনতায় সাগরপাড়ের জনপদ কলাপাড়ায় কাগজপত্রবিহীন করাতকলের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এখানে নেই কোনো নিয়ম কানুনের বালাই।
বনবিভাগের দেয়া তথ্যমতে উপজেলায় মোট ৭৭টি করাতকল রয়েছে। যার মধ্যে ৪৫টির কোনো বৈধতা নেই। সবচেয়ে বেহালদশা মহিপুর রেঞ্জের। এখানে ৪১টি করাতকলের ৩৭টি অবৈধ। তারপরও বনবিভাগের নাকের ডগায় পর্যন্ত এসব অবৈধ করাতকল চলমান রয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের আশপাশে পর্যন্ত রয়েছে করাতকল। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে নিয়ম নীতি সব এখানে অনুপস্থিত। এমনকি স্থানীয় লোকজনের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবৈধ করাতকল বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য উপকূলীয় বনবিভাগ পটুয়াখালীর বন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন এপ্রিল মাসের ৫ তারিখে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তাদের লিখিত নির্দেশনা দিলেও এসব অবৈধ করাতকল আজও বন্ধ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, মহিপুর রেঞ্জের অধীন খাজুরা, কুয়াকাটা, গঙ্গামতি এবং ধুলাসার এলাকার সংরক্ষিত এবং সামাজিক বনায়নের আশপাশেই এসব করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। এক শ্রেণীর প্রভাবশালীমহল নিজের খেয়াল-খুশিমতো বেড়িবাঁধের বাইরে, নদীর তীরে পর্যন্ত করাতকল স্থাপন করেছে। মহিপুর, লতাচাপলী, ধুলাসার, মিঠাগঞ্জ, লালুয়া, বালিয়াতলীতে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। কুয়াকাটাগামী মহাসড়ক ও বিকল্প সড়কের পাশেও জনবহুল এলাকায়- এমনকি আবাসিক এলাকায়ও বসানো হয়েছে করাতকল। সবচেয়ে বাজে অবস্থা মহিপুর রেঞ্জের ৪১টি করাতকলের মাত্র ৪টির কাগজপত্র বৈধ রয়েছে। বাকিসব অবৈধভাবে চলছে। কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা করছেন না কেউ। লালুয়ার বানাতিবাজারে অবৈধ করাতকল বন্ধের লক্ষ্যে সেখানকার মানুষ লিখিত অভিযোগ পর্যন্ত করেছেন। এসব করাতকলে দিনে-রাতে অপরিপক্ক গাছ চেরাই হয় হারহামেশা। এছাড়া সংরক্ষিত বনের গাছ চেরাই হয় রাতের বেলা। এজন্য রয়েছে একটি সিন্ডিকেট।
কুয়াকাটার একাধিক পরিবেশ কর্মী জানান, এখানে করাতকল বসানো হচ্ছে খেয়ালখুশি মতো। বনবিভাগ উদাসীন। এ কারণে সংরক্ষিত বনাঞ্চল চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। খাপড়াভাঙ্গা নদী তীর দখল করে পর্যন্ত করাতকল বসানো হয়েছে।
এ বিষয়ে মহীপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন।
উপজেলা বন ও পরিবেশ কমিটির সভাপতি ও কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহি অফিসার আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহীদুল হক জানান, প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। বৈধতা থাকতে হবে করাতকল চালাতে। নিয়ম-নীতির বাইরে কেউ করাতকল চালাতে পারবে না।









